ফাইভারে কাজ পাওয়ার উপায়, ফাইভার কি, ফাইভার ক্যারিয়ার গাইডলাইন

ফাইভারে কাজ পাওয়ার উপায়

বর্তমান বিশ্বে ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য সবচাইতে জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেস ফাইভার। এখানে প্রতিদিন বহু বায়ার তাদের কাঙ্খিত কাজ ফ্রিল্যান্সারদের দ্বারা অর্থের বিনিময় করিয়ে নিচ্ছে। ফ্রিল্যান্সিং করে ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে ফাইবারে কাজ করার বিকল্প নেই। এর মাধ্যমে একটি সুন্দর ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার গড়ে তোলা সম্ভব। নতুনদের জন্য কাজ পাওয়ার সবচাইতে উপযুক্ত মার্কেটপ্লেস ফাইভার। এখানে ফ্রিল্যান্সার এবং বায়ারদের দরকারি সকল সুবিধা রয়েছে। দক্ষতা অনুযায়ী কাজ করে অর্থ উপার্জন করার সবচাইতে কার্যকর মাধ্যম ফাইভার। এই আর্টিকেল ফাইভার কি, কিভাবে ফাইভারে কাজ পাওয়ার উপায় সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো

ফাইভার কী

বিশ্বব্যাপী সবচাইতে বড় ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস ফাইবার। ফাইবারে সদর দপ্তর ইসরাইলে। বিশ্বব্যাপী ১৬০ টিরও বেশি দেশের মানুষ ফাইভার ব্যবহার করে। বর্তমানে ফাইভারের সক্রিয় বায়ার ২৭ লক্ষ (২.৬৭৬ মিলিয়ন) এবং সেলার ৩০ লক্ষেরও বেশি (৩ মিলিয়ন+)। একটি সুন্দর ক্যারিয়ার গড়ার জন্য প্রতিনিয়ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মানুষ ফাইবারে কাজ করছে। পুরাতন ফ্রিল্যান্সারদের পাশাপাশি নতুনদের জন্য কাজের অবাধ সুযোগ রয়েছে ফাইভারে। ফাইভারে সব ধরনের কাজ রয়েছে। তাই আপনি আপনার দক্ষতা অনুযায়ী খুব সহজেই ফাইভারে কাজ পেতে পারেন। আপনার মেধা দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্যে ফাইবারের বিকল্প আর কিছু নেই।

ফাইভারে কাজের নিয়ম

ফাইভার একটি আন্তর্জাতিক কোম্পানি। ফলে এখানে বিশ্বব্যাপী বহু মানুষ তাদের কাজ করিয়ে নিচ্ছে ফ্রিল্যান্সারদের দ্বারা। ফাইবারের মূলত দুই ধরনের অ্যাকাউন্ট খোলা যায়। সেলার একাউন্ট আর বায়ার একাউন্ট। ফাইভারে যারা ফ্রিল্যান্সারদের দ্বারা কাজ করিয়ে নেয় তারা বায়ার অ্যাকাউন্ট খুলে। আর যারা কাজ করে থাকে তারা সেলার একাউন্ট খুলে থাকে। সাধারণত ফাইবারে একাউন্ট খোলার সময় তারা আমাদেরকে বায়ার অথবা সেলার যেকোনো একটি নির্বাচন করতে বলে। আমরা বায়ার একাউন্ট নির্বাচন করলে আমাদের প্রোফাইলটা সেলার একাউন্ট থেকে ভিন্ন আবার সেলার একাউন্ট সিলেক্ট করলে বায়ার একাউন্ট থেকে সেটা ভিন্ন। দুইটা আলাদা অ্যাকাউন্টের অ্যালগরি দাম আলাদা ভাবে সেট করা থাকে।

সেলার একাউন্ট খুললে সেখানে গীগ তৈরি করার মাধ্যমে কাজ পেতে হয়। যে বিষয়ে কাজ করতে হবে সেই বিষয়ের উপর গীগ তৈরি করে বিস্তারিত সেখানে বলতে হবে। এছাড়াও কাজের প্রাইসও সেখানে নির্ধারণ করে দিতে হবে। বায়ার গীগ দেখে অনুপ্রাণিত হলে আপনাকে মেসেজ দিবে। এখানেই বিস্তারিত সব কথা বলে চুক্তি করে নিতে হবে। কতদিনের মধ্যে কাজ শেষ করবেন। কত টাকা নির্ধারণ করবেন এখানে সবকিছু বলে নিতে হবে।

ফাইভারে যে ভুলগুলো করা যাবে না

যদি আপনি ফাইভারের ইনবক্সে কথা না বলে অন্য কোন মাধ্যমে তার সাথে কথা বলতে চান তাহলে আপনার অ্যাকাউন্ট ব্যান হয়ে যেতে পারে। তাই সর্বদা ফাইভারের ইনবক্সে কথা বলার চেষ্টা করবে। অর্ডার ডেলিভারি দেওয়ার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপনাকে ডেলিভারি দিতে হবে অন্যথায় আপনার গীগ রেংক হারাতে পারে। আপনার অর্ডার কমপ্লিট রেটও কমে যেতে পারে। তাই সবসময়ই নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই অর্ডার জমা দেওয়ার চেষ্টা করবে চেষ্টা করবে।

 

ফাইভারের পেমেন্ট সিস্টেম

ফাইবারে পেমেন্ট সিস্টেম দুই ধরনের। বায়ার পেমেন্ট সিস্টেম আর সেলার পেমেন্ট সিস্টেম। বায়াররা তাদের ক্রেডিট কার্ড ভিসা পেপল বা অন্যান্য পেমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে ফাইবারে পেমেন্ট করে থাকে। সেলার পেমেন্ট সিস্টেম আলাদা। ফাইভার প্রতিটি অর্ডারের মোট মূল্য থেকে ২০% সার্ভিস চার্জ কেটে নেয়। কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার ১৪ দিন পরে সাধারণ সেলারের একাউন্টে পেমেন্ট যোগ হয়। আর লেভেল-২, টপ রেটেড বা প্রো সেলারদের জন্য সময় লাগে ৭ দিন। বাংলাদেশ থেকে উইথড্র দেওয়ার সব থেকে সহজ অব বৈধ মাধ্যম হলো পেওনিয়ার কার্ড বা ডিরেক্ট ব্যাংক ট্রান্সফার। বাংলাদেশে পেপল সার্ভিস চালু না থাকায় পেপলের মাধ্যমে করা যায় না। পেপলে সর্বনিম্ন ১০ ডলার উইথড্রো করা যায়। অন্যদিকে পেওনিয়ার কার্ড বা ডিরেক্ট ব্যাংক ট্রান্সফারে ২০ ডলার।

 

ফাইভারে কাজ পাওয়ার উপায়

ফাইবারে কাজ পাওয়ার আগে আপনাকে সর্বপ্রথম যে কাজটি করতে হবে সেটি হল কাজ শেখা। একটি কাজ সম্পূর্ণভাবে শিখে তারপরে ফাইবারে অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। ফাইবারে যেকোনো ধরনের কাজ করতে পারবেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ওয়েব ডিজাইন, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, গ্রাফিক্স ডিজাইন, SEO গুগোল সার্চ কনসোল, গুগল এডসেন্স, গুগল এনালাইটেক, ডাটা এন্ট্রি, ওয়ার্ডপ্রেস, এক্সেল, ভিডিও এডিটিং, কনটেন রাইটিং, ব্লগিং, ডাটাবেজ ম্যানেজমেন্ট। আপনি যেকোনো ধরনের কাজ জানলে ফাইবারে কাজ পাওয়া অনেক অংশেই সহজ হবে। তাই আপনাকে যেকোনো একটি কাজ সম্পূর্ণরূপে শিখতে হবে যেন প্রথম কাজ পেলে সেই কাজটি দক্ষতার সাথে করতে পারেন।

 

প্রোফাইল কমপ্লিট করতে হবে

পাওয়ার জন্য সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রথম কাজটি হল প্রোফাইল কমপ্লিট করা। আপনাকে ১০০% প্রফাইল কমপ্লিট করতে হবে। তাহলে কাজ পাওয়া অনেক সহজ হবে। একটি সুন্দর স্পষ্ট ছবি প্রোফাইলে দিতে হবে। তার নিচে ডিসক্রিপশনে আপনি কি কি কাজ পারেন সেটার বর্ণনা দিতে হবে। আপনার সকল যোগ্যতা ৬০০ ওয়ার্ডের মধ্যে আকর্ষণীয় করে লিখতে হবে। তারপর আপনার পেশা বা স্কিল দিতে হবে অর্থাৎ আপনি কি কি কাজ পারেন যেমন যেমন- Graphic Design, Digital Marketing, Web Development তা সিলেক্ট করুন। প্রোফাইলকে আরও গ্রহণযোগ্য করতে LinkedIn বা অন্যান্য প্রফেশনাল সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট যোগ করতে পারেন। আপনার কাজের পোর্টফোলিও বা কাজের অভিজ্ঞতা হিসেবে আগে কোন কাজ করলে তার স্ক্রিনশট পোর্টফোলিও হিসেবে দিন। ১০০% প্রোফাইল তৈরি হওয়ার পরে গিগ দিতে হবে।

 

গিগ তৈরি

ফাইভারে কাজ পাবার উপায় হলো গিগ। অর্থাৎ গিগের মাধ্যমে ফাইভারে কাজ পেতে হয়। গিগ দেখে বায়ার আকর্ষীত হয়ে আপনাকে মেসেজ দেবে। তাহলে সেই ভাবে গিগ তৈরি করতে হবে যাতে বায়ার আকর্ষীত হয়। ফাইভারে সুন্দর করে গীগ তৈরি করতে পারলে মার্কেটিং এর প্রয়োজন হয় না। গিগ টাইটেল অবশ্যই আকর্ষণীয় ও সাবলীল ভাষায় তৈরি করতে হবে। গিগের যে কয়টি ধাপ রয়েছে সেই ধাপগুলো সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে।

গিগের থাম্বেল অবশ্যই আকর্ষণীয় হতে হবে। থাম্বেলে ভিডিও রাখলে ইম্প্রেশন ও ক্লিক বাড়তে। পারে ফলে কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। প্রাইস এর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বেশি দাম রাখা যাবে না, আবার একবারে কম দাম রাখা যাবে না। অতিরিক্ত বেশি দাম চাইলে বায়ার সেটিতে আগ্রহ বোধ করবেনা। আবার কম দাম রাখেলে সার্ভিস খারাপ হবে ভেবে অর্ডার করতে চাইবে না। তাই মাঝামাঝি দাম দিতে হবে। গিগ তৈরীর জন্য নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করলে কাজ পাওয়া সম্ভব না বেড়ে যাবে

  • আকর্ষণীয় টাইটেল ব্যবহার করতে হবে।
  • একটি সুন্দর থাম্বেল ব্যবহার করতে হবে।
  •  ডিসক্রিপশন অতিরিক্ত বড় করে লেখা যাবে না। ছোট ছোট প্যারায় বিভক্ত করে লিখতে হবে
  • বুলেটিন পয়েন্ট দিয়ে লিখতে হবে
  • লেখায় গ্রামার ভুল করা যাবে না
  • একটি সুন্দর ও আকর্ষণীয় ছবি ব্যবহার করতে হবে
  • গিগে ভিডিও ব্যবহার করলে কাজ পাওয়া সম্ভব না অনেক বেড়ে যায় তাই ভিডিও যোগ করবেন

এই নিয়মগুলো অনুসরণ করে গীত তৈরি করলে কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক অংশেই বেড়ে যায় সুন্দর করে একটি কিক তৈরি করতে পারলে মার্কেটিং ছাড়াই কাজ পাওয়া যায়।

 

গিগ মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে কাজ পাওয়া 

ফাইভারে কাজ পাওয়ার জন্য গিগগুলোকে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে শো করানোকে গিগ মার্কেটিং বলা হয়। এক্ষেত্রে Linkdin বা অন্য যেকোনো সোশ্যাল প্লাটফর্মে গিগ প্রমোট করা হয় পেমেন্টের মাধ্যমে। ক্ষেত্রে কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। আকর্ষণীয় ভাবে গিগ তৈরি করতে পারলে মার্কেটিংয়ের প্রয়োজন হয় না।

পরিশেষে

মেধা দক্ষতা স্কিল আর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে একটি সুন্দর স্মার্ট ক্যারিয়ার গড়ার জন্য ফাইবারের বিকল্প নেই। ফাইবারে একটি দীর্ঘস্থায়ী ক্যারিয়ার গড়া সম্ভব।এজন্য আপনাকে দক্ষতা অর্জন করতে হবে। স্কিলকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে ফাইবারে কাজের অভাব হয় না। নতুনদের জন্য কাজ পেতে ফাইবারে সমস্যা হয় না। একটি সুন্দর ও স্মার্ট ক্যারিয়ার গড়তে এখনই দক্ষতা অর্জন করুন।

 

FAQ

১. ফাইভারে নতুনদের কাজ পাওয়ার সহজ উপায় কী?
উত্তর: নির্দিষ্ট একটি কাজে দক্ষতা অর্জন, আকর্ষণীয় গিগ তৈরি এবং ভালো পোর্টফোলিও প্রদর্শনের মাধ্যমে নতুনরা ফাইভারে কাজ পেতে পারেন।

২. ফাইভারে গিগ র‍্যাঙ্ক করার জন্য কী করতে হবে?
উত্তর: সঠিক কীওয়ার্ড, মানসম্মত গিগের ছবি, বিস্তারিত বিবরণ এবং প্রতিযোগিতামূলক মূল্য ব্যবহার করতে হবে।

৩. ফাইভারে পোর্টফোলিও ছাড়া কি কাজ পাওয়া সম্ভব?
উত্তর: পোর্টফোলিও ছাড়াও কাজ পাওয়া সম্ভব, তবে নিজের তৈরি নমুনা কাজ দেখালে ক্লায়েন্টের আস্থা অর্জন সহজ হয়।

৪. ফাইভারে প্রথম অর্ডার পেতে কত দিন সময় লাগে?উত্তর: ফাইভারে প্রথম অর্ডার পেতে কয়েক দিন থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে, যা দক্ষতা, গিগের মান ও প্রতিযোগিতার ওপর নির্ভর করে।

৫. ফাইভারে ক্লায়েন্ট আকৃষ্ট করার কার্যকর উপায় কী?
উত্তর: ক্লায়েন্টের চাহিদা অনুযায়ী সেবা প্রদান, স্পষ্ট যোগাযোগ, মানসম্মত কাজ এবং সময়মতো ডেলিভারির মাধ্যমে ক্লায়েন্ট আকৃষ্ট করা যায়।

 

আরো পড়ুন

Oliur Rahman Sohag
Oliur Rahman Sohag

Md Oliur Rahman Sohag বাংলা সাহিত্য, বাংলা ব্যাকরণ, কবি-সাহিত্যিক জীবনী এবং শিক্ষামূলক বিষয় নিয়ে লেখালেখি করেন। তিনি Study Journal X-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান কনটেন্ট লেখক।

Articles: 120