Skip to main content

Study Journalx

বাংলা সাহিত্যের একটি বড় স্থান জুড়ে আছে নাট্যসাহিত্যে। বাংলা সাহিত্যে যে কয়জন উল্লেখযোগ্য নাট্যকার রয়েছে, সেলিম আল দীন তাদের মধ্যে অন্যতম। বাংলা নাটকের আঙ্গিকে তিনি নতুন মাত্রা যোগ করেন। পাশ্চাত্যরীতি উপেক্ষা করে তিনি বাংলা নাটকের মূল অনুসন্ধান করে একটি জাতীয় নাট্য আঙ্গিক নির্মাণ করেছেন, যাকে তিনি কথানাট্য হিসেবে অভিহিত করেছেন। সেরকমই একটি কথানাট্য ‘চাকা’। ‘চাকা’ একটি অন্যতম বিখ্যাত নাটক। চাকাকে তিনি নাটকে রূপক অর্থে বুঝিয়েছেন যে চাকার মাধ্যমে সভ্যতার সূচনা হয়েছিল, সেই চাকাকে ব্যবহার করা হয়েছে একটি লাশ বহন করার জন্য। চাকা নাটকের বিষয়বস্তু আলোচনা করা হলো:

১. ১৯৯০-এর দশকের রাজনীতি

২. বাঙালির গ্রামীণ সংস্কৃতি

৩. ধর্ম ও নৃতাত্ত্বিকতা

৪. অভেদাত্মক জীবনবিশ্বাস

৫. দ্বৈতাদ্বৈতবাদ

 

চাকা নাটকের বিষয়বস্তু

চাকা নাটকের বিষয়বস্তু

চাকা নাটকের পটভূমিতে রয়েছে ১৯৯০ দশকের রাজনীতির সক্রিয় প্রভাব। ১৯৮৭ সালে যখন স্বৈরাচার পতনের আন্দোলন শুরু হয়, তখন সমগ্র ঢাকা শহরে এই আন্দোলন তীব্র রূপ ধারণ করে। হাজার হাজার মানুষ আন্দোলনে যোগ দিয়ে স্বৈরাচারীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু করে। সরকারও কঠোরভাবে এই আন্দোলন দমন করতে থাকে। ১০ই নভেম্বর পুলিশের গুলিতে নূর হোসেন নামে এক ব্যক্তি মারা যায়। এছাড়াও এই আন্দোলনে বহু ছাত্র-জনতা প্রাণ হারায়। নিহত এইসব মানুষের নাম-ঠিকানা ছিল না। স্বৈরতন্ত্রের যাঁতাকলে পিষে তারা নিহত হয়েছিল। তাদের লাশ অনেক সময় স্বজনদের নিকট পৌঁছাতে না বা তাদের পরিচয় গোপন রাখা হতো। চাকা নাটকের এই লাশটিও সেই রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত কোনো এক অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ।

রাজনৈতিক ক্ষমতার দ্বন্দ্বে বলি হতে হয়েছে সাধারণ মানুষকে। জীবন দিতে হয়েছে বহু নিরপরাধ মানুষকে। চাকা নাটকেও ঠিক এই ঘটনার প্রতিফলন ঘটেছে। এখানে এলংজানি গঞ্জের হাসপাতালে এক অজ্ঞাতনামা যুবকের লাশ পড়ে ছিল, যে আন্দোলনে নিহত হয়েছিল। হাসপাতালের ডাক্তার লাশটিকে তার বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার জন্য একটি গরুর গাড়ি ভাড়া করে। বাহের গাড়োয়ানকে চকচকে ৫০ টাকা ভাড়া দিয়ে লাশটি তার গাড়িতে তুলে দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে বলে। লাশের সাথে যে ঠিকানা দেয়া হয়েছিল, সেটি ছিল ভুল। ঠিকানা ভুল থাকার কারণে বাহের গাড়োয়ান লাশটি আসল ঠিকানা খুঁজে পায়নি। বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে ঘুরে অবশেষে বাহের গাড়োয়ান ও তার সঙ্গীরা লাশটিকে কবর দেয়।

এখানে রাষ্ট্রব্যবস্থার চরম নির্মমতার পরিচয় পাওয়া যায়। যেখানে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একটি মানুষকে হত্যা করে তাকে এক প্রকার গুম করা হয়েছে, যেন তার পরিবার লাশটির শেষ কার্যটুকু সম্পাদন করতে না পারে। ক্ষমতার লোভ মানুষের মানবিক দৃষ্টিকে অন্ধ করে দিয়েছে। তারই প্রতিফলন ঘটেছে চাকা নাটকে। বাহের গাড়োয়ানের মাধ্যমে রাষ্ট্র ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বের বিরুদ্ধে মানবিক মূল্যবোধের জয়গান গাওয়া হয়েছে।

সেলিম আল দীনের গবেষণার বিষয় ছিল মধ্যযুগের বাংলা নাট্যসাহিত্য। ফলে তার নাটকে উঠে এসেছে মাটির কাছাকাছি প্রান্তিক মানুষের জীবনচিত্র। এছাড়াও তার শৈশব কেটেছিল উপকূলীয় অঞ্চলে, ফলে নিম্নশ্রেণীর মানুষদের অনেক কাছ থেকে দেখেছেন। তিনি সর্বদা শিকড়ের সন্ধান করেছেন। আবহমান প্রাচীন বাংলার সমৃদ্ধ সংস্কৃতি তিনি নাটকে তুলে ধরেছেন। পিছিয়ে পড়া অন্ত্যজ শ্রেণীর মানুষের জীবনকথা তার নাটকের মূল বিষয় হয়েছে বারংবার। তারই প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে চাকা নাটকে।

আন্দোলনে নিহত এক বেওয়ারিশ লাশকে তার গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার করুণ কাহিনী নিয়ে চাকা নাটকটি রচিত হয়েছে। হাসপাতালের ডাক্তার গাড়োয়ানকে ৫০ টাকা হাতে দিয়ে তার গরুর গাড়িতে লাশটি তুলিয়ে দেয় এবং সাথে অস্পষ্ট ভাষায় লেখা ঠিকানা দিয়ে দেয় গাড়োয়ানের হাতে। গাড়ির চাকা অনবরত চলতে থাকে, কিন্তু যুবকের গন্তব্য আসে না। গরুর গাড়ির মাধ্যমে নাট্যকার আবহমান বাংলার আদি ও অকৃত্রিম যানবাহনকে বুঝিয়েছেন। প্রাচীন কাল থেকেই গরুর গাড়ি বাংলার মানুষের নিত্যদিনের সাথী। পরিবহনের জন্য তখন আধুনিক কোনো যানবাহন ছিল না। গরুর গাড়ি ছিল তখনকার একমাত্র পরিবহনের উপায়। গাড়োয়ানদের জীবনসংগ্রাম, চাকার ক্যাঁচক্যাঁচ শব্দ এবং পথ চলার ধীরগতি গ্রামীণ জীবনেরই প্রতিচ্ছবি।

সেলিম আল দীন এই নাটকে ব্যবহার করেছেন আঞ্চলিক ভাষার শব্দমালা। সাধারণ মানুষের মুখের ভাষা, আদরের ডাক, গালি, গাড়োয়ানের গরুকে হাঁকানোর ডাক নাটকটিকে মাটির কাছাকাছি নিয়ে গেছে। এই নাটকে ব্যবহৃত হয়েছে ধুলিমাখা কাঁচা রাস্তা, বাঁশঝাড়, নদী-নালা, ধানক্ষেত ইত্যাদি, যা গ্রামীণ ও লোকসংস্কৃতির প্রতীক। মৃতদেহের খবর শুনে গ্রামের মানুষ জড়ো হয়, চায়ের দোকান থেকে দলে দলে লোক আসে, হাপড় চালানো কামার তার হাপড় রেখে ছুটে আসে লাশটিকে দেখতে। এই নাটকে হাপড়, কামার, কুমোর, কৃষিজীবী, শ্রমজীবী মানুষের মিশ্রণ ঘটেছে, যা গ্রামীণ ও লোকসংস্কৃতির অনবদ্য পরিচয়।

সেলিম আল দীন চাকা নাটকে কেবল গ্রামীণ জীবনকে উপর থেকে দেখেননি, তিনি এর গভীরে প্রবেশ করে লোকসংস্কৃতি, মানবতা, দুঃখ-কষ্ট ও লোকজ দর্শনকে তুলে ধরেছেন। ফলে নাটকটি দেখে আধুনিক মনে হলেও এর মূলে রয়েছে আবহমান বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি।

 

চাকা নাটকে এক গভীর জীবনদর্শন ফুটে উঠেছে, যেখানে একদিকে লাশ ও মৃত্যুর করুণ সুর, অন্যদিকে তার সাথেই সমান্তরালে চলেছে জীবনের অনবদ্য প্রবাহ। একদিকে পচে গলে যাওয়া বেওয়ারিশ লাশ, অন্যদিকে সেই লাশের পাশে বসে গাড়োয়ানের স্বাভাবিক জীবনপ্রবাহ চলছে। কখনো তামাক খায়, গরু হাঁকায়, ক্ষুধা পেলে গুড়-মুড়ি খায়। মৃত্যুকে ঘিরে গভীর শোক থাকলেও জীবনের স্বাভাবিক প্রবাহ থেমে যায়নি। এখানে দেখা যায়, মৃত্যু জীবনকে পরাজিত করতে পারেনি, আর এটাই জীবনের অভেদাত্মক রূপ।

অনবরত চাকা ঘুরতে ঘুরতে গ্রামের পর গ্রাম, মাঠ, কাঁচা রাস্তা, বাঁশঝাড় পেরিয়ে গাড়ি চলতে থাকে। একের পর এক গ্রাম লাশটিকে অস্বীকার করে, কিন্তু তাদের এই পথ চলা থেমে থাকেনি। গাড়োয়ান ও তার সঙ্গীরা না চাইলেও লাশটির দায়িত্ব তাদের কাঁধে এসে পড়ে। ক্লান্ত-শ্রান্ত, দুর্গন্ধ ও অনিশ্চয়তায় ভরা জীবন নিয়ে তারা এগিয়ে চলে। তারা শুধু চকচকে ৫০ টাকার বিনিময়ে নয়, মানবিক মূল্যবোধ থেকে লাশটিকে গন্তব্যে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ক্ষুধা পেলে গাড়োয়ান লাশটিকে পাশে রেখে ভাত রেঁধে খায়। এখানে তাদের মনে হয়েছে।

“জীবন মানে ধোয়া ওঠা এক প্লেট গরম ভাত।” (চাকা, সেলিম আল দীন)

 

তাই তো লাশটিকে পাশে রেখে তাদের জীবনের স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে থাকে। লাশের পচা রক্ত গাড়োয়ানের হাতে লেগেছিল, কিন্তু ধোয়ার জন্য পানি পায়নি। এজন্য গাড়োয়ান বালিতে হাত মুছে ভাত খায়। ভাত না খেলে গাড়োয়ান লাশটিকে তার গন্তব্যে পৌঁছে দিতে পারবে না। সেলিম আল দীন এই নাটকে দেখিয়েছেন, মৃত্যু অনিবার্য ও বিভীষিকাময়, কিন্তু জীবনের জয়গান মৃত্যুর থেকেও শক্তিশালী। আর এটিই হলো চাকা নাটকের অভেদাত্মক জীবনবিশ্বাস।

চাকা শুধু একটি কাহিনী বা গল্প নয়, এটি আবহমান বাংলার ধর্ম ও নৃতাত্ত্বিকতার দলিল। নাটকে রয়েছে যেমন ধর্মীয় অনুশাসন, তেমনি রয়েছে নৃতাত্ত্বিকতার পরিচয়। গ্রামের মানুষদের কাছে লাশের ধর্মীয় পরিচয় বড় হয়ে ওঠে। তাই তারা ধর্মীয় পরিচয় না জেনে সৎকার করতে চায় না। লাশটি নিয়ে গ্রামের পর গ্রাম ঘুরতে থাকে বাহের গাড়োয়ান। এখানে জীবিত মানুষের চেয়ে মৃত মানুষের ধর্মীয় পরিচয়টা বড় হয়ে ওঠে। বাহের গাড়োয়ান প্রথমে টাকার বিনিময়েও লাশটি বহন করতে চায়নি, অথচ সেই বাহের গাড়োয়ান মানবিক মূল্যবোধের জায়গা থেকে লাশটিকে তার গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়াকে নিজের ধর্ম মনে করেছিল। প্রথাগত ধর্মের চেয়ে তার কাছে বড় হয়ে উঠেছিল মানবধর্ম। তাই তো লাশটির গন্তব্য খুঁজে না পেয়ে নিজের হাতেই কবর দিয়েছিল।

লাশকে দেখে পথের সবাই ভয় ও ঝামেলার বস্তু হিসেবে মনে করেছিল। কিন্তু এক সাঁওতাল যুবক লাশটিকে দেখে ধরমরাজ বলে আখ্যা দিয়েছিল। তার চোখে এই রক্তহীন, শুকিয়ে যাওয়া ফ্যাকাশে লাশটিকে পবিত্র মনে হয়েছিল। লাশটি শুকিয়ে পোড়া মাটির মতো রং ধারণ করেছিল। তাই সাঁওতাল যুবক লাশটিকে পোড়ামাটির ধরমরাজ আখ্যা দিয়েছিল। সাঁওতাল ধর্মমতে ধরমরাজ হলেন ন্যায়, সত্য ও সূর্য বা সৃষ্টির প্রতীক। সাঁওতাল যুবকটি ছিল নেশাগ্রস্ত। সে হাড়িয়া নামক এক ধরনের মদ খেয়েছিল। সাধারণ মানুষ যেখানে লাশটিকে বেওয়ারিশ বলে ফিরিয়ে দিচ্ছিল, সেখানে এক সাঁওতাল যুবক তার নিজের ধর্মমতে লাশটির মধ্যে দেবত্ব খুঁজে পেয়েছিল।

সাঁওতালরা সর্বপ্রাণবাদে বিশ্বাসী। তারা মনে করেন, প্রকৃতির প্রতিটি জিনিসের প্রাণ রয়েছে। সাঁওতাল যুবকও এই লাশের মধ্যে ঈশ্বরের উপস্থিতি খুঁজে পেয়েছিল। সেলিম আল দীন এখানে দেখিয়েছেন, আধুনিক সমাজ লাশটির ধর্মীয় দোহাই দিয়ে বারবার ফিরিয়ে দিয়েছে, সেখানে এক আদিবাসী যুবক মৃতদেহটিকে সৃষ্টির আদিমতম অনুভূতির সঙ্গে যুক্ত করেছে।

দ্বৈতাদ্বৈতবাদ মূলত একটি দার্শনিক তত্ত্ব, যেখানে অনেকগুলো শিল্পরূপকে একক হিসেবে গড়ে তোলা হয়। বিভিন্ন আঙ্গিক ও রূপকে একত্রিত করে অদ্বৈতভাবে গড়ে তোলা হয়। সেলিম আল দীন মনে করেন, নাটক কোনো একক শিল্প নয়। এর সাথে কথাসাহিত্য, কাব্য, নাটক ও বিভিন্ন মাধ্যম একত্রিত করে একটি শিল্পরূপ তৈরি করা প্রয়োজন। তাই তিনি কোনো শিল্পকে আলাদাভাবে না দেখে কীভাবে এককভাবে একটি নির্দিষ্ট ফর্ম তৈরি করা যায়, তা করতে চেয়েছিলেন। মধ্যযুগ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত বাংলা নাটকের অনেক রূপ তৈরি হয়েছিল। তিনি এই সকল রূপকে একত্রিত করে একটি নির্দিষ্ট কাঠামোতে আনতে চেয়েছিলেন।

বাংলা নাট্যসাহিত্যে দ্বৈতাদ্বৈতবাদী রীতির (Dwaitadwaitavadi Art Form) প্রবর্তক নাট্যাচার্য সেলিম আল দীন। পাশ্চাত্য নাট্যরীতির ত্যাগ করে বাংলা নাটকের প্রাচীন ও নিজস্ব ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবিত করতে তিনি এই তত্ত্ব উদ্ভাবন করেন। পাশ্চাত্য রীতিতে নাটক, মহাকাব্য, গীতিকাব্যের ফর্ম আলাদা, কিন্তু বাংলা রীতিতে এই ফর্মগুলো একই ছিল। তাই তিনি সেই রীতিকে আবার পুনর্জীবিত করতে ‘দ্বৈতাদ্বৈতবাদী তত্ত্বের উদ্ভাবন করেন। চাকা নাটকেও এই দ্বৈতাদ্বৈতবাদী তত্ত্বের প্রতিফলন ঘটেছে।

তাই পরিশেষে বলা যায়, বাংলা সাহিত্যের এক অনবদ্য সৃষ্টি সেলিম আল দীনের ‘চাকা’ নাটক। নাটকটি শুধু একটি লাশকে তার গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার যাত্রা নয়, এক মানবিক মূল্যবোধের গভীর বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে এই নাটকে। এছাড়াও এই নাটকে ১৯৯০ দশকের রাজনীতি, বাঙালির গ্রামীণ সংস্কৃতি, ধর্ম ও নৃতাত্ত্বিকতা, অভেদাত্মক জীবনবিশ্বাস ও দ্বৈতাদ্বৈতবাদী তত্ত্বের মিলন ঘটেছে।

 

 

FAQ

১. ‘চাকা’ নাটকের মূল বিষয় কী?
‘চাকা’ নাটকের মূল বিষয় হলো একটি অজ্ঞাতনামা লাশকে তার গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার মানবিক যাত্রা এবং এর মাধ্যমে মানবিক মূল্যবোধের প্রকাশ।

২. ‘চাকা’ নাটকে ১৯৯০-এর দশকের রাজনীতির কী প্রতিফলন ঘটেছে?
নাটকে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত এক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির লাশের মাধ্যমে ১৯৯০-এর দশকের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সাধারণ মানুষের ওপর এর প্রভাব তুলে ধরা হয়েছে।

৩. ‘চাকা’ নাটকে বাঙালির গ্রামীণ সংস্কৃতির কী পরিচয় পাওয়া যায়?
গরুর গাড়ি, গাড়োয়ান, কাঁচা রাস্তা, বাঁশঝাড়, নদী-নালা, ধানক্ষেত, কামার, কুমোর ও কৃষিজীবী মানুষের জীবনযাত্রার মাধ্যমে বাঙালির গ্রামীণ সংস্কৃতির পরিচয় পাওয়া যায়।

৪. ‘চাকা’ নাটকে অভেদাত্মক জীবনবিশ্বাস বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
মৃত্যুর উপস্থিতির মধ্যেও জীবনের স্বাভাবিক প্রবাহ অব্যাহত থাকার যে দর্শন নাটকে ফুটে উঠেছে, সেটিই অভেদাত্মক জীবনবিশ্বাসের প্রকাশ।

৫. ‘চাকা’ নাটকে দ্বৈতাদ্বৈতবাদী তত্ত্বের প্রতিফলন কীভাবে ঘটেছে?
নাটক, কাব্য, লোকজ ঐতিহ্য, গ্রামীণ সংস্কৃতি ও বিভিন্ন শিল্পরীতির সমন্বয়ের মাধ্যমে ‘চাকা’ নাটকে দ্বৈতাদ্বৈতবাদী তত্ত্বের প্রতিফলন ঘটেছে।

আরো পড়ুন