আইইএলটিএস পরীক্ষার নিয়ম: প্রস্তুতি, যোগ্যতা ও সকল তথ্য একসাথে

স্কলারশিপ নিয়ে বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য যে বিষয়টি সবচাইতে বেশি ভূমিকা রাখে সেটি হচ্ছে আইইএলটিএস। ইন্টারন্যাশনাল যে কোন বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি হতে গেলে অবশ্যই আপনাকে আইইএলটিএস করতে হবে। আইইএলটিএস হলো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইংরেজি দক্ষতা যাচাইয়ের পরীক্ষা। আইইএলটিএস পরীক্ষার মাধ্যমে আপনার ইংরেজি দক্ষতা পরিমাপ করা হয়। শুধু উচ্চশিক্ষার জন্য নয় বিদেশে যে কোন কাজের জন্য আইইএলটিএস বড় ভূমিকা রাখে। আইইএলটিএস করতে কোন বয়স বা শিক্ষকতা যোগ্যতা লাগেনা। যে কেউ করতে পারে। ইংরেজি দক্ষতা বাড়াতে আইইএলটিএস এর বিকল্প নেই। এই আটিকেলে আইইএলটিএস পরীক্ষার নিয়ম, আইইএলটিএস প্রস্তুতি ও সকল তথ্য নিয়ে আলোচনা করা হল।

আইইএলটিএস পরীক্ষার নিয়ম

আইইএলটিএস পরীক্ষার ধরন

দুইটি পদ্ধতিতে আইইএলটিএস পরীক্ষা নেওয়া হয়। উচ্চ শিক্ষার জন্য যারা বিদেশে যায় তাদের জন্য একাডেমিক আর বিদেশে যেকোনো চাকরি বা কাজের জন্য গেলে জেনারেল ট্রেনিং।

 

একাডেমিক

গবেষণা, এমফিল, পিএইচডি ও উচ্চ শিক্ষার উদ্দেশ্যে যারা বিদেশের নামিদামি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে ভর্তি হতে ইচ্ছুক তাদের একাডেমিক মডিউলের ভোট পরীক্ষা নেওয়া হয়। জেনারেল ট্রেনিং থেকে একাডেমিক মডিউ পরীক্ষার ধরন কিছুটা ভিন্ন।

 

জেনারেল ট্রেনিং

বিদেশে অভিবাসন, প্রশিক্ষণ, কারিগরি ট্রেনিং এর জন্য জেনারেল ট্রেনিং পদ্ধতিতে আইইএলটিএস পরীক্ষা নেওয়া হয়। চাকরি, বিদেশে অভিবাসন বা যে কোন কাজের জন্য জেনারেল ট্রেনিং এর মাধ্যমে আইইএলটিএস পরীক্ষা নেওয়া।

 

আইইএলটিএস পরীক্ষার নিয়ম

যে মডিউলে আইইএলটিএস পরীক্ষা দেওয়া হোক না কেন সবাইকে চারটি ধাপে পরীক্ষা দিতে হবে। লিসেনিং, রাইটিং, স্পিকিং ও রিডিং ধাপ সম্পূর্ণ করতে হবে। এই চারটি ধাপে সঠিকভাবে ভালো করতে পারেন উচ্চ স্কোর পাওয়া সম্ভব।

 

লিসেনিং

লিসেনিং ধাপে আপনার ইংরেজি শুনে বোঝার ক্ষমতা যাচাই করা হয়। আপনি কতটা ইংরেজি বুঝতে পারছেন সেটা পরিমাপ করে আপনার স্কোর দেওয়া হয়। এখানে আপনাকে রেকর্ডিং অডিও শোনানো হয়। ৪০ মিনিটে ৩০ টি প্রশ্ন করা হয়। এবং চারটি অ্যাকসেন্ট প্রশ্ন করা হয় ব্রিটিশ, আমেরিকান, ক্যানাডিয়ান ও অস্ট্রেলিয়ান। একটি প্রশ্ন একবারের বেশি করা হয় না। এজন্য আপনাকে একবার এই বুঝতে হবে। আইইএলটিএস এর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ লিসেনিং।

 

রাইটিং

আইইএলটিএস এর জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হল রাইটিং। এই ধাপে আপনার ইংরেজি লেখার যোগ্যতা পরিমাপ করা হয়। এখানে সাধারণত এক ঘন্টায় দুইটি প্রশ্নের উত্তর লিখতে হয়। এ তিন ধাপে দুইটি কাজ দেওয়া হয় প্রথম কাজটি হলো গ্রাফ বা লেখচিত্রের বর্ণনা দিতে হবে এবং দ্বিতীয়টি হল সমালোচনা মূলক বর্ণনা করতে হবে। রাইটিং এর ক্ষেত্রে প্রথমে একটি সূচনা বা ভুমিকা অংশ দিতে হবে তারপরে বর্ণনা মূলকভাবে বিশ্লেষণ করে যেতে হবে। এভাবে লিখলে আপনার স্কোর বাড়াতে সাহায্য করবে।

 

স্পিকিং

স্পিকিং এর মাধ্যমে আপনার ইংরেজিতে কথা বলার দক্ষতা যাচাই করা হয়। এক্ষেত্রে তারা আপনার ইংরেজিতে কথা বলার ধরন, শব্দভাণ্ডার, গ্রামারের দক্ষতা, উচ্চারণের ভঙ্গি, অনর্গল কথা বলার সাবলীলতা পরীক্ষা করে। স্পিকিং সাধারণত ১১ থেকে ১৪ মিনিট সময় ধরে নেওয়া হয়। এ সময় তিনটি ধাপে পরীক্ষা নেওয়া হয়। প্রথম ধাপে আপনার নিজের সম্পর্কে সাধারণ কিছু প্রশ্ন করা হয়। দ্বিতীয় ধাপে ২ মিনিট পরীক্ষকের সাথে নির্দিষ্ট কোন বিষয় নিয়ে ইংরেজিতে কথা বলতে হয়। এবং তৃতীয় ধাপে চার থেকে পাঁচ মিনিট নির্দিষ্ট কোন বিষয় নিয়ে পরীক্ষার সাথে কথা বলতে হয়।

 

রিডিং

রিডিং অংশে আপনার ইংরেজি পড়ার দক্ষতা যাচাই করা হয়। এই ধাপে এক ঘন্টায় আপনাকে তিনটি অনুচ্ছেদ দেওয়া হয় এই অনুচ্ছেদ থেকে 40 টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। অনুচ্ছেদ থেকে সঠিক উত্তর খুঁজে বের করা, বাক্য পূরণ, সংক্ষিপ্ত উত্তর এ ধরনের কিছু প্রশ্ন দেওয়া হয়। আইইএলটিএস এর জন্য এই ধাপটি ও  অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এখানে ভালো করার জন্য অবশ্যই আপনাকে আগে থেকে প্রস্তুতি নিতে হবে।

 

আইইএলটিএস প্রস্তুতি

১. প্রথমে আইইএলটিএস পরীক্ষার নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত জ্ঞান অর্জন করতে হবে। কিভাবে পরীক্ষা নেওয়া হয়, কোন বিষয়ের উপর পরীক্ষা হয়, পরীক্ষার কাঠামো সম্পর্কে ধারণা নিতে হবে এবং সে অনুযায়ী নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে।

 

২. নিজের দক্ষতা বাড়াতে হবে। এক্ষেত্রে আপনাকে ইংরেজি ভালোভাবে বোঝার জন্য বিভিন্ন ইংলিশ সিনেমা, পডকাস্ট, গান শুনতে হবে। ইংরেজিতে ধারাভাষ্য শুনতে হবে। যেটা আপনার ইংরেজি লিসেনিং এর ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রতিনিয়ত ইংরেজি সংবাদপত্র পড়তে হবে যেটা রিডিং এর ক্ষেত্রে ভোকাবুলারি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে। প্রতিনিয়ত ইংরেজি টকশো ও বিতর্ক গুলো দেখতে হবে যাতে আপনি ইংরেজি সহজেই বুঝতে পারেন।

 

৩. শুধু শিখলে হবে না আপনাকে নিয়মিত চর্চা করতে হবে এজন্য নমুনা পরীক্ষা বা আইএলটিএস কোর্সে ভর্তি হয়ে নিয়মিত পরীক্ষা দিলে আপনার ইংরেজি দক্ষতা অনেকটাই বেড়ে যাবে। এছাড়া অনলাইনে বিভিন্ন অ্যাপে নিয়মিত চর্চা করার সুযোগ রয়েছে।

 

৪. নিজের কথা বলার দক্ষতা বাড়াতে হবে। এজন্য কারো না কারো সাথে ইংরেজিতে কথা বলতে হবে। যদি বিদেশে কেউ থাকে তাহলে তার সাথে ইংরেজিতে কথা বললে আপনার ইংরেজি দক্ষতা বেড়ে যাবে। ছাড়া বিভিন্ন অ্যাপে ইংরেজিতে কথা বলার সুযোগ হয়েছে। AI এর মাধ্যমে ইংরেজিতে কথা বলা চর্চার শুধু রয়েছে।

 

৫. লেখার দক্ষতা বাড়াতে হবে। এজন্য প্রতিনিয়ত কোন প্রতিবেদন বা ইংরেজিতে রচনা লিখে নিজের রাইটিং দক্ষতা বাড়াতে হবে। রাইটিং এ ভালো করার জন্য প্রতিনিয়ত লেখালেখি করার বিকল্প নেই।

 

৬. নিজে দুর্বল পয়েন্টগুলো খুজে বের করতে হবে। আপনি কোন বিষয়ে দুর্বল  রাইটিং, রিডিং, স্পিকিং, লিসেনিং যে বিষয়ে দুর্বল হোক না কেন সে বিষয়টির উপর বেশি সময় দিয়ে দুর্বল বিষয়টিকে শক্তিশালী করতে হবে।

 

৭. সময়ের প্রতি মনোযোগী হতে হবে কারণ আইএলটিএস পরীক্ষায় প্রতিটি বিষয়ের উপর একটি নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। এজন্য আপনাকে সময়ের দিকে খেয়াল দেখে নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে।

 

কোথায় আইইএলটিএস পরীক্ষা দিতে হয়

বাংলাদেশে ব্রিটিশ কাউন্সিল এবং আইডিপি এডুকেশন এর মাধ্যমে দেশের প্রধান প্রধান শহরগুলোতে আইইএলটিএস পরীক্ষা দেওয়া যায়। দেশের প্রতিটি বিভাগীয় শহরে আই আইইএলটিএস পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। পরীক্ষা সাধারণত দুই ভাবে হয়ে থাকে কম্পিউটার-বেজড আর পেপার-বেজড।

 

কম্পিউটার-বেজড

কম্পিউটার বেজড পরীক্ষায় সাধারণত একজন শিক্ষার্থীকে কম্পিউটারের সামনে বসে লিসেনিং, রিডিং, রাইটিং পরীক্ষা দিতে হয়। স্পিকিং সাধারণত কম্পিউটারে দেওয়া যায় না একজন মানুষ আপনাকে স্পিকিং পরীক্ষা নিয়ে থাকে। যাদের কম্পিউটারে রাইটিং স্পিড অনেক ভালো কিন্তু হাতের লেখা ভালো না তাদের ক্ষেত্রে এটি উপযোগী। এই পরীক্ষার ফলাফল তিন থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে দেওয়া হয়

 

পেপার-বেজড

পেপার বেজড পরীক্ষায় শিক্ষার্থীকে কাগজে-কলমে লিসেনিং, রিডিং ও রাইটিং পরীক্ষা দিতে হয়। স্পিকিং সাধারণত একজন পরীক্ষকের সামনে দিতে হয়। যারা কম্পিউটারের দ্রুত টাইপ করতে পারে না বা স্কিনের দিকে বেশি সময় তাকিয়ে থাকতে পারে না এবং যাদের হাতের লেখা ও লেখার স্পিড ভালো তাদের জন্য পেপার বেজড পরীক্ষা ভালো। পেপার বেজড পরীক্ষার রেজাল্ট সাধারণত ১৩ দিন পরে দেওয়া হয়।

 

শেষকথা

বিদেশে উচ্চশিক্ষা বা যেকোনো কাজের জন্য আইইএলটিএস খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আইইএলটিএসপরীক্ষায় ভালো করার জন্য নিজের ধৈর্য, অধ্যবসায় ও মনোযোগ দিয়ে চেষ্টা করতে হবে। প্রতিনিয়ত আপনাকে প্র্যাকটিস করে যেতে হবে। প্রতিদিন ইংরেজি সংবাদপত্র পড়তে হবে। এছাড়া ইংরেজি সিনেমা ইউটিউবে ভিডিও পডকাস্ট শুনতে হবে। একটু একটু করে নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে।

FAQ

১. আইইএলটিএস পরীক্ষায় কত সময় লাগে?

Listening, Reading ও Writing একই দিনে প্রায় ২ ঘণ্টা ৪০ মিনিটে সম্পন্ন হয়।

২. আইইএলটিএস পরীক্ষায় ভুল উত্তরের জন্য নম্বর কাটা যায়?

সাধারণত ভুল উত্তরের জন্য অতিরিক্ত কোনো নম্বর কাটা হয় না।

৩. আইইএলটিএস পরীক্ষায় Speaking কখন হয়?

Speaking পরীক্ষা একই দিন বা মূল পরীক্ষার কয়েক দিন আগে-পরে হতে পারে।

৪. আইইএলটিএস পরীক্ষায় কত ব্যান্ড পাওয়া যায়?

IELTS-এ ০ থেকে ৯ ব্যান্ড পর্যন্ত স্কোর দেওয়া হয়।

৫. আইইএলটিএস পরীক্ষায় পাস নম্বর কত?

IELTS-এ নির্দিষ্ট পাস নম্বর নেই, কারণ প্রয়োজনীয় ব্যান্ড স্কোর প্রতিষ্ঠান ও উদ্দেশ্য অনুযায়ী ভিন্ন হয়।

 

আরো পড়ুন

Oliur Rahman Sohag
Oliur Rahman Sohag

Md Oliur Rahman Sohag বাংলা সাহিত্য, বাংলা ব্যাকরণ, কবি-সাহিত্যিক জীবনী এবং শিক্ষামূলক বিষয় নিয়ে লেখালেখি করেন। তিনি Study Journal X-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান কনটেন্ট লেখক।

Articles: 120