ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি: মানবণ্টন, সিলেবাস ও সাজেশন

বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। বহু শিক্ষার্থীর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি হওয়া। সঠিক গাইড লাইন ও দিক নির্দেশনার অভাবে অনেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায় না। ভর্তি পরীক্ষার জন্য বিস্তারিত জ্ঞান না থাকার জন্য অনেকেই বুঝতে পারে না কীভাবে প্রস্তুতি নেব, প্রশ্ন কেমন হবে, মানবন্টন কেমন, কোথা থেকে পড়বো এবং পরীক্ষার প্রশ্ন কোথা থেকে আসবে। এই আর্টিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি, সাজেশন, মানবন্টন ও পরীক্ষা দিতে কি কি যোগ্যতা লাগবে সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি কিভাবে শুরু করবেন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার জন্য সর্বপ্রথম লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে। কোন ইউনিটি পরীক্ষা দেবেন সেটা ঠিক করতে হবে। দ্বিতীয় বিষয়টি হলো আপনার হাতে কত সময় আছে? সময় অনুযায়ী নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে। যদি কম সময় থাকে তাহলে পড়ার রুটিন সে অনুযায়ী তৈরি করতে হবে। আবার যদি সময় বেশি থাকে তাহলেও সে অনুযায়ী রুটিন তৈরি করে নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে। অর্থাৎ দৈনিক কত ঘন্টা পড়লে আপনার সিলেবাস সময়ের মধ্যে কাভার হবে। তৃতীয় বিষয়  হলো নিজের বর্তমান অবস্থা মূল্যায়ন। অর্থাৎ আপনার ব্যাসিক কতটা শক্তিশালী, ইন্টারমিডিয়েটে আপনি কিভাবে পড়েছেন। কোনো বিষয়ে আপনার দুর্বলতা আছে কিনা, সেটি খুঁজে বের করে সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিতে হবে।

প্রস্তুতি শুরু করার আগে একটি পরিকল্পনা করতে হবে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। প্রথমে সিলেবাসে কি কি আছে তা খুঁটিনাটি পর্যালোচনা করতে হবে। এরপর বিগত সালের প্রশ্নগুলো বিশ্লেষণ করে দেখতে হবে। দুর্বল বিষয়গুলো খুঁজে বের করতে হবে। সে অনুযায়ী রুটিন তৈরি করে প্রস্তুতি নিতে হবে।

সিলেবাস

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা সাধারণত এইচএসসি পরীক্ষার সিলেবাসের উপর ভিত্তি করে প্রশ্ন করা হয়। তাই এইচএসসি পরীক্ষায় যে অধ্যায়গুলো সিলেবাসে আছে সেই অধ্যায় থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন আসে। কোন ইউনিটে কোন বিষয়গুলো থেকে প্রশ্ন আসে সেটা তুলে ধরা হলো।

ইউনিটভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির কৌশল

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় ভালো করার জন্য কিছু নিয়ম অনুসরণ করে পড়লে অবশ্যই চান্স পাওয়া সম্ভব। বিশ্ববিদ্যালয় সাধারণত ৫টি ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষার সম্পন্ন হয়ে থাকে। কলা, আইন ও সমাজ বিজ্ঞান, ব্যবসা শিক্ষা, ব্যবসা শিক্ষা, আইবিএ ইউনিটি ভর্তি পরীক্ষায় সম্পূর্ণ হয়ে থাকে। নিচে ইউনিটভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির কৌশল আলোচনা করা হলো।

 

বিজ্ঞান ইউনিটের প্রস্তুতি

বিজ্ঞান ইউনিটে সাধারণত পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, গণিত অথবা জীববিজ্ঞান, বাংলা ও ইংরেজি বিষয়গুলো রয়েছে। এইচএসসি মূল বইয়ের যে অধ্যায়গুলো থেকে এইচএসসি পরীক্ষা হয়েছে সেই অধ্যায়গুলো গুরুত্ব সহকারে পড়তে হবে। প্রতিটি অধ্যায় শেষ করে সেই অধ্যায়ের MCQ এর উপর মডেল টেস্ট দিতে হবে। তারপরে ভুলগুলো মার্ক করে রাখতে হবে। কোন বিষয় ভুল হয়েছে, কেন ভুল হয়েছে, সেটা খুঁজে বের করে তার উপর প্রস্তুতি জোর দিতে হবে।

এরপর দুর্বল বিষয়টি খুঁজে বের করতে হবে। যে বিষয়ের উপর সবচাইতে দুর্বল সে বিষয়টিতে সবচেয়ে বেশি জোর দিয়ে পড়তে হবে। নিয়মিত পড়ে সে বিষয়টি কাভার করতে হবে। পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও গণিত দাগালে ভালো সাবজেক্ট পাওয়া যায়। এই বিষয়গুলো সবচাইতে বেশি ভাল করে পড়তে হবে। গণিতের ক্ষেত্রে ফর্মুলা শীট সামনে রেখে পড়তে হবে। শুধুমাত্র গাইড বইয়ের উপর নির্ভরশীল হলে হবে না। বেসিক জেন পড়তে হবে। সময়ের দিকে নজর দিয়ে প্রস্তুতি নিতে হবে। লিখিত অংশের জন্য আলাদাভাবে সময় ভাগ করে প্রস্তুতি নিতে হবে। প্রতিনিয়ত মডেল টেস্ট দিয়ে নিজের দক্ষতা যাচাই করতে হবে।

 

মানবিক ইউনিটের প্রস্তুতি

বাংলা

পাঠ্যবয়ে যে অধ্যায়গুলো সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত আছে সেই অধ্যায়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে পড়তে হবে। সম্পূর্ণ গদ্য ও পদ্য আগে একবার ভালো করে পড়তে হবে। তারপর প্রতিটি বিষয় খুঁটিনাটি বিশ্লেষণ করতে হবে। যেখান থেকে প্রশ্ন আসুক না কেন যেন সঠিক উত্তর দেওয়া যায় এমন ভাবে পড়তে হবে। ব্যাকরণের প্রতিটি টপিক সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা থাকতে হবে। সন্ধি সমাস বাগধারা ধ্বনিতত্ত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা নিতে হবে। বিগত সালের প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে পড়তে হবে।

লিখিত পরীক্ষার জন্য নিজের ভাষায় ভাব সম্প্রসারণ ও রচনা লেখা আয়ত্ত করতে হবে। যেখান থেকেই প্রশ্ন আসুক না কেন সেটা যেন সঠিক উত্তর দেওয়া যায়। রুটিন অনুসারে এক এক করে প্রতিটি অধ্যায় শেষ করতে হবে। পাঠ্য বইয়ের প্রতিটি অধ্যায় এবং ব্যাকরণ সমান গুরুত্ব দিতে হবে। উপন্যাস ও নাটক থেকেও প্রশ্ন এসে থাকে। তাই এ বিষয়গুলো এড়িয়ে যাওয়া যাবে না। ভালো করে পড়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো লাল কালি দিয়ে দাগিয়ে রাখতে হবে।

প্রতিটি অধ্যায় শেষ করার পরে মডেল টেস্ট দিতে হবে। অনলাইনে বিভিন্ন প্লাটফর্মে মডেল টেস্ট দেওয়া যায়। কোনো টপিক্স ভুল হলে সেটাতে বেশি গুরুত্ব দিয়ে আয়ত্তে নিয়ে আসতে হবে। এবং সময় ম্যানেজমেন্ট করতে হবে। পরীক্ষার হলে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ হলো সময়। এজন্য সময়ের দিকে খেয়াল রেখে নিজেকে যাচাই করতে হবে।

ইংরেজি

ইংরেজিতেও চলতি বছর এইচএসসি পরীক্ষায় যে অধ্যায়গুলো থেকে প্রশ্ন এসেছে সে অধ্যায়গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা রাখতে হবে। পাঠ্যবইয়ের প্রতিটি অধ্যায় এবং ব্যাকরণকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। অনেকেই শুধু ব্যাকরণে বেশি গুরুত্ব দেয় কিন্তু পাঠ্যবইকে গুরুত্ব দেয় না। এক্ষেত্রে দুটো বিষয়কেই সমান গুরুত্ব দিতে হবে। যে বিষয়ে দুর্বল সে বিষয় খুঁজে বের করে বেশি বেশি পড়তে হবে। প্রতিটি বিষয় শেষ করার পর বিগত সালের প্রশ্ন সলভ করে দেখতে হবে যে, কত সময় কতগুলো প্রশ্ন সলভ করতে পারছো।

ইংরেজিতে ভালো করার জন্য ভোকাবুলারির বিকল্প কিছু নেই। এজন্য প্রচুর পরিমাণ ভোকাবুলারি আয়ত্বে আনতে হবে। লিখিত অংশে ভালো করার জন্য প্রতিদিন কোন না কোন প্যারাগ্রা পড়তে হবে যাতে ইংরেজিতে কোন সমস্যা না হয়। নিজের ভাষায় লেখা শিখতে হবে। প্রতিদিন কোন না কোন বিষয়ের উপর এক ঘন্টা লেখা প্রাক্টিস করতে হবে।

সাধারণ জ্ঞান

পরীক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ সাধারণ জ্ঞান। সাধারণ সাধারণ জ্ঞানের ক্ষেত্রে বিগত সালে আসা প্রশ্নগুলো বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। অর্থনীতি, পৌরনীতি, ভূগোল ৩ সমাজবিজ্ঞান থেকে অনেকগুলো প্রশ্ন আসে। তাই এ বিষয়গুলো পড়তে হবে। এবং আইসিটি থেকেও প্রশ্ন এসে থাকে তাই আইসিটি গুরুত্ব সহকারে দেখতে হবে। বিগত সালে আসা বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়গুলো ভালোভাবে পড়তে হবে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়গুলো বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত জ্ঞান থাকতে হবে।

 

ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের প্রস্তুতি

ব্যবসা শিক্ষায় ইউনিটে হিসাববিজ্ঞান, ম্যানেজমেন্ট, মার্কেটিং অথবা ফিন্যান্স, বাংলা ও ইংরেজি এই বিষয়গুলোর উপর পরীক্ষা হয়ে থাকে। এইচএসসি পরীক্ষায় যে অধ্যায়গুলো থেকে পরীক্ষা হয়েছে সেই অধ্যায়গুলো মূল বই থেকে ম্যাথ ও থিওরি গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। ক্যালকুলেটর ছড়া ছোটখাটো হিসাব করার প্রাক্টিস করতে হবে। সময়ের দিকে নজর দিয়ে নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে যেন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করা যায়। বাংলা এবং ইংরেজির ক্ষেত্রেও মূল বইয়ের অধ্যায়গুলো গুরুত্ব সাথে দেখতে হবে।

প্রতিটি অধ্যায় শেষ করে মডেল টেস্ট দিতে হবে। নির্দিষ্ট কোন বিষয়ের উপর দুর্বলতা থাকলে সে বিষয়টি বেশি সময় দিয়ে চেষ্টা করতে হবে। মডেল টেস্ট দিয়ে যে বিষয়গুলোতে বেশি ভুল হয় সেগুলোর কারণ চিহ্নিত করে সেই ভুলগুলো সংশোধন করতে হবে। লিখিত অংশের ক্ষেত্রে বেসিক নিয়ম গুলো জানতে হবে। এছাড়াও থিউরি বা গাণিতিক যুক্তি গুলো করার সময় সময়ের দিকে খেয়াল রাখতে হবে।

 

চারুকলা ইউনিটের প্রস্তুতি

চারুকলা অনুষদের ভর্তি পরীক্ষা অন্যান্য অনুষদের থেকে ভিন্ন। শুধু মাত্র পুথিগত জ্ঞান থাকলেই এই ইউনিটে ভর্তি হওয়া যাবে না। এজন্য বইয়ের বাইরের জ্ঞান থাকা লাগবে। চারুকলা অনুষদে ভর্তি হতে গেলে আঁকতে জানা লাগবে এবং উপস্থিত বুদ্ধি কাজে লাগানোর মত জ্ঞান থাকা লাগবে। অঙ্কনের জন্য প্রাথমিক জ্ঞান অর্জন করতে হবে এজন্য প্রতিনিয়ত আঁকা প্র্যাকটিস করতে হবে। অঙ্কনের উপর ৬০ মার্ক এজন্য ভালো অঙ্কনের দক্ষতা অর্জন করতে হবে। সময়ের দিকে নজর দিয়ে অঙ্কন প্র্যাকটিস করতে হবে।

বাংলা ইংরেজি ও সাধারণ জ্ঞান ভালোভাবে পড়তে হবে। এগুলোর উপর ৪০ মার্কেট MCQ থাকবে। বাংলা ইংরেজি জন্য এইচএসসি বোর্ড বইয়ের বেসিক জিনিস গুলো পড়তে হবে। সাধারণ জ্ঞানের জন্য বাংলাদেশের শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে বিস্তৃত জ্ঞান অর্জন করতে হবে।

 

IBA ইউনিটের প্রস্তুতি

IBA ইউনিটের পরীক্ষা সাধারণত অন্যান্য ইউনিটের থেকে একটু ভিন্ন হয়ে থাকে। এখানে ইংরেজির পাশাপাশি গাণিতিক যুক্তি সমাধান, বিশ্লেষণী চিন্তা এবং যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার মত দক্ষতা প্রয়োজন। ইংরেজির ক্ষেত্রে grammar, vocabulary, reading comprehension বিষয়গুলো খুবই জোর দিয়ে দেখতে হবে। প্রতিনিয়ত মডেল টেস্ট দিয়ে নিজেকে যাচাই করতে হবে।

গাণিতিক অংশে তাদের নির্দেশিত বিষয়গুলো অনুযায়ী যেমন অনুপাত, শতকরা, গড়, অনুপাত-সমানুপাত, বীজগণিত এবং অন্যান্য অধ্যায়গুলো প্র্যাকটিস করতে হবে। জটিল বিষয়গুলো অল্প সময়ে সমাধান করার মত দক্ষতা অর্জন করতে হবে। বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্নের ক্ষেত্রে যে কোন শর্তের সম্পর্ক বের করার মত দক্ষতা অর্জন করতে। এরপর প্রতিনিয়ত মডেল টেস্ট দিতে হবে। যে অংশে ভুল হয় সেই ভুলের কারণ বের করে ভুলগুলো সমাধান করতে হবে।

 

লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি

লিখিত পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সবচাইতে বেশি ভয় কাজ করে। পরীক্ষায় ভালো না করার সবচেয়ে বড় কারণ হলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে না পার। এজন্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার জন্য প্রতিদিন প্র্যাকটিস করা খুবই জরুরী। ইংরেজির জন্য নিয়মিত ইংরেজিতে লেখা প্র্যাকটিস করতে হবে এবং ভোকাবুলারি মুখস্ত করতে হবে। বাংলার জন্য ভাব সম্প্রসারণ ও অন্যান্য বিষয় লেখা প্রাক্টিস করতে হবে। অঙ্কনের জন্য নির্ধারিত সময়ে আকা প্র্যাকটিস করতে হবে। গাণিতিক যুক্তি গুলোও নির্ধারণ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার জন্য নিয়মিত প্র্যাকটিস করতে হবে।

 

রুটিন অনুযায়ী পড়তে হবে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করার জন্য সবথেকে প্রয়োজন একটি নির্দিষ্ট রুটিন অনুসরণ করে পড়া। যে বিষয়গুলো তুমি দুর্বল সেই বিষয়ে বেশি সময় দিতে হবে। অনেকের কাছে ইংরেজি বেশি কঠিন মনে হয়। এজন্য ইংরেজি বিগত সালের প্রশ্ন পপ্যার্টানঅনুসরণ করে দিনে ২-৩ ঘণ্টা সময় দিতে হবে। প্রতিটি টপিক আয়ত্তে নিয়ে আসার পরে প্রশ্নব্যাংক কিনে নিজেকে যাচাই করতে হবে। দৈনিক কমপক্ষে ৮ ঘন্টা পড়তে হবে। কোন বিষয়ে সবচেয়ে বেশি দুর্বল সে বিষয়ে বেশি সময় দিতে।

 

বিগত বছরের প্রশ্ন বিশ্লেষণ করার নিয়ম

বিগত সালের সমস্ত প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিতে হবে। বিগত সালের প্রশ্ন বিশ্লেষণ করলে প্রশ্নের ধরন পরিষ্কার হয়ে যাবে। প্রশ্ন কেমন আসবে, কোথা থেকে আসবে সেটা নিয়ে বেশি সমস্যা থাকবে না। তাই আগে বিগত সালের প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে প্রশ্নের ধরন জানতে হবে। সেই প্রশ্নের উপর পরীক্ষা দিতে হবে। যে বিষয়গুলো বেশি ভুল হয় সেই ভুলের কারণ খুঁজে বের করতে হবে। এবং সেই টপিকগুলো বেশি গুরুত্ব দিয়ে ভুলগুলো সমাধান করতে হবে।

প্রস্তুতির ক্ষেত্রে সাধারণ ভুল

১. পরিকল্পনা ছাড়াই পড়াশোনা করা

২. শুধু মুখস্থ করে পড়া

৩. বিগত বছরের প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে না পড়া

৪. মডেল টেস্ট দেওয়ার পর ভুল বিশ্লেষণ না করা

৫. দুর্বল বিষয় এড়িয়ে যাওয়া

শিক্ষার্থীরা সাধারণত এই ভুলগুলো করে থাকে। এজন্য ভালো ফলাফল করা সম্ভব হয় না। তাই এই বিষয়গুলো এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করুন

মানসিকভাবে প্রস্তুতি 

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের উপর অনেক মানসিক চাপ পড়ে। কারণ অল্প সময়ে অধিক গুলো বিষয় শেষ করার বোঝা ঘাড়ে থাকে। এ সময় মানসিকভাবে স্বতেজ থাকা অত্যন্ত জরুরী। নিজেকে চাপমুক্ত রাখার কৌশল আয়ত্তে আনতে হবে। এছাড়াও পরীক্ষার হলে অনেকেই মানসিক প্রেসার অনুভব করে। এ সময় নিজেকে শান্ত রেখে স্বাভাবিকভাবে সবগুলো প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। লক্ষ্য অনুযায়ী করলে অবশ্যই ভালো ফলাফল করা সম্ভব। উপরের এই বিষয়গুলো অনুসরণ করে ভালোভাবে পড়লে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চান্স পাওয়া সহজ হবে।

 

FAQ

১. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি কীভাবে শুরু করব?
নির্দিষ্ট রুটিন তৈরি করে বাংলা, ইংরেজি ও সাধারণ জ্ঞানের প্রতিটি বিষয় সমান গুরুত্ব দিয়ে পড়া শুরু করতে হবে। পাশাপাশি বিগত বছরের প্রশ্ন অনুশীলন করতে হবে।

২. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় সময় ব্যবস্থাপনা কেন গুরুত্বপূর্ণ?
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে MCQ ও লিখিত পরীক্ষা শেষ করা জরুরি। তাই নিয়মিত সময় ধরে প্রশ্ন সমাধানের মাধ্যমে সময় ব্যবস্থাপনার দক্ষতা বাড়াতে হবে।

৩. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার লিখিত অংশের জন্য কীভাবে প্রস্তুতি নেব?
বাংলায় বানান শুদ্ধি, প্রমিতকরণ, মূলভাব, কবিতার উদ্ধৃতি ব্যাখ্যা, অনুবাদ ও অনুচ্ছেদ লেখার অনুশীলন করতে হবে। ইংরেজিতে Translation, Sentence Making, Rearrange, Paragraph Writing ও Explanation অনুশীলন করা দরকার।

৪. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার জন্য সাধারণ জ্ঞানে কোন বিষয়গুলো পড়ব?
বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি, অর্থনীতি, পৌরনীতি, ভূগোল, সমাজবিজ্ঞান ও আইসিটি গুরুত্বসহকারে পড়তে হবে। সাম্প্রতিক ঘটনাবলির ওপরও ধারণা রাখতে হবে।

৫. ভর্তি পরীক্ষার সময় মানসিক চাপ কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়?
নিয়মিত পড়াশোনা, নির্দিষ্ট রুটিন অনুসরণ এবং সময় ধরে প্রশ্ন সমাধানের অভ্যাস করলে আত্মবিশ্বাস বাড়ে। পরীক্ষার হলে শান্ত থেকে প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে।

আরো পড়ুন

Oliur Rahman Sohag
Oliur Rahman Sohag

Md Oliur Rahman Sohag বাংলা সাহিত্য, বাংলা ব্যাকরণ, কবি-সাহিত্যিক জীবনী এবং শিক্ষামূলক বিষয় নিয়ে লেখালেখি করেন। তিনি Study Journal X-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান কনটেন্ট লেখক।

Articles: 120