বিভাগ-পরবর্তী বাংলা সাহিত্যের অন্যতম সমাজসচেতন কালজয়ী কথাসাহিত্যিক মহাশ্বেতা দেবী। অধিকারবঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ে তিনি সর্বদা লড়াই করেছেন। দেশভাগ-পরবর্তী সময়ে ভারতের উল্লেখযোগ্য আন্দোলনসমূহে তার সক্রিয় উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। ভারতের কৃষক আন্দোলন, তেভাগা-নকশাল আন্দোলনসহ অসংখ্য আন্দোলনে তিনি শোষিত-বঞ্চিত মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাদের সঙ্গে কাঁধ মিলিয়ে আন্দোলনে সহমত জানিয়েছেন। শুধু তাই নয়, অধিকারবঞ্চিত আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অস্তিত্ব রক্ষায় তিনি সর্বদা সংগ্রাম করেছেন। তিনি বহু সভা-সমিতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পশ্চিমবঙ্গের ‘আদিম জাতি ঐক্য পরিষদ’ গঠনে তার অবদান ছিল সবচাইতে বেশি। সাহিত্যে তার সমাজসচেতনতার প্রভাব ছিল সবচাইতে বেশি। ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিভিন্ন লড়াই-সংগ্রাম তার লেখায় উঠে এসেছে। এই আটিকেলে হাজার চুরাশির মা উপন্যাসের বিষয়বস্তু, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও চরিত্র বিশ্লেষণ করা হল।

হাজার চুরাশির মা উপন্যাসের বিষয়বস্তু
মহাশ্বেতা দেবীর অন্যতম বিখ্যাত একটি উপন্যাস হাজার চুরাশির মা। উপন্যাসের পটভূমিতে রয়েছে নকশালবাড়ি আন্দোলন। নকশালবাড়ি আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৯৬৭ সালের মে মাসে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর অংশের জেলা দার্জিলিংয়ের শিলিগুড়ি মহকুমার নকশালবাড়ি গ্রামে। আন্দোলনের সূত্রপাত হয় জমিদারদের শোষণের বিরুদ্ধে কৃষকদের বিদ্রোহ দিয়ে। নকশালবাড়ি গ্রামের কৃষকরা চা বাগান এবং কৃষিকাজ করত। বহুদিন ধরে জমিদার শ্রেণি তাদেরকে শোষণ করে আসছিল। কখনো তাদের ন্যায্য মূল্য দিত না, আবার অল্প মজুরিতে অনেক বেশি কাজ করিয়ে নিত।
তাদের অত্যাচারে গ্রামের সাধারণ কৃষকরা অতিষ্ঠ হয়ে গিয়েছিল। একদিন তারা গ্রামের এক সাধারণ কৃষকের সম্পত্তি ও জমি অবৈধভাবে কেড়ে নিয়েছিল। প্রতিবাদ করায় তার ওপর নেমে এসেছিল চরম অত্যাচার। অত্যাচারের শিকার হয়ে লোকটি মারা যায়। পরিপ্রেক্ষিতে কৃষক সমাজ জমিদার শ্রেণির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করতে আসলে কৃষক সমাজ তাদের ওপর চড়াও হয় এবং এক পুলিশ নিহত হয়। তারপর এই আন্দোলন আরও তীব্র হয়ে সমগ্র ভারতবর্ষে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে।
আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিল চারু মজুমদার, কানু সান্যাল ও জঙ্গল সাঁওতাল। এরা ছিল কমিউনিস্ট পার্টির মার্ক্সবাদী কর্মী। সমাজের সকল বৈষম্য ও বুর্জোয়া শ্রেণির আধিপত্য ধ্বংস করে সমাজে সমতা আনার স্বপ্ন দেখত। এজন্য সবচাইতে বড় বাধা ছিল মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ, সোভিয়েত সংশোধনবাদ, জমিদার শ্রেণি এবং আমলাতান্ত্রিক বুর্জোয়া শ্রেণি। এই চার শ্রেণিকে ধ্বংস করে তারা সমাজে সমতা আনার লক্ষ্যে যুদ্ধে নেমেছিল। চারু মজুমদার চীনের মাও সে তুং-এর রাজনীতির অনুসারী ছিলেন। ফলে সেও চীনের মতো ভারতবর্ষেও সমতা আনার জন্য জনগণকে সংগঠিত করতে চেয়েছিল। এজন্য চারু মজুমদার মাও সে তুং-এর মতবাদ প্রচার করতে থাকে। নকশালবাড়িতে এই ঘটনা ঘটার পরে তাদের সামনে কাঙ্ক্ষিত সময় আসে। জন্ম নেয় নকশালবাদ।
আন্দোলন সমগ্র ভারতবর্ষে ছড়িয়ে পড়ে এবং জমিদার ও বুর্জোয়া শ্রেণির বিরুদ্ধে সবাই প্রতিবাদ শুরু করে। অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা, ঝাড়খণ্ড, ছত্তিশগড়, ওড়িশাসহ বিভিন্ন প্রদেশে এই আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করে। বিভিন্ন জায়গায় জমিদারদের বিরুদ্ধে মানুষ সশস্ত্র প্রতিবাদ শুরু করে। তাদের শস্য-সম্পদ লুট করে নিয়ে আসতে শুরু করে। ১৯৬৮ সালের দিকে এই আন্দোলন আরও তীব্র রূপ ধারণ করে। বিভিন্ন জায়গায় পুলিশের ওপর আক্রমণ করা হয়। সাঁওতাল আদিবাসীরাও এই আন্দোলনে যোগ দেয় এবং ভূস্বামীদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিবাদে যোগ দেয়। পরবর্তীতে এই আন্দোলন ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। সরকার শক্ত হাতে এই আন্দোলন দমন করতে শুরু করে।
রাজ্য সরকার নির্মমভাবে নকশাল বিদ্রোহীদের দমন করতে শুরু করে। সরকার তাদেরকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আখ্যা দেয় এবং তাদের নির্মূলে বিভিন্ন অভিযান চালানো হয়। অভিযানে শত শত বিদ্রোহী মারা যায়। তারপরও নকশালবাড়ি আন্দোলন থেমে থাকেনি। পরবর্তী চার-পাঁচ দশক ধরে এই আন্দোলন ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে চলতে থাকে। ইন্দিরা গান্ধীও নকশালবাদীদের শক্ত হাতে দমন করেছিলেন। ভারতীয় সরকার নকশালবাদ ও মাওবাদকে চরমপন্থী রাজনৈতিক দল হিসেবে আখ্যা দেয় এবং তাদের নির্মূলে বিভিন্ন পদক্ষেপ হাতে নেয়। নকশালবাড়ি আন্দোলন ভারতে অধিকারবঞ্চিত সর্বহারা মানুষের অধিকারের কথা তুলে ধরে। আন্দোলনে শুধু নিম্নশ্রেণির আদিবাসীরা যোগ দেয়নি, সমাজের সর্বস্তরের মানুষ, শিক্ষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও তরুণ প্রজন্ম আন্দোলনকে বেগবান করেছিল।
হাজার চুরাশির মা উপন্যাসটি রচিত হয়েছে এই নকশালবাড়ি আন্দোলনকে কেন্দ্র করে। উপন্যাসটি শুরু হয় ব্রতীর মৃত্যুর ঠিক এক বছর পরে। এদিন সকালে সুজাতার একধরনের মানসিক ও শারীরিক যন্ত্রণা অনুভব হয়। তার মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে এদিন সকালে তাদের বাড়িতে এক অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন এসেছিল। ফোনের অপরপ্রান্ত থেকে জানানো হয়, কাঁটাপুকুর মর্গে একটি অজ্ঞাত লাশ আছে, সেটা যেন শনাক্ত করা হয়।
ব্রতীর পিতা দিব্যনাথ চ্যাটার্জি সি.এ. ফার্মের মালিক ছিলেন। তিনি একজন ধনাঢ্য ব্যক্তি, কিন্তু তার স্বভাব-চরিত্র ছিল খুবই নিচু। তিনি ব্যভিচারে লিপ্ত ছিলেন। বিকৃত যৌন আকাঙ্ক্ষা তার ভিতরে প্রবল ছিল, এজন্য বহু নারীর সঙ্গে তার অবৈধ সম্পর্ক ছিল। এজন্য ব্রতীর মায়ের ওপর নেমে আসত অসম্মান ও অত্যাচার। তার ভাই ও বোনেরা এ বিষয়ে মেনে নিলেও ব্রতী মেনে নিতে পারেনি। বাবার এই নারীলোলুপ স্বভাব ও অর্থের লোভ কোনোদিনই মেনে নিতে পারেনি ব্রতী।
পিতার অঢেল সম্পত্তি থাকতেও সে কোনোদিনও সেই সম্পত্তি ভোগ করেনি। সেই সম্পদ কখনো তাকে অহংকারী হিসেবে গড়ে তোলেনি। তার জীবনযাপন ছিল সাধারণ মানুষেরই মতো। তিনতলার যে ঘরটিতে ব্রতী থাকত, সেখানে উচ্চবিত্তের কোনো চিহ্নই ছিল না। মুক্তিকামী নকশাল কর্মী হিসেবেই সে নিজেকে পরিচয় দিত, এজন্য তার পরিচয় হয়ে দাঁড়ায় হাজার চুরাশি তম লাশ হিসেবে। পুলিশ তার লাশ শনাক্ত করতে বললে দিব্যনাথের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, নকশাল কর্মীর পিতা হিসেবে তার পরিচয় যেন কোনোভাবেই প্রকাশিত না হয়। এজন্য খবরের কাগজে প্রভাব খাটিয়ে ব্রতী নামটি কাটানোর ব্যবস্থা করে। দিব্যনাথ ব্রতীর লাশটি আনতেও অস্বীকৃতি জানায়। সুজাতা কোনো উপায় না পেয়ে নিজেই কাঁটাপুকুর মর্গে লাশটি শনাক্ত করতে যায়। লাশের নম্বর ছিল হাজার চুরাশিতম। তখন থেকেই সুজাতার নাম হয় হাজার চুরাশির মা।
ব্রতীর মৃত্যুর পরদিন দিব্যনাথ তার বাড়িতে পার্টির আয়োজন করে, যাতে কেউ বুঝতে না পারে বাড়িতে কী হয়েছে। পরিবারের এমন স্বার্থপর মনোভাব সুজাতাকে নাড়িয়ে দেয়। সেদিন শুধু ব্রতী একাই শহীদ হয়নি, তার সঙ্গে আরও শহীদ হয়েছিল সমু, লালটু, পার্থ, বিজিত। এর পেছনে বিশ্বাসঘাতকতা ছিল তাদেরই বন্ধু অনিন্দ্যের। ব্রতীর মৃত্যুর এক বছর পর তার মা সুজাতা সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে ছেলে কেন এই উচ্চবিত্ত জীবন ছেড়ে শোষিত, অবহেলিত, বঞ্চিত মানুষের জন্য লড়াই করেছিল। মৃত্যুর আসল রহস্য উদ্ঘাটন করতে তিনি কলকাতায় গিয়ে সোমনাথের মায়ের সঙ্গে দেখা করেন। সোমনাথও একই সঙ্গে নিহত হয়েছিল। সোমনাথের মা ছেলের লাশটি শেষবারের মতো দেখতেও পারেননি।
সোমনাথের মায়ের থেকে ঠিকানা নিয়ে সুজাতা যোগাযোগ করেন নন্দিনীর সঙ্গে, যে ব্রতীর সহযোদ্ধা ও প্রেমিকা ছিল। নন্দিনী সুজাতাকে ব্রতীর মৃত্যুর ঘটনা খুলে বলে। অনিন্দ্যের বিশ্বাসঘাতকতায় তাদেরকে শহীদ হতে হয়েছিল। নন্দিনীকেও পুলিশ জেলে নিয়ে অমানবিক নির্যাতন করে। নন্দিনীর সঙ্গে কথা বলে সুজাতা উপলব্ধি করেন যে তার ছেলে কোনো অন্যায় করেনি, বরং অসহায়, বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে শহীদ হয়েছে। বাড়িতে ফিরে এসে দেখে ব্রতীর বোন টুনির এনগেজমেন্ট অনুষ্ঠান হচ্ছে এবং সেই অনুষ্ঠানে শহরের ধনাঢ্য ব্যক্তি থেকে শুরু করে পুলিশ প্রশাসনের সব লোক আছে। যে পুলিশের হাতে ব্রতী নিহত হয়েছিল, সেই পুলিশ তাদের বাড়িতেই উৎসবে যোগ দিয়েছে। সুজাতা রাগে-ক্ষোভে খুবই জর্জরিত হয়। এরই মাধ্যমে উপন্যাসের সমাপ্তি ঘটে।
হাজার চুরাশির মা উপন্যাসের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য চরিত্র সুজাতা। সাম্রাজ্যবাদী বুর্জোয়া শ্রেণি তাকে বানিয়েছে হাজার চুরাশিতম লাশের জননী। পরিবারে তার কাজ ছিল শুধু সন্তান জন্ম দেওয়া। চার সন্তানের জননী সুজাতা। স্ত্রীর মর্যাদাটুকু সে কোনোদিনও পায়নি। তার স্বামী ছিল একজন ব্যভিচারে লিপ্ত পুরুষ। দুঃসময়ে কখনো সে তার স্বামীকে পাশে পায়নি। সুজাতাকে একমাত্র ভালোবাসত তার ছেলে ব্রতী। ব্রতী শহীদ হলে তার আশার আকাশের সূর্য অস্তমিত হয়। ব্রতীর আদর্শকে সুজাতা সবসময় শ্রদ্ধা করে গেছে। সমস্ত পরিবার ব্রতীর বিরুদ্ধে গেলেও সুজাতা কখনো তাকে ভুল বোঝেনি। এজন্য তার লাশটি আনতে গিয়ে তাকে হতে হয় হাজার চুরাশিতম লাশের জননী।
সাম্রাজ্যবাদী বুর্জোয়া শ্রেণি যখন সমাজকে গ্রাস করে নিতে শুরু করেছে, গরিবের সব অধিকার কেড়ে নিয়েছে, মানুষকে দাসে পরিণত করেছে, তখন আবির্ভাব হয় ব্রতী নামের নকশালবাদী তরুণের। সমাজের সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে যে সব সময় ছিল সোচ্চার। এমনকি সে নিজের পিতাকেও ছাড় দেয়নি। তার পিতা ছিল একজন ভণ্ড ধনাঢ্য নারীলোলুপ পুরুষ। তার মাকে কখনো স্ত্রীর মর্যাদাটুকু দেয়নি। সুজাতার একমাত্র আশ্রয়স্থল ছিল ব্রতী। অঢেল সম্পত্তি সে কোনোদিন উপভোগ করেনি। অধিকারবঞ্চিত, নিষ্পেষিত মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য সমস্ত সুখ পায়ে পিষে যুদ্ধে নেমেছিল। সেই যুদ্ধ তাকে বানিয়েছিল হাজার চুরাশিতম লাশ। তার বাবা তার সমস্ত স্মৃতি বাড়ি থেকে মুছে ফেলে। এভাবেই ব্রতী অমর হয়ে থেকে যায় হাজার চুরাশি হিসেবে।
দিব্যনাথ সুজাতার স্বামী ও ব্রতীর পিতা। সে বুর্জোয়া শ্রেণির একজন। গরিবের সম্পদ শোষণ করে সে ধনী হয়ে উঠেছে। তার ভিতরে বিকৃত যৌন আকাঙ্ক্ষা প্রবল ছিল। সুজাতার সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল শুধু যৌনতার, এছাড়া সে কখনো সুজাতাকে মানবিক দৃষ্টিতে ভালোবাসেনি। বিকৃত যৌনাকাঙ্ক্ষার লোভে বিভিন্ন নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক করত, এবং এটাকে পুরুষত্ব বলে জাহির করত। দিব্যনাথের সঙ্গে ব্রতীর এজন্য দ্বন্দ্ব ছিল। সে দিব্যনাথকে বাবা না বলে বস বলে ডাকত। মৃত্যুর পর ব্রতীর লাশটি আনতে অস্বীকৃতি জানায়। তার সমস্ত স্মৃতি বাড়ি থেকে মুছে ফেলে।
এই উপন্যাসের অন্যতম আরেকটি বিপ্লবী চরিত্র নন্দিনী। সেও শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর ছিল। নন্দিনী ব্রতীর সহযোদ্ধা ও প্রেমিকা ছিল। তাদের দুজনের ভিতর অগাধ বিশ্বাস ও ভালোবাসা ছিল। ব্রতীর মৃত্যুর পর নন্দিনীকে জেলে নিয়ে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। তারপরও তার বিপ্লবী মনোভাব বিন্দুমাত্র কমেনি। স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য কাজ করতে থাকে।
পরিশেষে বলা যায়, বাংলা সাহিত্যের একটি অন্যতম কালজয়ী উপন্যাস হাজার চুরাশির মা। নকশালবাড়ি আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস এটি। উপন্যাসটি রচনায় মহাশ্বেতা দেবী তার শিল্প-নৈপুণ্যের পরিচয় দিয়েছেন। মহাশ্বেতা দেবী নিজেই যেন সুজাতার চরিত্রে আবির্ভূত হয়েছেন। ব্রতীর মাধ্যমে তিনি সমাজের সকল বিভেদের প্রাচীরকে চূর্ণ করে সমতার জয়গান গেয়েছেন।
FAQ
১. ‘হাজার চুরাশির মা’ উপন্যাসের পটভূমি কী?
নকশালবাড়ি আন্দোলন ও তৎকালীন সামাজিক-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এ উপন্যাসের প্রধান পটভূমি।
২. ‘হাজার চুরাশির মা’ নামকরণের কারণ কী?
ব্রতীর লাশ মর্গে ১০৮৪ নম্বর হিসেবে শনাক্ত হওয়ায় তার মা সুজাতা ‘হাজার চুরাশির মা’ নামে পরিচিত হন।
৩. সুজাতা কে?
সুজাতা উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র এবং ব্রতীর মা।
৪. ব্রতীর চরিত্র কেমন?
ব্রতী ছিল আদর্শবাদী ও বিপ্লবী তরুণ, যে শোষিত-বঞ্চিত মানুষের অধিকার নিয়ে সংগ্রাম করেছিল।
৫. নন্দিনী কে?
নন্দিনী ছিল ব্রতীর সহযোদ্ধা ও প্রেমিকা এবং শোষণমুক্ত সমাজের স্বপ্নে বিশ্বাসী একজন বিপ্লবী চরিত্র।
আরো পড়ুন
- চাকা নাটকের বিষয়বস্তু: রাজনীতিক পটভূমি, গ্রামীণ সংস্কৃতি, অভেদাত্মক জীবন
- চোখের বালি উপন্যাসের বিষয়বস্তু
- কৃষ্ণকান্তের উইল উপন্যাসের বিষয়বস্তু, চরিত্র বিশ্লেষণ ও নামকরণের সার্থকতা
- গোরা উপন্যাস এর অসাম্প্রদায়িকতা ও জাতীয়তাবাদ
- আবুল হাসানের পৃথক পালঙ্ক কাব্য’র প্রেম ও বিরহ চেতনা
- দ্বিতীয় দিনের কাহিনী উপন্যাসে মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশ
- গীতাঞ্জলি কাব্য’র আধ্যাত্মিকতা ও মানবপ্রেম।
- অগ্নিবীণা কাব্য’র আলোকে কাজী নজরুল ইসলামের বিদ্রোহী চেতনা
- সোনার তরী কাব্য’র প্রকৃতি ও সৌন্দর্য প্রেম
- বনলতা সেন কাব্য’র চিত্ররূপকল্পময়তা
- নবান্ন নাটকের বিষয়বস্তু, নামকরণের সার্থকতা ও চরিত্র বিশ্লেষণ
Md Oliur Rahman Sohag বাংলা সাহিত্য, বাংলা ব্যাকরণ, কবি-সাহিত্যিক জীবনী এবং শিক্ষামূলক বিষয় নিয়ে লেখালেখি করেন। তিনি Study Journal X-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান কনটেন্ট লেখক।
