স্কলারশিপ একজন শিক্ষার্থীর রঙিন ভবিষ্যৎ গড়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আমাদের দেশে অনেক মেধাবী ছাত্র-ছাত্রী আছে যারা অর্থ এবং পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধার অভাবে তাদের কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনা। আমাদের দেশে উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণার পর্যাপ্ত সুযোগ না থাকায় অনেক শিক্ষার্থী বিদেশের দারস্ত হয়। কিন্তু কিভাবে স্কলারশিপ পেতে হয়? কিভাবে আবেদন করতে হয়? কখন আবেদন করতে হয়? কি কি যোগ্যতা লাগে? এসব বিষয় জ্ঞান না থাকায় অনেকের স্বপ্ন থাকা সত্ত্বেও স্কলারশিপ পায়না? তাই এই আর্টিকেলে বিদেশে স্কলারশিপ কিভাবে পাওয়া যায়, কখন স্কলারশিপ পাওয়া যায়, কি কি যোগ্যতা লাগে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

স্কলারশিপ কি?
স্কলারশিপ হল মেধাবী শিক্ষার্থীদের এক ধরনের আর্থিক সহযোগিতা যেটা তার মেধা উপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়। স্কলারশিপকে বাংলায় শিক্ষাবৃত্তি বলা হয়। স্কলারশিপ সাধারণত দুই ধরনের। ফুল স্কলার্শিপ আর আংশিক স্কলারশিপ। ফুল স্কলারশিপে একজন শিক্ষার্থীর সম্পূর্ণ খরচ কর্তৃপক্ষ বহন করে। আংশিক স্কলারশিপে শিক্ষার্থীর পড়াশোনার খরচ আংশিকভাবে বহন করে। স্কলারশিপের মাধ্যমে বিদেশে গিয়ে বহু নামিদামি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ার সুযোগ থাকে। ফলে গবেষণা ও জ্ঞান বিজ্ঞান চর্চার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা অনেক এগিয়ে যায়।
বিদেশে স্কলারশিপ কিভাবে পাওয়া যায়
স্কলারশিপ সাধারণত দুই সময় পাওয়া যায়। ইন্টারমিডিয়েটের পরে অনার্স করার জন্য স্কলারশিপ পাওয়া যায়। আবার অনার্স শেষে মাস্টার্স ও পিএইচডি করার জন্য স্কলারশিপ পাওয়া যায়। যে সময়ে স্কলার্শিপ এর জন্য আবেদন করবেন তখন প্রয়োজনীয় সেই সব কাগজপত্র জমা দিতে হবে। দুই সময়ের আবেদন প্রসেস ভিন্ন। যে রিকোয়ারমেন্ট গুলো তারা দেবে সেগুলো সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে। স্কলারশিপ পেতে গেলে অবশ্যই আগে থেকে স্কলারশিপ নিয়ে বিস্তারিত ধারণা রাখতে হবে।
এইচএসসি শেষে স্কলারশিপ কিভাবে পাবেন
এসএসসি বা ইন্টারমিডিয়েটের পরে অনার্স করার জন্য স্কলারশিপ পাওয়ার জন্য অবশ্যই নিজের কোয়ালিটি বাড়াতে হবে। ইন্টারমিডিয়েট থেকেই নিজের দক্ষতা ও জ্ঞান বাড়াতে হবে।
১. Scholastic Assessment Test
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা সহ বিভিন্ন দেশের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় স্কলারশিপ পেতে গেলে তারা Scholastic Assessment Test (SAT) স্কোর চায়। তাই ইন্টারমিডিয়েট থেকে SAT মার্ক অর্জন করার দিকে মনোযোগ দিতে হবে।
২. IELTS
বিদেশে স্কলারশিপ পাওয়ার জন্য সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ইংরেজি জানা। এজন্য IELTS করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইন্টারমিডিয়েট থেকেই IELTS স্কোর বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিতে হবে।
৩. সামাজিক বা সেচ্ছাসেবকমূলক কাজের সনদ
বিভিন্ন সামাজিক বা সেচ্ছাসেবকমূলক কাজের সাথে নিজেকে সংযুক্ত রাখতে হবে। এসব সংগঠন থেকে দেওয়া সনদ সাবমিট করলে বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকে
৪. রেকমেন্ডেশন লেটার
কলারশিপ এর জন্য আরেকটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল রিকমেন্ডেশন লেটার।। এলাকার যেকোনো শিক্ষক বা স্বনামধন্য ব্যক্তি যিনি আপনাকে চেনেন তার মাধ্যমে একটি রেকমেন্ডেশন লেটার লিখে নিতে হবে। তিনি যেন আপনার ভালো গুণগুলো এখানে তুলে ধরেন।
ইন্টারমিডিয়েট থেকে এসব বিষয়গুলো নিয়ে নিজেকে গড়ে তুললে অবশ্যই স্কলারশিপ পাওয়া সম্ভব।
অনার্স শেষে কিভাবে স্কলারশিপ পাওয়া যায়
মাস্টার্স বা পিএইচডি করার জন্য বিভিন্ন দেশের কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্কলারশিপ এর মাধ্যমে শিক্ষার্থী নেয়। গবেষণার বা পিএইচডি করার জন্য বিদেশে পাওয়ার অনেক সুযোগ রয়েছে। এজন্য সবদিকে খেয়াল রাখতে হবে। অনার্স লাইফ থেকেই নিজেকে স্কলারশিপ পাওয়ার মত করে গড়ে তুলতে হবে।
১. স্কলারশিপ পাওয়ার ক্ষেত্রে সবথেকে বেশি ভূমিকা রাখে গবেষণা। যে বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করছেন সে বিষয়ের উপর বেশ কিছু গবেষণাপত্র প্রকাশ করতে হবে। বাংলাদেশ তথা ইন্টারন্যাশনাল বহু জার্নাল আছে যেখানে এই গবেষণা পত্র গুলো প্রকাশ করতে হবে। গবেষণাপত্র দেখে আপনার মান যাচাই করবে তারা। এ জন্য অনার্স লাইফ থেকে গবেষণার দিকে ফোকাস দিতে হবে।
২. স্কলারশিপ পাওয়ার জন্য IELTS বা TOFEL অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা আপনার ইংরেজি দক্ষতাকে বেশি গুরুত্ব দেবে। এজন্য অনার্স লাইফ থেকে IELTS ও TOFEL এর দিকে ফোকাস রাখতে হবে। IELTS স্কোর বেশি থাকলে আপনার স্কলারশিপ পাওয়া সম্ভব না তত বেশি।
৩. স্কলারশিপ পাওয়ার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা খুবই প্রয়োজনীয় একটি বিষয়। এজন্য আপনি যে বিষয়ের উপর স্কলারশিপ নিতে চাচ্ছেন সে বিষয়ের উপর অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হবে। অনার্স লাইফ থেকেই ফিল্ডে ইন্টার্নশীপ করতে হবে। এটা আপনার স্কলারশিপের সুযোগকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
৪. স্নাতকোত্ত পর্যায়ে স্কলারশিপ পেতে গেলে রেকমেন্ডেসন লেটার করলে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এজন্য আপনি যে শিক্ষকের নিকট গবেষণা করেছেন তার থেকে একটি রেকমেন্ডেশন লেটার নিবেন।
৫. শিক্ষার পাশাপাশি এক্সট্রা অর্ডিনারি কারিকুলাম এক্টিভিস্ট সাথে জড়িত থাকতে হবে। শুধু পড়াশোনা না পড়াশুনোর বাইরে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন বা শ্বেচ্ছাসেবক মূলক কাজের সাথে জড়িত থাকতে হবে। এবং সেখানকার সনদপত্র সংগ্রহ করতে হবে।
স্কলারশিপ পাওয়ার ওয়েবসাইট
স্কলারশিপ পাওয়ার জন্য আপনাকে আপডেট থাকতে হবে। প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ওয়েবসাইট ঘুরে দেখতে হবে কোথায় স্কলারশিপের জন্য বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। নিচের এই ওয়েবসাইটগুলোতে আপনি প্রতিনিয়ত স্কলারশিপের আপডেট জানতে পারবেন।
- Scholarships.com
- Scholars4dev
- Fastweb
- Scholarshipportal
- International Scholarships
- scholarships365.info
স্কলারশিপের জন্য কেমন রেজাল্ট প্রয়োজন
স্কলারশিপের জন্য সিজিপি এর পাশাপাশি আপনার দক্ষতা যাচাই করা হয়। আপনার ইংরেজিতে কথা বলার ধরন, লেখা ধরন এসব বিষয়গুলোকে তারা খুবই গুরুত্ব সহকারে দেখে। একেক বিশ্ববিদ্যালয় একেক রকমের সিজিপিএ চাই। তাই নির্দিষ্ট করে বলা যায় না কেমন সিজিপিএ লাগবে। তবে অবশ্যই আপনাকে ভালো করে পড়তে হবে কারণ একটি ভাল স্কলারশিপের জন্য সিজিপিএ ম্যাটার করে। ভালো রেজাল্টের পাশাপাশি আপনার পারিপার্শ্বিক দক্ষতা দেখে আপনাকে স্কলারশিপ দেবে। এজন্য সিজিপি এর পাশাপাশি IELTS বা TOFEL, এক্সট্রাডিনারি কারিকুলাম, থিসিস সবকিছুই গুরুত্ব সহকারে দেখতে হবে।
গুরুত্বপূর্ণ কি কিছু বিষয় মনে রাখতে হবে
ভর্তির জন্য যাবতীয় কাগজপত্র ও রেকমেন্ডেশন লেটার নকল দেওয়া যাবে না সম্পূর্ণ অথেন্টিক তাই দিতে হবে। গবেষণাপত্র অবশ্যই ইন্টারন্যাশনাল মানে কোন জার্নালে প্রকাশ করতে হবে এবং থিসিসের কোন অংশই কপি বা নকল করা যাবে না। সম্পূর্ণ নিজের মেধা থেকে লিখতে হবে। অতিরঞ্জিত কিছু করা যাবে না। আপনার জ্ঞান ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে স্কলারশিপ পেতে হবে।
বিদেশ স্কলারশিপ পাওয়ার জন্য নিজেকে তৈরি করতে হবে। নিজের কোয়ালিটি দক্ষতা জ্ঞান বাড়াতে হবে। ইংরেজিতে দক্ষতা অর্জন করতে হবে এবং এক্সট্রা অর্ডিনারি কারিকুলাম অ্যাক্টিভিটির সাথে যুক্ত থাকতে হবে। সামাজিক বা সেচ্ছাসেবক মূলক সংগঠনের সাথে জড়িত থাকতে হবে। যদি খেলাধুলো ভালো পারে তাহলে তাকে সে বিষয়ে বিভিন্ন সনদপত্র অর্জন করতে হবে। আর সবচাইতে বেশি ফোকাস দিতে হবে নিজের পড়াতে। কারণ স্কলারশিপের জন্য একটি ভালো সিজিপিএ খুবই প্রয়োজন।
FAQ
১. বিদেশে স্কলারশিপ পেতে কী কী লাগে?
ভালো ফলাফল, ভাষাগত দক্ষতা, SOP, সুপারিশপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র লাগে।
২. বিদেশে স্কলারশিপের জন্য IELTS কি জরুরি?
সব স্কলারশিপে নয়, তবে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রোগ্রামে IELTS বা সমমানের ইংরেজি দক্ষতার প্রমাণ লাগে।
৩. ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপে কী কী সুবিধা পাওয়া যায়?
সাধারণত টিউশন ফি, থাকা-খাওয়া, ভ্রমণ ও অন্যান্য শিক্ষাসংক্রান্ত খরচের সহায়তা পাওয়া যায়।
৪. স্কলারশিপের আবেদন কোথায় করতে হয়?
সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি সংস্থা বা স্কলারশিপ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে আবেদন করতে হয়।
৫.কম GPA নিয়ে বিদেশে স্কলারশিপ পাওয়া সম্ভব?
কিছু স্কলারশিপে কম GPA থাকলেও অন্যান্য যোগ্যতা ও শক্তিশালী আবেদন দিয়ে সুযোগ পাওয়া সম্ভব।
আরো পড়ুন
- 51th Bcs English Best suggestion, ১০০% কমন উপযোগী
- ৫১ তম Bcs বাংলা Best সাজেশন |100% চূড়ান্ত প্রস্তুতির জন্য
- ১৯ তম শিক্ষক নিবন্ধনের চূড়ান্ত সিলবাস, Best সাজেশন,গাইডলাইন
- ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি কিভাবে শুরু করবেন?
- গুচ্ছ ভর্তি পরিক্ষার যোগ্যতা ও গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার বিস্তারিত তথ্য
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি: মানবণ্টন, সিলেবাস ও সাজেশন
- গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি, মানবন্টন, সিলেবাস, সাজেশন ও সকল তথ্য






