আধুনিক বাংলা সাহিত্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সৃষ্টি হলো উপন্যাস। উপন্যাসের মাধ্যমে মানুষের মনস্তাত্ত্বিক দিক ও চিন্তাচেতনা গভীরভাবে ফুটে ওঠে। উপন্যাসকে সমাজের দর্পণ বলা হয়। কারণ এতে মানুষের জীবনচিত্র, সমাজ, রাজনীতি, অর্থনীতি, দর্শন ও সংস্কৃতি স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। প্রথম সার্থক উপন্যাস রচনা করেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। রবীন্দ্রনাথসহ বিভিন্ন ঔপন্যাসিকের হাতে বাংলা উপন্যাস পূর্ণতা অর্জন করে। এরপর বহু উপন্যাস রচিত হয়েছে। তবে দেশভাগ-পরবর্তী উপন্যাস বাংলা সাহিত্যে একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে। এ সময় বাংলা উপন্যাসের সর্বোচ্চ বিকাশ ও উৎকর্ষ ঘটে। এই আর্টিকেলে দেশভাগ পরবর্তী বাংলা উপন্যাস (১৯৪৭-১৯৭১) সম্পর্কে আলোচনা করা হল।

দেশভাগ পরবর্তী বাংলা উপন্যাসের বিষয়বস্তু
দেশভাগের পরে পূর্ব পাকিস্তানের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। এখানকার মানুষ সবদিক থেকেই বৈষম্যের শিকার হতে থাকে। এরপর সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসে ভাষার ওপর। ভাষার ওপর আঘাত বাঙালিরা মেনে নেয়নি। তারা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে ভাষাকে রক্ষা করেছিল। তারপর ছয় দফা, সামরিক শাসক, গণঅভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ বাংলা সাহিত্যকে প্রভাবিত করেছিল। এসব ইতিহাস উঠে আসে দেশভাগ-পরবর্তী উপন্যাসে। তাই ১৯৪৭ সালের পর থেকে পাকিস্তান রাষ্ট্রে পূর্ব-বাংলার বাঙালির অধিকার নানাভাবে খর্ব হলে জনমত সৃষ্টি হয়। এ অঞ্চলের সমাজের ভেতর থেকে তৈরি হয় মধ্যবিত্ত শ্রেণি। যারা সর্বদা অধিকার সম্পর্কে সচেতন। এরাই প্রধানত লেখক, আন্দোলনকারী, অধিকার-সচেতন সুশীল সমাজ, পেশাজীবী, বুদ্ধিজীবী। তারা শিল্পের বিষয়কেই রাজনীতি মনে করেন। আত্ম-অস্তিত্ব ও ভাষাভিত্তিক চেতনার জাগরণ, গণঅভ্যুত্থান ও নির্বাচন পরিক্রমায় উপন্যাসের প্রধান বিষয় মধ্যবিত্ত শ্রেণি।
দেশভাগ পরবর্তী বাংলা উপন্যাস ও উপন্যাসিক
১. অদ্বৈত মল্লবর্মণ
‘তিতাস একটি নদীর নাম’ তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস। তিনি দেশভাগ-পরবর্তী উপন্যাসের একজন গুরুত্বপূর্ণ লেখক। অদ্বৈত মল্লবর্মণ নিজে মালো পরিবারের সন্তান। উপন্যাসে সেই মালো জীবনেরই চিত্রায়ণ। ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ উপন্যাসে ‘তিতাস’ নিজেই এর চরিত্র। উপন্যাসে তিতাস-অনুবর্তী জনগোষ্ঠী, বিশেষত কৌমসংস্কৃতি, বহমান জীবনের আকুতি সামগ্রিক শর্তে, পরম মমতায় তুলে এনেছেন লেখক। তিতাসই মালোপাড়ার ভাগ্য নির্ধারণ করে। তাদের সমস্ত প্রেরণা বা হতাশা ওই তিতাস। তিতাস শুকিয়ে গেলে সবকিছুতেই ধস নামে। আবার সুসময়ে এই তিতাসই তাদের গর্ব। এই একটি উপন্যাস লিখেই অদ্বৈত মল্লবর্মণ বাংলা সাহিত্যে চিরবরেণ্য।
- ‘তিতাস একটি নদীর নাম’
২. আবুল মনসুর আহমেদ
আবুল মনসুর আহমেদ রচিত দীর্ঘায়ত উপন্যাস ‘জীবন-ক্ষুধা’। এটি তাঁর মৌলিক রচনা। ‘জীবন-ক্ষুধা’ উপন্যাস একদিকে যেমন ব্যক্তি মানুষের পরিপ্রেক্ষিতকে উন্মোচন করে, অন্যদিকে তেমন তার সম্ভাব্য সত্যকে ও নৈর্ব্যক্তিক প্রতিষ্ঠা দেয়। এছাড়াও তাঁর অন্যান্য উপন্যাসের বিষয়বস্তু হয়ে উঠেছে মুসলিম সমাজ। জীবন, প্রেম (শরীরহীন প্রেম), রোমান্টিকতা তাঁর লেখার বিষয়। আবার মধ্যবিত্ত শ্রেণি নিয়েও তিনি লিখেছেন। তাঁর উপন্যাস-
- ‘সত্যমিথ্যা’
- ‘আবে হায়াত’
৩. সত্যেন সেন
বিভাগ-পরবর্তী বাংলা সাহিত্যে একজন অন্যতম উপন্যাসিক সত্যেন সেন। তাঁর উপন্যাসের মূল বিষয় ছিল ইতিহাস, সমাজ, রাজনীতি, দেশপ্রেম ইত্যাদি। তিনি মূলত মানবমুক্তির লক্ষ্যে সাহিত্যচর্চা করে গেছেন। তাঁর ‘অভিশপ্ত নগরী’ উপন্যাসে ইহুদি সমাজের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে ক্ষমতা ও ধর্মের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলেছে। ‘অভিশপ্ত নগরী’র দ্বিতীয় খণ্ড ‘পাপের সন্তান’। এই উপন্যাসেও তিনি ইহুদি সমাজের ইতিহাস ও কাহিনি তুলে ধরেছেন। ‘‘বিদ্রোহ কৈবর্ত’ তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত ও উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে একটি হচ্ছে। ‘বিদ্রোহ কৈবর্ত’ এই উপন্যাসে কৈবর্ত বিদ্রোহের নায়ক দিব্বোকের শৌর্যবীর্য তুলে ধরা হয়েছে। কৈবর্ত বিদ্রোহের ইতিহাস পাওয়া যায় এই উপন্যাসে। তাঁর উপন্যাস হলো:
- অভিশপ্ত নগরী
- পাপের সন্তান
- বিদ্রোহ কৈবর্ত
- পদচিহ্ন
- এ কূল ভাঙে ও কূল গড়ে
- আলবেরুনী
- কুমার জীবন
৪. আকবর হোসেন
দেশভাগ-পরবর্তী সময়ে একজন অন্যতম বিখ্যাত উপন্যাসিক আকবর হোসেন। তাঁর উপন্যাসে সমাজ, রাজনীতি, অর্থনীতি, ইতিহাস ইত্যাদি উঠে এসেছে। বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী শ্রেণির শোষণও তাঁর উপন্যাসে ফুটে উঠেছে। নারী-পুরুষের বৈষম্য, লৈঙ্গিক অসমতা তাঁর উপন্যাসে দেখা গেছে। তাঁর উপন্যাস হলো:
- অবাঞ্ছিত
- কি পাইনি
- মোহমুক্তি
- ঢেউ জাগে
- দু’দিনের খেলা
- মেঘ বিজলী বাদল
- নতুন পৃথিবী
৫. শওকত ওসমান
বাংলা উপন্যাসের জাদুকর বলা হয় শওকত ওসমানকে। তাঁর উপন্যাস আঙ্গিক ও গুণের বিচারে অন্যদের থেকে আলাদা। বিচিত্রধর্মী উপন্যাস রচনা করেছেন তিনি। তাঁর উপন্যাসে বাংলার সঙ্গে আরবি, ফারসি বিভিন্ন ভাষার মেলবন্ধন ঘটেছে। তাঁর উপন্যাসে সমাজ, রাজনীতি, অর্থনীতি, দেশপ্রেম ইত্যাদি বিষয়গুলো উঠে এসেছে।
তাঁর ‘জননী’ উপন্যাসে জননী দাঁড়িয়াবিবির মর্মান্তিক ইতিহাস। তাঁর স্বামী আজহার খান নিরুদ্দেশ হয়ে গেছে। এই সুযোগে ধনাঢ্য ইয়াকুব দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে তাকে গর্ভবতী করে। ফলে সে মাতৃত্বের অধিকার হারায়। তার বড় ছেলে মোনাদির তাকে রেখে চলে যায়। অনাগত নিষ্পাপ সন্তান জন্ম দিয়ে দাঁড়িয়াবিবি আত্মহত্যা করে। এই উপন্যাসে মাতৃত্বের মহিমার পাশাপাশি বাঙালি মুসলিম সমাজে নারীর প্রতি অবহেলা ও অবমাননার দৃষ্টি ফুটে উঠেছে।
‘বনি আদম’ উপন্যাসে আদমসন্তানের দুঃখ-দুর্দশা ও তাদের সংগ্রামের চিত্র তুলে ধরেছেন শওকত ওসমান। ‘ক্রীতদাসের হাসি’ উপন্যাসে শওকত ওসমান আইয়ুব খানের স্বৈরশাসনকে ব্যঙ্গ করে বাদশা হারুনুর রশিদের আরব্য কাহিনি তুলে ধরেছেন। হারুনুর রশিদের সঙ্গে তিনি আইয়ুব খানের তুলনা করেছেন এবং তাতারীর মাধ্যমে মুক্তিকামী বাঙালির দৃঢ়তা ও সংগ্রামী মনোভাব ব্যক্ত করেছেন। ‘নেকড়ে অরণ্য’, ‘দুই সৈনিক’, ‘জলাঙ্গী’ উপন্যাসে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের সময়কার ঘটনা বর্ণনা করেছেন। তাঁর উপন্যাস:
- জননী
- বনি আদম
- ক্রীতদাসের হাসি
- নেকড়ে অরণ্য
- দুই সৈনিক
- জলাঙ্গী
- জাহান্নাম হইতে বিদায়
৬. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
বাংলা সাহিত্যের একজন অন্যতম শক্তিশালী উপন্যাসিক সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ। তাঁর উপন্যাসে ধর্মীয় কুসংস্কার, গোড়ামি, অন্ধত্ব, ধর্মের নামে মিথ্যা ইত্যাদি বিষয়গুলো উঠে এসেছে। তাঁর উপন্যাসে সামাজিক বিভিন্ন সমস্যা ফুটে উঠেছে। তাঁর উপন্যাস ছিল মধ্যবিত্ত শ্রেণিকেন্দ্রিক।
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর ‘লালসালু’ একটি বৃহৎ সামাজিক সমস্যামূলক উপন্যাস। এই উপন্যাসে ভণ্ড ধর্মব্যবসায়ী মজিদের চরিত্রের প্রমাণ পাওয়া যায়। সে কীভাবে একটি পরিত্যক্ত কবরস্থানকে পীরের মাজার বলে গ্রামে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয় এবং সমাজের নিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠে, সেটিই এই উপন্যাসে দেখা গেছে। ধর্মের নামে মিথ্যা বলে সে মানুষের সঙ্গে প্রতারণার জাল বিছিয়ে ছিল এই উপন্যাসে।
‘চাঁদের অমাবস্যা’ একটি মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস। এই উপন্যাসে আরিফ আলী জ্যোছনা রাতে আক্কাসকে মাঝির বউকে ধর্ষণ ও খুন করতে দেখে। তারপর তার মনে মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব চলতে থাকে। সে পুলিশকে ঘটনা খুলে বলবে কি বলবে না, বললে তার চাকরি থাকবে কি থাকবে না, এরকম মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব ও মধ্যবিত্তের টানাপোড়েন দেখা যায়। তাঁর উপন্যাস:
- ‘লালসালু’
- ‘চাঁদের অমাবস্যা’
- ‘কাঁদো নদী কাঁদো’
৭. আবু রুশদ মতিনউদ্দিন
আবু রুশদ মতিনউদ্দিনের উপন্যাসের বিষয় ছিল নস্টালজিয়া, স্মৃতি ও প্রেম। তিনি চাকরিসূত্রে দেশের বহু স্থানে ঘুরেছেন। ফলে সেখানকার আর্থসামাজিক অবস্থা উপন্যাসে তুলে ধরেছেন। উপন্যাসের বিষয়-বৈচিত্র্যে অনন্য তাঁর উপন্যাসগুলো হলো:
- সামনে নতুন দিন
- ডোবা হল দীঘি
- নোঙর
৮. কাজী আফসার উদ্দিন আহমদ
কাজী আফসার উদ্দিন আহমদের উপন্যাসের মূল বিষয় হলো মাটি ও শিকড়কেন্দ্রিক। তিনি মাটি ও শিকড়ের টানে উপন্যাস লিখেছেন। তাঁর উপন্যাসে নদ-নদী, এছাড়া বাংলার প্রকৃতি ও সমুদ্র উঠে এসেছে। তাঁর উপন্যাসগুলো হলো:
- নোনা পানির ঢেউ
- চর ভাঙার চর
- বাতাসী
- ইডেনের মেয়ে সায়লা
- কলাবতী কন্যা
- কবরী লস্কর
- অমর যৌবন
- সুরের আগুন
- নীড় ভাঙা ঝড়
৯. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘কাশবনের কন্যা’। ‘কাশবনের কন্যা’ উপন্যাসের পটভূমি দক্ষিণ বাংলার সমুদ্রোপকূলবর্তী জনজীবন। মূল চরিত্র কানু শিকদার এবং নায়িকা জোবেদা উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র। এছাড়া তাঁর ‘আলমনগরের উপকথা’ উপন্যাস একটি মননমুগ্ধ রচনা। তাঁর অন্যতম উপন্যাস ‘কাঞ্চনগ্রাম’। তাঁর উপন্যাস:
- কাশবনের কন্যা
- কাঞ্চনগ্রাম
- আলমনগরের উপকথা
১০. আব্দুর রাজ্জাক
আব্দুর রাজ্জাক ‘কন্যাকুমারী’ উপন্যাসের লেখক। এই একটি উপন্যাসের মাধ্যমে তিনি পূর্ব-বাংলায় প্রখ্যাত কথাশিল্পী হিসেবে পরিচিতি পান। ‘কন্যাকুমারী’ উপন্যাসে পরিশুদ্ধ মধ্যবিত্তের টিকে থাকার সমাজচিত্রটি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। তাঁর উপন্যাস:
- কন্যাকুমারী
- বঁধুয়ার লাগি
১১. শহীদুল্লাহ কায়সার
বাংলা সাহিত্যের কালজয়ী কথাসাহিত্যিক শহীদুল্লাহ কায়সার। তাঁর উপন্যাসে দেশের আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক বিভিন্ন প্রেক্ষাপট উঠে এসেছে। ১৯৪৩-এর দুর্ভিক্ষ, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গা, দেশভাগ, ভাষা আন্দোলনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তাঁর উপন্যাসে উঠে এসেছে। তাঁর অন্যতম একটি বিখ্যাত উপন্যাস ‘সংশপ্তক’। উপন্যাসটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, ৪৩-এর দুর্ভিক্ষ, হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গা, দেশভাগ, ভাষা আন্দোলন ইত্যাদি প্রেক্ষাপটে রচিত হয়েছে। ‘সারেং বউ’ উপন্যাসে দক্ষিণ অঞ্চলের সমুদ্রতীরবর্তী মানুষের জীবন ও আচার উঠে এসেছে। তাঁর উপন্যাস:
- সারেং বউ
- সংশপ্তক
- লেখক কৃষ্ণচূড়া মেঘ
- কুসুমের কান্না
- কবে পোহাবে বিভাবরী
১২. আনোয়ার পাশা
বাংলা সাহিত্যের অন্যতম আরেকজন উপন্যাসিক আনোয়ার পাশা। তাঁর উপন্যাসে পাকিস্তানের জন্ম এবং দেশভাগের বিভিন্ন ইতিহাস উঠে এসেছে। ‘নীড় সন্ধানী’ উপন্যাসে পাকিস্তান জন্মের পরবর্তী নয় বছরের ইতিহাস ঘটনাক্রমে উঠে এসেছে। ‘রাইফেল রোটি আওরাত’ উপন্যাসে তিনি পাকিস্তানি বাহিনীর নির্মমতার চিত্র তুলে ধরেছেন। রাইফেল অর্থ আগ্নেয়াস্ত্র, রুটি অর্থাৎ ক্ষুধা আর আওরাত অর্থ নারীর রুচিবোধ। তাঁর উপন্যাস:
- নীড় সন্ধানী
- রাইফেল রোটি আওরাত
- নিষুতি রাতের গাঁথা
১৩. আলাউদ্দিন আল আজাদ
আলাউদ্দিন আল আজাদের উপন্যাসে মধ্যবিত্ত শ্রেণির হতাশা, নাগরিক জীবনের ক্লান্তি, ক্ষোভ এবং যৌনতাশ্রয়ী প্রেমের বিষয় উঠে এসেছে। তাঁর অন্যতম একটি বিখ্যাত উপন্যাস ‘তেইশ নম্বর তৈলচিত্র’। এই উপন্যাসে জাহিদের প্রেম, যৌনতা ও মনস্তাত্ত্বিক বিষয় দেখানো হয়েছে। এছাড়াও তাঁর অন্যতম আরেকটি উপন্যাস ‘ক্ষুধা ও আশা’। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও মন্বন্তরের প্রেক্ষাপটে এই উপন্যাসটি রচিত। তাঁর উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র
- ক্ষুধা ও আশা
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম
- খসড়া কাগজ
- শ্যামল ছায়ার সংবাদ
১৪. জহির রায়হান
বাংলা সাহিত্যের অন্যতম বিখ্যাত ও জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক জহির রায়হান। ‘শেষ বিকেলের মেয়ে’ তাঁর অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ উপন্যাস। উপন্যাস না বলে উপন্যাসিকা বললেও ভুল হয় না। তাঁর আরেকটি বিখ্যাত উপন্যাস ‘হাজার বছর ধরে’। এই উপন্যাসে গ্রামীণ জীবনের কাহিনি সহজ ভাষায় উঠে এসেছে। ‘আরেক ফাল্গুন’ ভাষা আন্দোলনভিত্তিক একটি অন্যতম বিখ্যাত উপন্যাস। তাঁর উপন্যাস:
- শেষ বিকেলের মেয়ে
- হাজার বছর ধরে
- আরেক ফাল্গুন
FAQ
১. দেশভাগ-পরবর্তী বাংলা উপন্যাসের প্রধান বিষয় কী?
দেশভাগ-পরবর্তী বাংলা উপন্যাসে সমাজ, রাজনীতি, অর্থনীতি, ভাষা আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির জীবনসংগ্রাম প্রধান বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে।
২. ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ উপন্যাসে কোন জনগোষ্ঠীর জীবনচিত্র ফুটে উঠেছে?
অদ্বৈত মল্লবর্মণের ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ উপন্যাসে তিতাস নদীকে কেন্দ্র করে মালো সম্প্রদায়ের জীবন, সংস্কৃতি, দুঃখ-কষ্ট ও সংগ্রামের চিত্র ফুটে উঠেছে।
৩. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর ‘লালসালু’ উপন্যাসের মূল বিষয় কী?
‘লালসালু’ উপন্যাসে ধর্মীয় কুসংস্কার, গোড়ামি, ধর্মের নামে প্রতারণা এবং গ্রামীণ সমাজে ধর্মব্যবসায়ীর প্রভাব তুলে ধরা হয়েছে।
৪. শহীদুল্লাহ কায়সারের ‘সংশপ্তক’ উপন্যাসে কোন ঐতিহাসিক ঘটনাগুলো উঠে এসেছে?
‘সংশপ্তক’ উপন্যাসে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, ১৯৪৩-এর দুর্ভিক্ষ, হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গা, দেশভাগ ও ভাষা আন্দোলনের মতো ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট উঠে এসেছে।
৫. জহির রায়হানের ‘আরেক ফাল্গুন’ কী বিষয়ভিত্তিক উপন্যাস?
‘আরেক ফাল্গুন’ ভাষা আন্দোলনভিত্তিক একটি বিখ্যাত উপন্যাস। এতে ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বাঙালির সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের চিত্র ফুটে উঠেছে।
আরো পড়ুন
- তিরিশের দশকের কবি ও কবিতার প্রবণতা, বৈশিষ্ট্য ও ইতিহাস
- বাংলা গদ্যের উদ্ভব ও বিকাশ: ইতিহাস, বৈশিষ্ট্য ও ক্রমবিকাশ
- মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস মনে রাখার কৌশল, গুরুত্বপূর্ণ উপন্যাসের তালিকা
- মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক কবিতা, বিখ্যাত কবি ও কবিতার তালিকা
- ষাটের দশকের কবি ও কবিতা এবং স্যাড জেনারেশন
- বাংলা ছোটগল্প: স্বাধীনতা পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ছোটগল্প ও গল্পকার (১৯৭১-২০১৫)
- সংশপ্তক উপন্যাসের বিষয়বস্তু, চরিত্র বিশ্লেষণ ও পটভূমি বিশ্লেষণ
- চল্লিশের দশকের কবি ও কবিতার ধারা
- বাংলা সাহিত্যের যুগ বিভাগ
- পঞ্চাশের দশকের কবি ও কবিতা
- তিতাস একটি নদীর নাম উপন্যাসের বিষয়বস্তু ও সমাজ-জীবন।
Md Oliur Rahman Sohag বাংলা সাহিত্য, বাংলা ব্যাকরণ, কবি-সাহিত্যিক জীবনী এবং শিক্ষামূলক বিষয় নিয়ে লেখালেখি করেন। তিনি Study Journal X-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান কনটেন্ট লেখক।
