Skip to main content

Study Journalx

বাংলা সাহিত্যের কালজয়ী কথাসাহিত্যিক শহীদুল্লাহ কায়সার (১৯২৭–১৯৭১)। তিনি একাধারে সাংবাদিক, কথাসাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী ও রাজনীতিবিদ ছিলেন। তাঁর লেখায় রাজনৈতিক ও মানবিক চেতনার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। তিনি বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সাহিত্যে তিনি মানবতাকে সবার ঊর্ধ্বে স্থান দিয়েছেন। এই ধারার একটি কালজয়ী লেখা হলো ‘সংশপ্তক’ উপন্যাস। এই মহান বুদ্ধিজীবী ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় নিখোঁজ হন এবং পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে শহীদ হন। এই আর্টিকেলে সংশপ্তক উপন্যাসের বিষয়বস্তু, চরিত্র বিশ্লেষণ ও পটভূমি আলোচনা করা হল।

 

 

সংশপ্তক উপন্যাসের বিষয়বস্তু

বাংলা সাহিত্যের এক মহাকাব্যিক উপন্যাস ‘সংশপ্তক’। এই উপন্যাসটি রচিত হয় ১৯৬৪ সালে এবং ১৯৬৫ সালে এটি প্রকাশিত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, ১৯৪৩-এর দুর্ভিক্ষ, দেশভাগ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ইত্যাদির প্রেক্ষাপটে উপন্যাসটি রচিত হয়েছে। এতে তৎকালীন সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট গভীরভাবে ফুটে উঠেছে। ১৯৩৮ থেকে ১৯৫১ সাল পর্যন্ত প্রায় দুই দশকের পূর্ববঙ্গের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিবর্তনের এক জীবন্ত মহাকাব্যিক দলিল হলো ‘সংশপ্তক’।

এই উপন্যাসে শহীদুল্লাহ কায়সার তৎকালীন সমাজের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, ধর্মব্যবসা, সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থা, কালোবাজারি, ১৯৪৩-এর দুর্ভিক্ষ এবং সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার মতো বিষয়গুলো নির্ভীকচিত্তে ফুটিয়ে তুলেছেন। গ্রামীণ ক্ষয়িষ্ণু জমিদার ও সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থার যাঁতাকলে গরিব মানুষের নির্যাতিত হওয়ার চিত্র এবং এই ব্যবস্থা থেকে মুক্তির সংগ্রাম উপন্যাসটিতে দেখা গেছে। দুর্ভিক্ষের ফলে লাখ লাখ মানুষ না খেয়ে মারা যাওয়ার দৃশ্যও এই উপন্যাসে ফুটে উঠেছে। সর্বোপরি, এই উপন্যাসে তৎকালীন সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার চিত্র স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। ‘সংশপ্তক’ তৎকালীন সমাজবাস্তবতার একটি জীবন্ত দলিল।

‘সংশপ্তক’ উপন্যাসে তৎকালীন পূর্ববঙ্গের সামাজিক প্রেক্ষাপট তীব্রভাবে ফুটে উঠেছে। উপন্যাসে দুটি গ্রামের সামাজিক প্রেক্ষাপট বিশেষভাবে ফুটে উঠেছে, বাকুলিয়া ও তালতলি। বাকুলিয়া গ্রামের সৈয়দ পরিবার এবং তালতলি গ্রামের ক্ষয়িষ্ণু সামন্ত মিঞা পরিবারকে কেন্দ্র করে এই উপন্যাসের সামাজিক প্রেক্ষাপট এগিয়েছে।উপন্যাসের শুরুতেই আমরা হুরমতির সালিশ দেখতে পাই। তার অবৈধ সন্তান প্রসবের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই সালিশ বসে। হুরমতি ফেলু মিঞার বাড়ির কাজের লোক। তার দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ফেলু মিঞা এবং তার নায়েব রমজান তাকে গর্ভবতী করে। নিজের সম্মান বাঁচাতে ফেলু মিঞা সালিশের নাটক করে এবং হুরমতির কপালে গরম ছ্যাঁকা দেয়। এখানে আমরা হুরমতির অসহায়ত্ব দেখতে পাই। এর মাধ্যমে গ্রামীণ সমাজে নারীর প্রতি অত্যাচার ও নিপীড়নের চিত্র ফুটে উঠেছে।

এখানে আমরা হুরমতির মাধ্যমে সমাজের অসহায় ও সর্বহারা মানুষের টিকে থাকার লড়াই দেখি। হুরমতির মাধ্যমে সমাজের নারীর প্রতি অবহেলা ও নির্যাতনের চিত্র দেখি। এই উপন্যাসের সামাজিক বাস্তবতা সম্পর্কে অধ্যাপক ড. মহীবুল আজিজ বলেছেন,

 

“শহীদুল্লাহ কায়সারের উপন্যাসে সমাজ ও ইতিহাস-চেতনার সমন্বিত প্রকাশ ঘটেছে।” (বাংলাদেশের উপন্যাসে গ্রামীণ নিম্নবর্গ, ড. মহীবুল আজিজ)

 

সংশপ্তক উপন্যাসে গ্রামীণ সমাজের প্রেক্ষাপটে আমরা দেখি ধর্মব্যবসা ও পীরদের প্রতি অন্ধ বিশ্বাস, কুসংস্কার। সৈয়দ বংশের ছোট সৈয়দ ছিলেন কুসংস্কারপন্থী ও পীরবিশ্বাসী। তার একমাত্র মেয়ে রাবুকে বৃদ্ধ পীর মুজাদ্দেদীর সঙ্গে বিয়ে দেয়।  উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র জাহেদ তার ছোট চাচার ওপর চড়াও হয়। সে তার চাচা ও পীরের ওপর হামলা করে। ফলে তারা পালিয়ে যায়। জাহেদ উপন্যাসের এক মানবিক চরিত্র। সে ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত। আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সে পড়াশোনা শেষ করেছে। সে ধর্মের থেকে মানবতাকে বেশি প্রাধান্য দিয়েছে।

“আমি প্রথমে মানুষ, তার পরে মুসলিম। ধর্মের জন্য মানুষ নয়, মানুষের জন্য ধর্ম।” (জাহেদ, সংশপ্তক, শহীদুল্লাহ কায়সার) 

এর মাধ্যমে জাহেদে চরিত্রের মানবিক দিক ফুটে ওঠে। তাকে মানবতার প্রতীক বললেও ভুল হয় না। দেশের জন্যও তার হৃদয়ে অগাধ ভালোবাসা।

‘সংশপ্তক’ উপন্যাসের তৎকালীন সামাজিক প্রেক্ষাপটে দেখা যায় নারীর প্রতি অবহেলা ও নির্যাতন, ধর্মীয় কুসংস্কার এবং পীরের দৌরাত্ম্য। এছাড়াও ফেলু মিঞা ও রমজানের মাধ্যমে প্রহসনমূলক বিচারব্যবস্থা, ক্ষয়িষ্ণু জমিদারি প্রথা ইত্যাদির চিত্র এই উপন্যাসে ফুটে উঠেছে। গ্রামীণ রাজনীতিকে কেন্দ্র করে জমিদার ও সামন্ত শ্রেণির দৌরাত্ম্যও এই উপন্যাসের অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে। অসহায় মানুষের প্রতি চরম অবহেলার চিত্রও এখানে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হয়েছে।

‘সংশপ্তক’ উপন্যাসের অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটের মধ্যে রয়েছে বুর্জোয়া শ্রেণির উত্থান ও শোষণ, ১৯৪৩-এর দুর্ভিক্ষ, কালোবাজারি এবং চোরাচালান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও ১৯৪৩-এর দুর্ভিক্ষের ভয়াবহ বাস্তবতা এতে ফুটে উঠেছে। বিশ্বযুদ্ধের ফলে কৃত্রিম দুর্ভিক্ষের সৃষ্টি হয়। ১৯৪৩ সালের এই দুর্ভিক্ষে লাখ লাখ মানুষ মারা যায়। এ সময় এক শ্রেণির অসাধু মানুষ কালোবাজারি ও চোরাচালান শুরু করে। তারা খাদ্য মজুত করতে থাকে। কালোবাজারির মাধ্যমে তারা রাতারাতি ধনী হয়ে যায়। উপন্যাসে এই শ্রেণির অন্যতম প্রতিনিধি হলো কানকাটা রমজান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় রমজান কালোবাজারি শুরু করে এবং একই সঙ্গে নারী পাচার করে। এভাবে সে রাতারাতি ধনী হয়ে ওঠে।

“ক্ষমতা থাকলে সবই সম্ভব।” (রমজান, সংশপ্তক, শহীদুল্লাহ কায়সার)

 

ক্ষমতার মাধ্যমে রমজান সকল অর্থনৈতিক কাঠামো নিজের আয়ত্তে নিয়ে নেয়। সে অর্থের জন্য সবকিছু করতে পারে। কালোবাজারির মাধ্যমে সে বিপুল সম্পদের মালিক হয়। গ্রামের দরিদ্র কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষকে বঞ্চিত করে সে সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলে। মানুষের সম্পত্তি জোর করে কেড়ে নেয়। এভাবে সে দুঃশাসনের সাম্রাজ্য গড়ে তোলে। তার মতে,

“এ দুনিয়ায় দুর্বলদের কোনো স্থান নেই।” (রমজান, সংশপ্তক, শহীদুল্লাহ কায়সার)

 

এখানে তার জোর করে সবকিছু দখল করার মনোভাব প্রতিফলিত হয়েছে। এমনকি সে জোর করে ফেলু মিঞার জমিদারি নিয়ে নেয়। রমজান তখন তালতলি গ্রামের জমিদার হয়। জমিদার ফেলু মিঞা সেই লজ্জায় তালতলি ছেড়ে শ্বশুরবাড়িতে আশ্রয় নেন।

ক্ষমতা ও অর্থ দখলের জন্য সে নিষ্ঠুর হয়ে যায়। অর্থের জন্য সে সবকিছু করতে পারে। উপন্যাসে তার নিষ্ঠুরতার চিত্র দেখা যায়। বিশ্বযুদ্ধ ও দুর্ভিক্ষের প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে কালোবাজারি, নারী পাচার ও চোরাচালানের মতো ঘৃণ্য কাজ করতে সে এক মুহূর্তের জন্যও ভাবেনি। সে কালোবাজারি ও নারী পাচার করে অঢেল সম্পত্তির মালিক হয়। অন্যদিকে, সাধারণ গরিব মেহনতি মানুষ অভাবের মুখে গ্রাম ছেড়ে কলকাতায় চলে যায়। যেমন, মালু চরম অভাবে গ্রাম ছেড়ে কলকাতায় গিয়ে খালাসির কাজ নিতে বাধ্য হয়। এভাবে তৎকালীন সময়ে রমজানের মতো মানুষ সমাজের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করত।

‘সংশপ্তক’ উপন্যাসের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের মধ্যে রয়েছে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা এবং ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন। ভারতবর্ষের স্বাধীনতা থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধের আগ পর্যন্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক ঘটনা এই উপন্যাসে স্থান পেয়েছে। উপন্যাসে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রভাবও স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। এই উপন্যাসের প্রধান নারী চরিত্র রাবু। সে জীবনকে নতুন করে গুছিয়ে নিতে কলকাতায় চলে যায়। সেখানে পড়াশোনা করে চাকরি করে স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যখন চারদিকে পরিস্থিতি ভয়াবহ, তখন রাবু আশ্রয়শিবিরগুলোতে স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব পালন করে। এর মাধ্যমে উপন্যাসে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা দৃশ্যমান হয়েছে। লেখক দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এই উপন্যাসে জীবন্তভাবে তুলে ধরেছেন। এই বিশ্বযুদ্ধের ঢেউ গ্রামীণ জীবনকেও স্পর্শ করেছিল। তাই উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রভাবের ছাপ স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

‘সংশপ্তক’ উপন্যাসে রাজনৈতিক চেতনা প্রবল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ঘটনা ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন এই উপন্যাসেও তীব্র হয়ে উঠেছে। এই আন্দোলনে জাহেদ যোগ দেয়। জাহেদের ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে উপন্যাসে তৎকালীন রাজনৈতিক পটভূমি উঠে এসেছে। জাহেদ তার বন্ধু সেকেন্দার মাস্টারকে চিঠি দিয়ে এ সম্পর্কে জানায়। সে এ দেশের মানুষকে অভাগা বলেছে, কারণ ভারত স্বাধীন হলেও দাঙ্গা-হাঙ্গামা লেগেই ছিল। এরপর শুরু হয় পাকিস্তানের গোলামি। এ কারণেই সে বাঙালি জাতিকে অভাগা জাতি হিসেবে অভিহিত করেছে।

চল্লিশের দশকের মাঝামাঝি সময়ের হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গার কালো অধ্যায় এই উপন্যাসে উঠে এসেছে। মালু মেসে থাকার সময় হিন্দুদের ওপর আক্রমণ হয় এবং মুসলমানদের দ্বারা হিন্দুদের বাড়িতে আগুন দেওয়ার মতো ঘটনা তৎকালীন সাম্প্রদায়িক রাজনীতির নোংরা রূপকে এই উপন্যাসে তুলে ধরেছে।

কিন্তু এর বিপরীত চরিত্র জাহেদ। সে সমাজ ও মেহনতি মানুষের মুক্তির স্বপ্ন দেখে। এই উপন্যাসে জাহেদ একটি মানবিক চরিত্র। তার মাধ্যমে উপন্যাসে মানবতার চিত্র ফুটে উঠেছে। সে বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। সমাজের সকল অন্ধত্ব ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে তার সংগ্রাম। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা-হাঙ্গামার বিরুদ্ধেও সে লড়াই করে। এর মাধ্যমে এই উপন্যাসে লেখক মানবতার জয়গান গেয়েছেন।

দেশভাগের পর পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের নতুন লড়াই শুরু হয় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ও এর পূর্ববর্তী রাজনৈতিক অস্থিরতা এই উপন্যাসের অন্তিম প্রসঙ্গ হয়ে উঠেছে। এ সময় ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বাংলার রাজনৈতিক অঙ্গন অস্থির হয়ে ওঠে। এ সময় আবার জাহেদের মতো বিপ্লবীরা লড়াইয়ে নামে। বারবার জেল-জুলুমও তাদের দমাতে পারে না। এর মাধ্যমে আমরা এই উপন্যাসে ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট দেখতে পাই। এরই ধারাবাহিকতায় জাহেদ বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। ফলে তাকে নিজ গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার হতে হয়। পুলিশ যখন তাকে নিয়ে যায়, তখন সে রাবুকে বলে,

“চিন্তা করিসনে রাবু, আমি ফিরে আসবো।” (জাহেদ, সংশপ্তক, শহীদুল্লাহ কায়সার) 

 

এই উক্তিটি জাহেদের নয়, এটি তৎকালীন বাংলার শোষিত মানুষের উক্তি। এর মাধ্যমে উপন্যাসে তৎকালীন রাজনৈতিক পটভূমি ফুটে উঠেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকে শুরু করে ভাষা আন্দোলন পর্যন্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক ঘটনা ও অস্থিরতার চিত্র এই উপন্যাসে তুলে ধরা হয়েছে।

পরিশেষে বলা যায়, শহীদুল্লাহ কায়সারের ‘সংশপ্তক’ শুধু ক্ষয়িষ্ণু সমাজের নিস্পৃহ বিবরণ নয়, বরং এটি ভাঙাগড়ার দোলাচলে দুলতে থাকা এক অবিনাশী জনপদের মহাকাব্যিক আখ্যান। লেখক অতি নিপুণভাবে দেখিয়েছেন, কীভাবে ঔপনিবেশিক শোষণ, সামন্তবাদের নিষ্ঠুর থাবা, ১৯৪৩-এর দুর্ভিক্ষ এবং দেশভাগের সাম্প্রদায়িক আগুন বাঙালিকে বারবার ক্ষতবিক্ষত করেছে। কিন্তু সেই ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকেই জন্ম নিয়েছে এক নতুন চেতনা।

 

 

FAQ

১. ‘সংশপ্তক’ উপন্যাসে কোন কোন সামাজিক সমস্যা তুলে ধরা হয়েছে?
নারীর প্রতি অবহেলা ও নির্যাতন, ধর্মীয় কুসংস্কার, পীরের দৌরাত্ম্য, প্রহসনমূলক বিচারব্যবস্থা এবং ক্ষয়িষ্ণু জমিদারি প্রথার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

২. ‘সংশপ্তক’ উপন্যাসে অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট কীভাবে ফুটে উঠেছে?
বুর্জোয়া শ্রেণির উত্থান ও শোষণ, ১৯৪৩-এর দুর্ভিক্ষ, কালোবাজারি, চোরাচালান এবং দরিদ্র কৃষক-শ্রমজীবী মানুষের বঞ্চনার মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট ফুটে উঠেছে।

৩. কানকাটা রমজান ‘সংশপ্তক’ উপন্যাসে কীভাবে ধনী হয়ে ওঠে?
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় রমজান কালোবাজারি, নারী পাচার ও চোরাচালানের মতো কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অঢেল সম্পত্তির মালিক হয়ে ওঠে।

৪. ‘সংশপ্তক’ উপন্যাসে জাহেদ চরিত্রের বৈশিষ্ট্য কী?
জাহেদ একজন মানবিক ও ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত চরিত্র। সে বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং সমাজের অন্ধত্ব, কুসংস্কার ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে।

৫. ‘সংশপ্তক’ উপন্যাসে কোন কোন রাজনৈতিক ঘটনার চিত্র পাওয়া যায়?
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মতো রাজনৈতিক ঘটনা ও অস্থিরতার চিত্র উপন্যাসে ফুটে উঠেছে।

 

 

তথ্যসূত্র / References

  • মূল উপন্যাস: কায়সার, শহীদুল্লা (১৯৬৫); সংশপ্তক, ঢাকা।
  • সমালোচনা গ্রন্থ: ড. শাহীদ ইকবাল; বাংলাদেশের উপন্যাস: বিষয় ও শিল্পরূপ, বাংলা একাডেমি, ঢাকা।

 

 

আরো পড়ুন