আমার পথ প্রবন্ধে কাজী নজরুল ইসলাম এক ‘আমি’-কে আহ্বান করেছেন, যে সত্য প্রকাশে নির্ভীক। এই প্রবন্ধে নজরুল মানুষের ভেতরের সত্যকে তুলে আনতে চেয়েছেন। সত্য পথে পরিচালিত হওয়ার জন্য মানুষকে আহ্বান করেছেন। তিনি বলেছেন, সত্য প্রকাশ করতে না পারলে পরনির্ভরশীলতা তৈরি হয়, ব্যক্তিত্বের সংকট তৈরি হয়। তাই সত্য প্রকাশের জন্য তিনি ভেতরের আমিত্বকে জাগিয়ে তুলতে চেয়েছেন এই প্রবন্ধে। তিনি ভুল করতে রাজি, কিন্তু ভণ্ডামি করতে নয়। ভুলকে ঠিক বলে চালিয়ে দেওয়াই ভণ্ডামি। এই ভণ্ডামি থেকে আমাদের বিরত থাকতে বলেছেন। তাই তিনি এখানে সেই আমিত্বকে আহ্বান করেছেন, যে আমিত্ব মানুষের অন্তরের সকল ভণ্ডামিকে দূর করে আলোর পথ দেখায়। এই আটিকেলে আমার পথ প্রবন্ধের মূলভাব ও জ্ঞানমূলক প্রশ্ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হল।

আমার পথ প্রবন্ধের লেখক কাজী নজরুল ইসলাম
বাংলা সাহিত্যের এক অনন্য ব্যক্তিত্ব কাজী নজরুল ইসলাম, যিনি সত্য প্রকাশের জন্য সব সময় নির্ভীক ছিলেন। অন্যায়, অত্যাচার ও শোষণের বিরুদ্ধে তাঁর কলম সবসময় হাতিয়ার হয়ে উঠেছিল। ছেলেবেলা থেকেই তাঁর জীবন ছিল ঘটনাবহুল ও বৈচিত্রময়। তিনি বাংলা সাহিত্যের বিদ্রোহী কবি। তাঁর কবিতায় অসাম্প্রদায়িক চেতনা, সাম্যবাদী চিন্তা এবং ব্রিটিশদের ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ দেখা যায়। তিনি কখনো অন্যায়কে মেনে নেননি। তাঁর উপন্যাসগুলো হলো
- মৃত্যুক্ষুধা
- কুহেলিকা
- বাঁধনহারা
এবং তাঁর গল্পগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে
- ব্যথার দান
- রিক্তের বেদন
- শিউলিমালা
মাত্র ৪৩ বছর বয়সে তিনি দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হলে ১৯৭২ সালে তাঁকে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয় এবং তাঁকে বাংলাদেশের জাতীয় কবি হিসেবে উপাধি দেওয়া হয়। ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। তাঁকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে সমাধিস্থ করা হয়।
আমার পথ প্রবন্ধের মূলভাব
কাজী নজরুল ইসলামের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ হলো আমার পথ। এই প্রবন্ধে নজরুল মানুষের ভেতরের সকল ভণ্ডামি ও অন্ধত্বকে দূর করে আলো জ্বালাতে চেয়েছেন। তিনি সমাজের মানুষের সকল ভণ্ডামি এবং তাদের ভেতরে যে অন্ধত্ব আছে, সেটা দূর করতে চেয়েছেন। নিজের সত্যকে সালাম জানিয়ে তিনি বলেন, আমার সত্য কখনো আমাকে বিপথে নিয়ে যাবে না। তিনি নিজের সত্যকে সবসময় সামনে রেখে সকল অন্ধত্ব দূর করতে চেয়েছেন।
তিনি নিজের সত্যকে চেনার কথা বলেছেন। আমরা যদি আমাদের নিজেদের সত্যকে চিনি, তাহলে কোনো মিথ্যাই আমাদেরকে বিপথে নিয়ে যেতে পারবে না। আমাদের মনে যদি সত্যের জোর থাকে, তাহলে কোনো মিথ্যাই আমাদের বিপথে নিয়ে যেতে পারবে না। তিনি নিজের সত্যকে নিজের পথপ্রদর্শক বলেছেন।
লেখক আমাদেরকে আত্মনির্ভরশীল হতে বলেছেন, অর্থাৎ পরনির্ভরশীলতা থেকে মুক্তি পেয়ে নিজের অন্তরকে স্বাধীন এবং স্বনির্ভর হতে বলেছেন। তিনি সকল গোলামি এবং ভণ্ডামি থেকে নিজের অন্তরকে দূর করে স্বাধীন এবং স্বাবলম্বী হওয়ার কথা বলেছেন। গোলামি থেকে আমাদেরকে দূরে থাকতে বলেছেন, কারণ গোলামি মানুষের অন্তরকে ছোট করে দেয়। গোলামির কারণে ভারতবর্ষ পরাধীন হয়েছিল, তাই তিনি এই গোলামিকে তীব্রভাবে ঘৃণা করেছেন।
তিনি এই প্রবন্ধে বলেছেন, “আমি ভুল করতে রাজি, কিন্তু ভণ্ডামি করতে নয়।” অর্থাৎ তিনি ভুল করলেও সেই ভুলকে স্বগর্বে স্বীকার করে নিতে বলেছেন। তিনি মানুষকে সবার উপরে রেখেছেন। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষকেই সবার উপরে গুরুত্ব দিয়েছেন। তাই তিনি ধর্মীয় বন্ধন ভুলে সবাইকে এক হয়ে যাওয়ার আহ্বান করেছেন এই প্রবন্ধে। তিনি মানবতার জয়গান গেয়েছেন। এই প্রবন্ধে মানবসত্যের কথা তিনি তুলে ধরেছেন।
কাজী নজরুল ইসলামের অন্যতম বিখ্যাত একটি প্রবন্ধ আমার পথ। এই প্রবন্ধে তিনি সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে যুক্তিনিষ্ঠুর বিচার করেছেন। নিজের সত্যকে সবার সামনে রেখেছেন। সত্য ও ন্যায় মানুষকে মানুষ হিসেবে বিবেচনা করে, কিন্তু মিথ্যা মানুষের অন্তরকে মেরে ফেলে। প্রবন্ধটি আমাদের শিক্ষা দেয়, জীবনে চলার পথে সব সময় সত্য ও ন্যায়কে অবলম্বন করে চলতে হবে।
আমার পথ প্রবন্ধের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন
১. আমার পথ প্রবন্ধটি কোন প্রবন্ধগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে?
রুদ্র মঙ্গল।
২. আমার পথ প্রবন্ধের লেখক কে?
কাজী নজরুল ইসলাম।
৩. তিনি কত সালে জন্মগ্রহণ করেন?
১৮৯৯ সালের ২৫শে মে (১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৩০৬ বঙ্গাব্দ)।
৪. তিনি সেনাবাহিনীতে যোগদান করেছিলেন কত সালে?
১৯১৭ সালে।
৫. কত বছর বয়সে তিনি দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে বাকশক্তি হারান?
৪৩ বছর বয়সে।
৬. তিনি কত সালে মৃত্যুবরণ করেন?
১৯৭৬ সালের ২৯শে আগস্ট।
৭. তাঁকে কোথায় কবর দেওয়া হয়?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে।
৮. আমার কর্ণধর কে?
আমি।
৯. আমার পথ দেখাবে কে?
আমার সত্য।
১০. আমার পথ চলার আগে আমি কাকে সালাম জানাচ্ছি, কাকে নমস্কার করছি?
আমার সত্যকে।
১১. কোন ভয় আমাকে বিপথে নিয়ে যেতে পারবে না?
রাজভয়, লোকভয়।
১২. কে মিথ্যাকে ভয় করে?
যার মনে মিথ্যা।
১৩. অনেক সময় খুব বেশি বিনয় দেখাতে গিয়ে কী অস্বীকার করা হয়?
নিজের সত্যকে।
১৪. নিজের উপর অটুট বিশ্বাস করতে শেখাচ্ছিলেন কে?
মহাত্মা গান্ধীজি।
১৫. ‘আমি আছি’ এই কথা না বলে সবাই কী বলতে লাগলেন?
‘গান্ধীজি আছেন’।
১৬. কী আমাদের নিষ্ক্রিয় করে ফেলে?
পরাবলম্বন।
১৭. কী করলে আত্মনির্ভরশীলতা আসে?
আত্মাকে চিনলে।
১৮. কোন দিন আমরা স্বাধীন হব?
যেদিন আত্মনির্ভরশীলতা আসবে।
১৯. এই আত্মনির্ভরশীলতা কী নিয়ে আসে?
মনে একটা ‘ডোন্ট কেয়ার’ ভাব।
২০. যাদের মনে এই দম্ভ আছে, তারা কী করতে পারে?
অসাধ্য সাধন করতে।
২১. কিসের মধ্য দিয়ে গিয়ে সত্যকে পাওয়া যায়?
ভুলের মধ্য দিয়ে।
২২. কোন ধর্ম সবচেয়ে বড় ধর্ম?
মানবধর্ম।
২৩. কে অন্যের ধর্মকে ঘৃণা করতে পারে না?
যার নিজের ধর্মের প্রতি বিশ্বাস আছে।
২৪. কুর্নিশ মানে কী?
সম্মান প্রদর্শন।
২৫. মেকি মানে কী?
মিথ্যা।
আরো পড়ুন
- বিড়াল প্রবন্ধ’র মূলভাব, Best 40 টি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর
- রেইনকোট গল্প’র মূলভাব ও Best 50 টি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর
- অপরিচিতা গল্প‘র, Best 40 টি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর ও মূলভাব
- HSC বাংলা ১ম পত্র Best সাজেশন 2026, গুরুত্বপূর্ণ সব অধ্যায়
- Hsc বাংলা ২য় পত্র best সাজেশন ২০২৬
- মাসি পিসি গল্প’র সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর,HSC+Admisson Best1
- চাষার দুঃখ প্রবন্ধ: মূলভাব ও Best 50 সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর HSC
Md Oliur Rahman Sohag বাংলা সাহিত্য, বাংলা ব্যাকরণ, কবি-সাহিত্যিক জীবনী এবং শিক্ষামূলক বিষয় নিয়ে লেখালেখি করেন। তিনি Study Journal X-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান কনটেন্ট লেখক।
