Skip to main content

Study Journalx

বাংলা সাহিত্যের ধর্মীয় কুসংস্কার ও বৃহৎ সামাজিক সমস্যা মূলক একটি কালজয়ী উপন্যাস ‘লালসালু’। ধর্মকে পুঁজি করে কিভাবে একটি সমাজে নিজের প্রভাব বিস্তার করা যায়, সেটা এই উপন্যাসে দৃশ্যমান হয়েছে। ভণ্ড ধর্মব্যবসায়ী মজিদ মহব্বতনগরের মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে নিজের দুঃশাসনের রাজত্ব কায়েম করার বিবরণই ‘লালসালু’ উপন্যাস। নিজের স্বার্থের জন্য হাতিয়ার হিসেবে ধর্মকে ব্যবহার করে মজিদ গ্রামের প্রভাবশালী খালেক ব্যাপারী থেকে শুরু করে প্রতিটি মানুষকে নিজের আয়ত্তে নিয়ে আসে।

এইচএসসি ও এডমিশন প্রার্থীদের জন্য লালসালু উপন্যাসটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ও অত্যাবশ্যকীয় অধ্যায়। কারণ এই উপন্যাস থেকে অবশ্যই প্রশ্ন আসে। এই আর্টিকেলে লালসালু উপন্যাসের মূলভাব ও জ্ঞানমূলক প্রশ্ন-উত্তর নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। বিগত বিভিন্ন সালের প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে এবং উপন্যাসের খুটিনাটি তথ্য এই আর্টিকেলে তুলে ধরা হয়েছে। আশা করি এটা ভালো ভাবে পড়লে এই উপন্যাস নিয়ে আর কোনো সমস্যা থাকবে না।

লালসালু উপন্যাসের মূলভাব

 

‘লালসালু’ উপন্যাসের লেখক সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ

বাংলা সাহিত্যের কালজয়ী কথাসাহিত্যিক সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ (১৯২২-১৯৭১)। তার লেখায় উঠে এসেছে সামাজিক সমস্যা, ধর্মীয় কুসংস্কার, গোঁড়ামি, মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব, অস্তিত্ববাদ ও পরাবাস্তববাদ। তিনি বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা নিয়ে লেখালেখি করেছেন। ধর্মের আগে তিনি মানবতাকে প্রাধান্য দিয়েছেন। বাংলা কথাসাহিত্যকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীতকরণের তাঁর অবদান ছিল অনেক বেশি। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তিনি প্যারিসে থেকে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। তার সাহিত্যকর্মগুলো হল:

উপন্যাস:

  • লালসালু (১৯৪৮)
  • চাঁদের অমাবস্যা (১৯৬৪)
  • কাঁদো নদী কাঁদো (১৯৬৮)

গল্পগ্রন্থ:

  •  নয়নচারা (১৯৪৪)
  •  দুই তীর ও অন্যান্য গল্প (১৯৬৫)

নাটক: 

  • বহিপীর (১৯৬০)
  • তরঙ্গভঙ্গ (১৯৬৪)
  • সুড়ঙ্গ (১৯৬৪)

 

লালসালু উপন্যাসের মূলভাব বিশ্লেষণ

লালসালু উপন্যাসের শুরুতে মজিদ নামের এক ব্যক্তির অলৌকিক আগমন ঘটে মহব্বতনগর গ্রামে। মতিগঞ্জ সড়কের পাশে তাহের ও কাদের তাকে মোনাজাত করতে দেখে। তারপর সে মহব্বতনগরে প্রবেশ করে। খালেক ব্যাপারীর বাড়িতে সবাইকে একজায়গায় করে তাদের অশিক্ষিত বলে গালমন্দ করে। আরও বলে মোদাচ্ছের পীরের মাজারকে তারা অযত্নে অবহেলায় ফেলে রেখেছে। পীর স্বপ্নের মাধ্যমে তাকে এই মাজার তদারকির জন্য বলেছেন।

এখান থেকেই মজিদের মহব্বতনগরে রাজত্বের সূচনা হয়। সাথে সাথে পরিত্যক্ত ভাঙা কবর পরিষ্কার করে লালসালু দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। ঝাড়বাতি, আগরবাতি, মোমবাতি দিয়ে সাজানো হয়। দলে দলে মানুষ এসে টাকা, পয়সা, হাঁস-মুরগি দান করে। দেখতে দেখতে মজিদের অস্তিত্বসংকট কেটে যায়। টাকা পয়সা, জমিজমার মালিক হয়ে যায়। বিবাহ করে রহিমা নামের এক বিধবা নারীর সাথে। সেও মজিদকে খুবই ভক্তি করে।

ধীরে ধীরে মজিদ মহব্বতনগরের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে প্রভাবশালী খালেক ব্যাপারী থেকে শুরু করে প্রতিটি মানুষকে নিজের কবজায় নিয়ে আসে ধর্মকে পুঁজি করে। গ্রামের সালিশ বিচারে সে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে। তার নির্দেশে খালেক ব্যাপারী তার প্রথম স্ত্রীকে তালাক দেয়। এছাড়াও আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত আক্কাসের স্কুল প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন ভেঙে দেয় মজিদ নিজের স্বার্থের জন্য। কারণ স্কুলে পড়ার কারণে গ্রামের মানুষ যদি সচেতন হয়ে যায়, সে জন্য আক্কাসের স্কুল প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন ভেঙে দেয় মজিদ। এভাবে ধর্মের দোহাই দিয়ে মজিদ গ্রামের মানুষকে শোষণ ও শাসন করতে থাকে।

লালসার তৃপ্তি মেটাতে মজিদ দ্বিতীয় বিয়ে করে কমবয়সী জামিলাকে। কিন্তু জামিলা মজিদের অলৌকিক শক্তি ও তার মাজারের শক্তি কিছুই বিশ্বাস করত না। মাজার, কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাসকে তোয়াক্কা করত না জামিলা। মজিদের মুখে সে থুথু নিক্ষেপ করে। মজিদের বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিবাদ করে জামিলা। এজন্য মাজারের সাথে সারারাত জামিলাকে বেঁধে রাখে মজিদ। সকালে উঠে দেখে জামিলার পা মাজারের উপর। এভাবে জামিলা হয়ে ওঠে এই উপন্যাসের প্রতিবাদের প্রতীক।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর একটি অন্যতম কালজয়ী উপন্যাস লালসালু। তিনি সকল ধর্মীয় গোঁড়ামি, কুসংস্কার, ধর্মের নামে ব্যবসা ইত্যাদি সমাজ থেকে দূর করতে চেয়েছিলেন। মানুষের সবচাইতে দুর্বল জায়গা হলো ধর্ম। তাই ধর্ম নিয়ে যদি কেউ কোনো কথা বলে, তাহলে সাধারণ মানুষ এটা বিশ্বাস করতে দ্বিধাবোধ করে না। এই সুযোগটাকে কাজে লাগায় মজিদ। মানুষকে ধর্মের দোহাই দিয়ে সে মহব্বত নগরের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয় এবং সমাজকে নিয়ন্ত্রণ করে। টাকা-সম্পত্তি লুট করতে তার এক মুহূর্ত ভাবতে হয়নি। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ এই উপন্যাসের মাধ্যমে ধর্মীয় সমাজ থেকে দূর করতে চেয়েছিলেন, সে বিষয়টি এই উপন্যাসের পরতে পরতে ভেসে উঠেছে।

 

 

লালসালু উপন্যাসের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন-উত্তর

 

১. লালসালু উপন্যাসের লেখক কে? 

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্

 

২. তার পিতার নাম কী? 

সৈয়দ আহমদউল্লাহ।

 

৩. তিনি কত সালে জন্মগ্রহণ করেন? 

১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট।

 

৪. তিনি কোথায় জন্মগ্রহণ করেন? 

চট্টগ্রামে।

 

৫. তিনি কত সালে মৃত্যুবরণ করেন? 

১৯৭১ সালের ১০ অক্টোবর।

 

৬. তিনি কোথায় মৃত্যুবরণ করেন? 

প্যারিসে

 

৭. কর্মসূত্রে তিনি কোথায় কোথায় কর্মরত ছিলেন? 

নয়াদিল্লি, সিডনি, জাকার্তা ও লন্ডনে।

 

৮. তাঁর প্রথম গল্পগ্রন্থ কোনটি? 

নয়নচারা (১৯৫১)

 

৯. তাঁর প্রথম উপন্যাস কোনটি? 

লালসালু (১৯৪৮)

 

১০. তাঁর স্ত্রী কে? 

ফরাসি রমণী অ্যান মারি

 

১১. তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস ‘লালসালু’ কোন কোন ভাষায় অনূদিত হয়েছে? 

ফরাসি ও ইংরেজি।

 

১২. ‘লালসালু’ উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় কবে? 

১৯৪৮ সালে

 

১৩. এই উপন্যাসটির উর্দু অনুবাদ কোথা থেকে প্রকাশিত হয়? 

করাচি থেকে (‘Lal Shalu’ নামে)।

 

১৪. ‘লালসালু’ উপন্যাসটির উর্দু অনুবাদক কে? 

কলিমুল্লাহ

 

১৫. ‘লালসালু’ কোন ধরনের উপন্যাস? 

সামাজিক সমস্যামূলক উপন্যাস

 

১৬. শস্যের চেয়ে কি বেশি? 

টুপি

 

১৭. ধর্মের চেয়ে কি বেশি? 

আগাছা

 

১৮. ন্যাংটা ছেলেটাও কি পড়ে? 

আমসিপাড়া

 

১৯. বিস্তৃত ধানক্ষেতের এক প্রান্তে কে? 

তাহের ও কাদের

 

২০. একটু পরেই কি মুখ হা করে ভেসে ওঠে? 

একটি বৃহৎ রুই

 

২১. জমিকে তারা কিসের মতো ভাগ করে ফেলে? 

দাবার ছকের মতো

 

২২. তাহের ও কাদের কনিষ্ঠ ভাই কে? 

রতন

 

২৩. দূর জঙ্গলে কী ডাকে? 

বাঘ

 

২৪. নিরাক পড়েছে কখন? 

শ্রাবণের শেষাশেষি

 

২৫. দিগন্ত পর্যন্ত স্থির হয়ে আছে কি? 

তামাটে নীলাভ রং

 

২৬. বিস্তৃত ধানক্ষেতের এক প্রান্তে কারা আছে? 

তাহের ও কাদের

 

২৭. একসময় ঘুরতে ঘুরতে তাহেরদের নৌকা কোন সড়কের কাছে এসে পড়ে? 

মতিগঞ্জের

 

২৮. নিরাকপড়া আকাশ কাকে পাথরের মূর্তিতে রূপান্তরিত করেছে? 

অপরিচিত লোকটিকে (মজিদকে)

 

২৯. অপরিচিত লোকটিকে দেখে অবাক হয়ে চেয়ে দেখে কারা? 

তাহের ও কাদের

 

৩০. মোনাজাত শেষ করে অপরিচিত লোকটি কোন দিকে হাঁটতে থাকে? 

উত্তর দিকে

 

৩১. উত্তর দিকে খানিকটা এগিয়ে কোন গ্রাম? 

মহব্বতনগর

 

৩২. মহব্বতনগরে মজিদের প্রবেশটা কেমন? 

নাটকীয়

 

৩৩. সলেমানের বাবা কিসের রোগী? 

হাঁপানী

 

৩৪. মজিদ কোথায় ছিল? 

গারো পাহাড়ে, মধুপুর গড় থেকে ৩ দিনের পথ

 

৩৫. “অমনি করে হাঁটতে নাই।” কে, কাকে বলে? 

মজিদ, রহিমাকে

 

৩৬. খোদা তা’আলার রহস্যময় দিগন্ত কার অন্তরে বিদ্যুতের মতো ঝিলিক দিয়ে ওঠে? 

রহিমার।

 

৩৭. কোন মাসের শীত খোলা মাঠে হাড় কাঁপায়? 

অগ্রহায়নের

 

৩৮. মাছের পিঠের মতো কবরটি কী দ্বারা আবৃত হলো? 

ঝালরওয়ালা সালু কাপড় দ্বারা

 

৩৯. পানি সরে এলেও জমিতে কচুরিপানা জড়িয়ে থাকে কোন মাসে? 

কার্তিক মাসে

 

৪০. কোচ বিদ্ধ হয়ে নিহত হয় কে? 

ছমিরুদ্দিন

 

৪১. সালু কাপড়ে ঢাকা কবরটি কেমন? 

রহস্যময়

 

৪২. “কলমা জানো মিঞা?” মজিদ কাকে এ কথা জিজ্ঞেস করে? 

সাত ছেলের বাপ দুদু মিঞাকে

 

৪৩. দুদু মিঞার সাথে কে এসেছিল? 

এক ছেলে

 

৪৪. “কলমা জানস না ব্যাটা?” উক্তিটি কার? 

খালেক ব্যাপারীর

 

৪৫. খালেক ব্যাপারী গ্রামে একটি কী দিয়েছে? 

মক্তব

 

৪৬. মজিদের শক্তির মূল উৎস কী? 

মাজার

 

৪৭. কার বাপ মরণরোগ যন্ত্রণা পাচ্ছে? 

ছুনুর বাপ

 

৪৮. কে পক্ষাঘাতে কষ্ট পাচ্ছে? 

খেতানির মা

 

৪৯. কয় গ্রাম পরে বড় নদী? 

চার গ্রাম

 

৫০. “শরীলে রং ধরছে ক্যান, নিকা করবি নাকি?” উক্তিটি কার? 

তাহেরের

 

৫১. কে এককালে উড়ুনি মেয়ে ছিল? 

বুড়ি

 

৫২. কোনটি বড় ভয়ানক বস্তু? 

মানুষের রসনা

 

৫৩. কত হিজরিতে প্রিয় পয়গম্বরের বাণী এল? 

৫ম

 

৫৪. মজিদের শক্তি প্রতিফলিত হয় কার উপর? 

রহিমার

 

৫৫. কেঁপে ওঠা মোমবাতির আলোয় ঝলমল করে ওঠে কী? 

রূপালি ঝালর

 

৫৬. নবীজি (স.) কার বিরুদ্ধে লড়াই করে প্রত্যাবর্তনকালে বিবি আয়েশা (রা.) দলচ্যুত হয়ে যায়? 

মুস্তালিখ

 

৫৭. বিবি আয়েশাকে খুঁজে পায় কে? 

এক নওজোয়ান সিপাই

 

৫৮. কারা হযরতের বিবি নামে কুৎসা রটাতে লাগল? 

হযরতের পেয়ারা

 

৫৯. মজিদ হাসুর বাপকে, কত পয়সার সিন্নি দিতে বলেছে মাজারে? 

পাঁচ পয়সার

 

৬০. ঝুঁটিওয়ালা মুরগিটার রং কেমন? 

লাল

 

৬১. মতিগঞ্জের সড়ক ধরে তিন ক্রোশ দূরে গঞ্জে গিয়েও তালাশ করা হয় কাকে? 

বুড়োকে

 

৬২. মজিদ কর্তৃক হাসুনির মাকে দেয়া শাড়িটির রং কেমন? 

বেগুনি রং, কালো পাড়

 

৬৩. শুকতারা জ্বলমল করছে কোথায়? 

পশ্চিম আকাশে

 

৬৪. ইউনিয়ন বোর্ডের প্রেসিডেন্ট কে? 

মতলুব খ

 

৬৫. আওয়ালপুর পীরের প্রধান মুরিদ কে? 

মতলুব খ

 

৬৬. “সোহবতে সোয়ালে তুরা সোয়ালে কুনাদ” অর্থ কী? 

সুসঙ্গ মানুষকে ভালো করে

 

৬৭. গোস্তায় কে? 

কালু মিয়া

 

৬৮. খালেক ব্যাপারীর প্রথম পক্ষের বিবি কে? 

আমেনা

 

৬৯. দ্বিতীয় পক্ষের বিবি কে? 

তানু বিবি

 

৭০. ভাং-গাজা খাওয়া রসকসশূন্য হাড়গিলে চেহারা কার? 

কম্পাউন্ডারের।

 

৭১. ব্যাপারীর ২য় পক্ষের বউয়ের ভাইয়ের নাম কী? 

ধলা মিয়া

 

৭২. ধলা মিয়া কেমন মানুষ? 

বোকা ধরনের

 

৭৩. মজিদের বিবি রহিমার কত প্যাঁচ? 

চৌদ্দ

 

৭৪. আমেনা বিবিকে মাজারের চারপাশে কতবার ঘুরতে হবে? 

সাতবার

 

৭৫. কার বাড়ির কাঁঠালগাছের তলে একটা মূর্তি নজরে পড়ে? 

মোল্লাশেখের

 

৭৬. আমেনা বিবি কী দিনে রোজা রাখে? 

শুক্রবারে

 

৭৭. “তোমার দাড়ি কই মিঞা।” উক্তিটি কে, কাকে করেছে? 

মজিদ, আক্কাসকে

 

৭৮. করিমগঞ্জের স্কুলে পড়াশোনা করেছে কে? 

আক্কাস

 

৭৯. কে বিদেশে বহুদিন ছিল? 

আক্কাস

 

৮০. আক্কাসের বাবার নাম কী? 

মোদাব্বের মিঞা

 

৮১. মজিদ মহব্বতনগর গ্রামে বাস করে কত বছর ধরে? 

দশ, বারো বছর

 

৮২. মোটাতাজা পোলা কে? 

হাসুনি

 

৮৩. হাসুনির পুষ্যি রাখার সখ কার? 

রহিমার।

 

৮৪. উৎসব ছিল কোন পাড়ায়? 

ডোমপাড়ায়

 

৮৫. দীর্ঘ কত বছর রহিমা তার স্বামীকে অনেকবার রাগতে দেখেছে? 

১২ বছর।

 

৮৬. অবশেষে কীসের মুখে ছিপি দিয়ে মজিদ সরে যায়? 

আগ্নেয়গিরির

 

৮৭. শত্রুর আভাস পাওয়া হরিণের চোখের মত কার চোখ সতর্ক হয়ে ওঠে? 

জমিলার

 

৮৮. মজিদের কন্ঠে গানের মতো গুনগুনিয়ে ওঠে কী? 

পাঁচপদের ছুরা আল-ফালাখ

 

৮৯. জিকির করতে করতে জ্ঞান হারিয়েছিল কে? 

মজিদ

 

৯০. কাপড়ে ঢাকা মানুষকে কোরানের ভাষায় কী বলে? 

মোদাচ্ছের

 

৯১. জমিলা থরথর করে কাঁপে কেন? 

ক্রোধে

 

৯২. মজিদ জমিলাকে কোথায় বেধে রাখে? 

মাজারে

 

 

লালসালু উপন্যাসের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র ও তাদের বৈশিষ্ট্য

মজিদ

  • উপন্যাসের মূল চরিত্র।
  • শীর্ণদেহ।
  • মোদাচ্ছের পীরের মাজার প্রতিষ্ঠা করে মহব্বতনগর গ্রামে।
  • কুসংস্কার, শঠতা, প্রতারণা এবং অন্ধবিশ্বাসের প্রতীক।
  • মাতব্বর খালেক ব্যাপারীর সাথে স্বার্থের গাঁটছড়া বেঁধে তাহের কাদেরের বাবাকে পাগল বানিয়ে নিখোঁজ করে।
  • আক্কাস আলীর স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নষ্ট করে তাকে গ্রামছাড়া করে।
  • প্রথম স্ত্রী রহিমা।
  • দ্বিতীয় স্ত্রী জমিলা।
  • সে নিঃসঙ্গ ভণ্ড, ধর্মব্যবসায়ী, স্বার্থপর ও শোষক প্রকৃতির।

 

 

রহিমা 

  • মহব্বতনগর গ্রামের মেয়ে।
  • মজিদের প্রথম স্ত্রী।
  • স্বামীর একান্ত অনুগত এবং স্বামীর গৌরবে গর্বিত।
  • লম্বা ও চওড়া শারীরিক শক্তি সম্পন্ন।
  • লেখকের মতে, “রহিমা ঠান্ডা, ভীতু মানুষ।”
  • তার মন স্বামীর তুলনায় বিপরীতমুখী।
  • খোদাকে ভয় পায়, মাজারকে ভয় পায়।

 

 

জমিলা 

  • মজিদের দ্বিতীয় স্ত্রী।
  • বয়সে নিতান্ত কিশোরী। গরিব ঘরের মেয়ে।
  • রহিমা তার কাছে মাতৃসম বড়বোন বলে বিবেচিত।
  • মজিদকে প্রথমে দেখে জমিলা তার ভাবী শ্বশুর মনে করে।
  • মজিদের মুখে থুথু দিয়েছিল।
  • মাজার, কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাসের বিপরীত।
  • সন্ধ্যা না হতেই ঘুমানোর অভ্যাস তার।
  • জায়নামাযে সিজদারত অবস্থায় ঘুমিয়ে পড়ে।

 

মাতব্বর খালেক ব্যাপারী

  • গ্রামের প্রভাবশালী ব্যক্তি।
  • শঠতা, প্রতারণার মাধ্যমে গ্রামের মানুষকে শোষণ করে।
  • মজিদকে সাথে নিয়ে বিভিন্ন অন্যায় কাজ করে।
  • তাহের ও কাদেরের বাবাকে বিচারের মাধ্যমে পাগল বানিয়ে নিরুদ্দেশ করে।
  • মজিদের পরামর্শে প্রথম স্ত্রী আমেনাকে তালাক দেয়।

 

 

আরো পড়ুন