চর্যাপদের সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর
বিসিএস, চাকরি পরীক্ষা, এডমিশনসহ সকল প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য চর্যাপদের গুরুত্বপূর্ণ সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর তুলে ধরা হল।

১. প্রাচীন যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন কি?
উত্তরঃ চর্যাপদ
২. চর্যাপদের কবিদের কি বলা হত?
উত্তরঃ বৌদ্ধ সাধক
৩. চর্যাপদ মূলত কি?
উত্তরঃ বৌদ্ধ সহজিয়াদের সাধন সংগীত।
৪. সহজিয়া মূলত কি?
উত্তরঃ একটি বিশেষ ধর্ম সম্প্রদায়। যারা সহজপথে সাধনা করে।
৫. চর্যাপদ মূলত কিসের সংকলন?
উত্তরঃ কতগুলো গান বা কবিতার সংকলন
৬. প্রাচীন যুগের সাহিত্যের বৈশিষ্ট্য কি?
উত্তরঃ ধর্মনির্ভরতা ও গোষ্ঠীকেন্দ্রিকতা
৭. প্রাচীন যুগের অলিখিত নিদর্শন কি?
উত্তরঃ ছড়া, প্রবাদ বা রূপকথা
৮. বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের সবচেয়ে পুরনো ও একমাত্র লিখিত নিদর্শন কি?
উত্তরঃ চর্যাপদ।
৯. হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর উপাধি কি?
উত্তরঃ মহামহোপাধ্যায়
১০. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কতবার পুঁথির খোঁজে নেপালে যান?
উত্তরঃ দুই বার। (১৮৯৭ সালে এবং ১৮৯৮ সালে)
১১. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী মোট কতবার নেপালে যান?
উত্তরঃ তিনবার। পুঁথির খোঁজে দুইবার এবং তৃতীয়বার নেপালে যান ১৯০৭ সালে
১২. তৃতীয় বার তিনি নেপালে গিয়ে কিছু পুঁথির সন্ধান পান সেগুলো কি কি
উত্তরঃ চর্যাচর্যবিনিশ্চয়, সরহপাদের দোহা, কৃষ্ণপাদের দোহা, ডাকার্নবপুঁথি।
১৩. চর্যাচর্যবিনিশ্চয় কোন ভাষায় লেখা ছিল?
উত্তরঃ বাংলা
১৪. সরহপাদের দোহা, কৃষ্ণপাদের দোহা, ডাকার্ণব পুঁথি কোন ভাষায় লেখা ছিল?
উত্তরঃ অপভ্রংশ।
১৫. দোহা কি?
উত্তরঃ দুই চরণ বিশিষ্ট পদ
১৬. নেপাল রাজ দরবারে পুথি শালার ক্যাটালগে চর্যাপদের কি নাম ছিল?
উত্তরঃ চর্য্যচর্য্যটিকা
১৭. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী মতে চর্যাপদের আসল নাম কি ছিল?
উত্তরঃ চর্য্যাচর্য্যবিনিশ্চয়
১৮. নেপালের প্রাপ্ত পুঁথিতে চর্যাপদের নাম কি ছিল?
উত্তরঃ চর্য্যাচর্য্যবিনিশ্চয়
১৯. চর্যাপদের তিব্বতি অনুবাদের নাম কি?
উত্তরঃ চর্যাগীতিকোষবৃত্তি
২০. চর্যাপদের সংস্কৃত টিকার নাম কি?
উত্তরঃ চর্যাচর্যবিনিশ্চয়।
২১. হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মতে চর্যাপদের ভাষা কি?
উত্তরঃ সান্ধ্যভাষা বা সন্ধ্যাভাষা
২২. সান্ধ্যভাষার মানে কি?
উত্তরঃ সান্ধ্য ভাষার মানে আলো-আঁধারি ভাষা। এ ভাষা কতক আলো, কতক অন্ধকার, খানিক বোঝা যায়, খানিক বুঝা যায় না।
২৩. সান্ধ্য ভাষার কয়টি অর্থ থাকে?
উত্তরঃ দুইটি। একটি সাধারণ অর্থ একটি নিগুঢ় অর্থ।
২৪. ডঃ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে চর্যাপদের ভাষা কি?
উত্তরঃ বঙ্গকামরূপী
২৫. চর্যাপদ আবিষ্কার হয় কত সালে?
উত্তরঃ ১৯০৭ সালে
২৬. চর্যাপদের রচনা কাল কত সাল?
উত্তরঃ ৬৫০ থেকে ১২০০ সাল
২৭. ডক্টর সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় এর মত অনুযায়ী চর্যাপদের রচনাকাল কত সাল?
উত্তরঃ দশম থেকে দ্বাদশ শতাব্দী(৯৫০ থেকে ১২০০ খ্রিষ্টাব্দ)
২৮. ডঃ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মত অনুযায়ী চর্যাপদের রচনাকাল কত?
উত্তরঃ সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতাব্দী( ৬৫০-১২০০ খ্রি)
২৯. প্রাপ্ত পুঁথিটিতে কতটি পূর্ণাঙ্গ কতটি চর্যার পদ পাওয়া গেছে?
উত্তরঃ ৪৬ টি
৩০. প্রাপ্ত পুঁথিটিতে কতটি মোট কতটি বাংলা ভাষার পদ পাওয়া গেছে?
উত্তরঃ সাড়ে ৪৬ টি।
৩১. মুনিদত্ত কত নং পদের ব্যাখ্যা করেননি?
উত্তরঃ ১১ নং পদ
৩২. চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় কে অনুবাদ করেন?
উত্তরঃ কীর্তিচন্দ্র
৩৩. ডক্টর সুকুমার সেনের মতে চর্যাপদের কবিতা কতটি?
উত্তরঃ ৫১ টি।
৩৪. সুকুমার সেনের মতে চর্যাপদের কবি কতজন?
উত্তরঃ ২৪ জন
৩৫. ২৩ নং পদের শেষের অংশ এবং না পাওয়া তিনটি পদ তিব্বতি অনুবাদ থেকে কে সংগ্রহ করেছিলেন?
উত্তরঃ ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী
৩৬. চর্যাপদে ২৪ জন কবির মধ্যে কার পদ পাওয়া যায়নি?
উত্তরঃ লাড়ীডোম্বাপা
৩৭. চর্যাপদের ধর্মমত সম্পর্কে প্রথম আলোচনা করেন কে?
উত্তরঃ ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
৩৮. শহীদুল্লাহর চর্যাপদ সম্পর্কিত গ্রন্থের নাম কি?
উত্তরঃ Buddhist Mystic song
৩৯. Buddhist mistake song গ্রন্থটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
উত্তরঃ ১৯৬০ সালে
৪০. হাজার বছরের পুরান বাংলা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
উত্তরঃ হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
৪১. The origin and development of Bengali language গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
উত্তরঃ ড. সুনিতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
৪২. Buddhist Mystic song গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
উত্তরঃ ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
৪৩. চর্যাগীতিকা গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
উত্তরঃ আনোয়ার পাশা ও আব্দুল হাই
৪৪. নতুন চর্যাপদ গ্রন্থটির রচয়িতা কে
উত্তরঃ সৈয়দ মুহাম্মদ শাহেদ
৪৫. চর্যাপদের সবচেয়ে বেশি পদ রচনা করেছেন কোন কে ?
উত্তরঃ কাহ্নপা
৪৬. কাহ্নপার আর কি নামে পরিচিত ছিলেন?
উত্তরঃ কানুপা, কৃষ্ণপাদ নামে পরিচিত ছিলেন।
৪৭. চর্যাপদের শ্রেষ্ঠ কবি কে?
উত্তরঃ কাহ্নপা, তিনি সবচেয়ে বেশি পদ রচনা করায় তাকে চর্যাপদের শ্রেষ্ঠ কবি বলা হয়।
৪৮. চর্যাপদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কবিতা রচনা করেন কে?
উত্তরঃ ভসুকুপা।
৪৯. ভুসকুপার আসল নাম কি?
উত্তরঃ শান্তিদেব। পিতৃপ্রদত্ত নাম শান্তিবর্মা।
৫০. চর্যাপদে ভূসপুপার রচিত পদের সংখ্যা কতটি?
উত্তরঃ ৮ টি
৫১. কাহ্নপার পদের সংখ্যা কতটি?
উত্তরঃ ১৩ টি
৫২. চর্যাপদে বাঙালি কবি বলে নিজেকে পরিচয় দিয়েছেন কে?
উত্তরঃ লুইপা, শবরপা, কুক্কুরীপা, বিরুবাপা, জয়ন্দীপা, ভুসুকুপা।
৫৩. চর্যাপদের সর্বোচ্চ কবিতা রচনা করেছেন কে?
উত্তরঃ সরহপা
৫৪. সরহপার চর্যাপদে কতটি পদ রচনা করেছেন।
উত্তরঃ ৪টি
৫৫. চর্যাপদের আদি কবি বা প্রাচীন কবি কে?
উত্তরঃ লুইপা
৫৬. ডঃ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে প্রাচীন কবি কে?
উত্তরঃ শবরপা
৫৭. চর্যাপদের চতুর্থ ও সর্বোচ্চ কবিতার রচনা করেন কোন কবি?
উত্তরঃ কুক্কুরীপা
৫৮. কুক্কুরীপার রচিত পদের সংখ্যা কতটি?
উত্তরঃ ৩ টি
৫৯. চর্যাপদে একমাত্র মহিলা কবি কে?
উত্তরঃ কুক্কুরীপা।
৬০. দুইটি করে চর্যাপদের পদ লিখেছেন কোন কোন কবি?
উত্তরঃ তিনজন কবি: লুইপা, শবরপা, শান্তিপা
৬১. চর্যাপদে কোন কোন পদগুলো পাওয়া যায়নি?
উত্তরঃ ২৩, ২৪, ২৫, ৪৮ নং পদ।
৬২. “আপনা মাংসে হরিণা বৈরী” কত নম্বর পদ?
উত্তরঃ ৬ নং পদ।
৬৩. “আপনা মাংসে হরিণা বৈরী” পদটির রচয়িতা কে?
উত্তরঃ ভূসুকুপা
৬৪. ‘হাতের কাঙ্কন মা লৌউ দাপন’ কত নং পদ
উত্তরঃ ৩২ নং
৬৫. ‘হাতের কাঙ্কন মা লৌউ দাপন’ পথটির রচয়িতা কে?
উত্তরঃ সরহপা
৬৬. “হাড়িত ভাত নাহি নিতি আবেশী” কত নাম্বার পদ এবং রচয়িতা কে?
উত্তরঃ ৩৩ নং, ঢেগুনপা
৬৭. চর্যাপদ ইংরেজি ভাষায় অনুবাদ করেন কে?
উত্তরঃ হাসনা মওদুদ।
৬৮. চর্যাপদের ইংরেজি অনুবাদ গ্রন্থের নাম কি?
উত্তরঃ মিস্ট্রিক পোয়েট্রি অফ বাংলাদেশ।
৬৯. চর্যাপদে সমাজের কোন শ্রেণীর কথা বলা হয়েছে?
উত্তরঃ নিচুশ্রেণীর মানুষের কথা।
৭০. চর্যাপদে সর্বমোট কতটি পদ পাওয়া গেছে?
উত্তরঃ সাড়ে ৪৬ টি।
আরো পড়ুন
- চর্যাপদ কী, এ বিস্তারিত ইতিহাস
- বাংলা সাহিত্যের যুগ বিভাগ
- বাংলা সাহিত্যে অন্ধকার যুগ: ইতিহাস, কারণ ও বৈশিষ্ট্য
- সাময়িক পত্র: বাংলা গদ্যের বিকাশে সাময়িক পত্র-পত্রিকার অবদান
- বাংলা গদ্যের উদ্ভব ও বিকাশ: ইতিহাস, বৈশিষ্ট্য ও ক্রমবিকাশ
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের বিষয়বস্তু, রচয়িতা কে, খন্ড বিশ্লেষণ
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ: বৈশিষ্ট্য, ইতিহাস, গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যকর্ম






