Skip to main content

Study Journalx

৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ঢাকার পরিস্থিতি নিয়ে আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রেইনকোট গল্পটি লেখেন। নুরুল হুদার জবনীতে এই গল্পটি রচিত হয়েছে এতে ঢাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বর নির্যাতন একটি চিত্র পাওয়া যায়। হুদা ছিলেন একজন ভীতু মানুষ, তার শালা ছিল মুক্তিযোদ্ধা। এখানে রেইনকোটটাকে প্রতিকি অর্থে দেখানো হয়েছে সে একজন ভীতু লোক কিন্তু, যখন রেইনকোট পরে তখন তার মধ্যে এক ধরনের আত্মবিশ্বাস ও শক্তি দেখা যায়। তার মধ্যে সাহস ও দেশপ্রেমের সঞ্চার হয়। মিলিটারি তাকে ধরে নিয়ে অমানবিক নির্যাতন করে। এই আটিকেলে রেইনকোট গল্পের মূলভাব ও জ্ঞানমূলক প্রশ্ন-উত্তর নিয়ে আলোচনা করা হল।

 

রেইনকোট গল্প

রেইনকোট গল্পরে লেখক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস

আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের লেখনীতে দেশপ্রেম, মুক্তিযুদ্ধ, শোষণ বঞ্চনা ইত্যাদি বিষয় ফুটে উঠেছে। বাংলাদেশের একজন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কথা সাহিত্যিক তিনি। তাঁর জন্ম হয় ১৯৪৩ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধা জেলায়। তার পিতার নাম বি.এম ইলিয়াস ও মায়ের নাম মরিয়ম ইলিয়াস। তিনি একজন মেধাবী ছাত্র ছিলেন। বাংলাদেশের রাজনীতি, মুক্তিযুদ্ধ, দেশপ্রেম, অর্থনীতি ইত্যাদি বিষয় নিয়ে লেখালেখি করেছেন। তার গল্পে মানুষের মনোজগতিক সূক্ষ্ম বিষয়গুলো উঠে এসেছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অসংখ্য গল্প লিখেছেন। ২৮ টি গল্প নিয়ে পাঁচটি গল্পগ্রন্থ লিখেছেন।

১. অন্য ঘরে অন্য স্বর

২. খোঁয়ারি

৩. দুধভাতে উৎপাত

৪. দোজখের ওম

৫. জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল

এছাড়াও তিনি দুইটি উপন্যাস লিখেছেন

১.চিলেকোঠার সেপাই

২. খোয়াবনামা

তার চিলেকোঠার সেপাই উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে লেখা। তিনি বাংলা কথা সাহিত্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন। তার গল্পের বিষয় বৈচিত্র্য ও আঙ্গিক বিচারে বাংলা কথা সাহিত্যে  তার মতো প্রতিভা বিরল। তিনি ১৯৯৭ সালের ৪ঠা জানুয়ারি ঢাকায় ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

রেইনকোট গল্পের মূলভাব

রেইনকোট গল্পের মূল চরিত্র নূরুল হুদা। সে ঢাকা কলেজের রসায়ন বিভাগের প্রভাষক ছিল। নূরুল হুদার জবানিতে রেইনকোট গল্পটি রচিত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকা চিত্র নিয়ে এই গল্পটি রচিত। পাকিস্তানি বাহিনীর নির্মম অন্যায়-অত্যাচার এই গল্পে দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। তারা সবকিছুর ভেঙে-চুরে তছনছ করে দিচ্ছে। যাকে পাচ্ছে তাকে ধরছে। গণহত্যা, ধর্ষণ, মানুষের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া, কোনো কিছু বাদ রাখেনি তারা। ট্যাংক নিয়ে শহর ধ্বংস করে দিচ্ছে। গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে জনশূন্য করে দিয়েছে। এমনকি মসজিদের মুয়াজ্জিনকেও তারা ছাড়েনি। তাদের এই অত্যাচারের চিত্র এই গল্পে দৃশ্যমান হয়ে উঠছে।

রেইনকোট গল্পটি নুরুল হুদার জবানিতে বর্ণিত হয়েছে। নুরুল হুদা একজন ভীতু মানুষ ছিল। পাকবাহিনীর ভয়ে সে চারবার বাসা পরিবর্তন করেছে। ভয়ে থাকে যে কখন মিলিটারি তার বাড়িতে চলে আসে। রাস্তায় বের হলে চার কালেমা ঠোঁটে রাখে। কিন্তু সে একজন দেশপ্রেমিক মানুষ। নিয়মিত মুক্তিযুদ্ধের খোঁজখবর রাখে। তার শালা মুক্তিযোদ্ধা বলে সে সবসময় ভয়ে থাকে কখন মিলিটারি তাকে ধরতে আসে। সে ঢাকা কলেজে চাকরি করে। যুদ্ধের কারণে সব টিচার গা ঢাকা দিয়েছে। তারপরও নুরুল হুদা প্রতিদিন কলেজে যায়।

কলেজের সামনে গেরিলা আক্রমণে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফর্মার ধ্বংস করে দিয়েছে মুক্তিযোদ্ধারা। এ জন্য সকালে তাকে তলব করে পাকিস্তানি বাহিনী। পিয়ন এসে তাকে খবর দিয়ে যায়। সকালে অনেক বৃষ্টি ছিল বলে সে তার শালার রেইনকোট পরে কলেজে যায়। রেইনকোটটা ছিল তার শালা মিন্টুর। এটি একজন মুক্তিযোদ্ধার রেইনকোট। এটি পরে যাওয়ার সময় রাস্তাঘাট এবং বাসে চোর-ডাকাতরা তার ভয়ে বাস থেকে পালিয়ে যায়। মিলিটারি তাকে মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগী সন্দেহে ধরে নিয়ে যায় এবং তার ওপর নির্মম নির্যাতন চালায়।

তারা সন্দেহ করে যে নুরুল হুদার সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের যোগাযোগ রয়েছে। কিছুদিন আগে কলেজের দশটি আলমারি কেনা হয়েছিল। এই আলমারিগুলো ঠেলাগাড়িতে করে কয়েকজন কুলি নিয়ে এসেছিল। তাদের সন্দেহ যে মুক্তিযোদ্ধারা কুলির ছদ্মবেশ ধরে কলেজে এসে নুরুল হুদার সাথে যোগাযোগ করেছে। তাই  নুরুল হুদাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। তার ওপর অমানবিক নির্যাতন করা হয়। তাকে উল্টো করে ছাদের সাথে ঝুলিয়ে পেটানো হয়।

রেইনকোট পরার কারণে সে নিজের মধ্যে সাহস, শক্তি ও দেশপ্রেম অনুভব করে। রেইনকোটকে এখানে প্রতীকী অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে। লেখক বোঝাতে চেয়েছেন, রেইনকোট যেমন তাকে বৃষ্টি থেকে ভেজার হাত থেকে রক্ষা করেছিল, তেমনি তার চামড়ার ওপর যখন একটা আঘাত পড়ছে, তখন এই চামড়া তাকে রেইনকোটের মতো রক্ষা করেছিল। লেখক চামড়াকে রেইনকোটের সাথে তুলনা করেছেন। কারণ তার কাছে প্রতিটা আঘাত ‘স্রেফ উৎপাত’-এর মতো মনে হচ্ছে।

নুরুল হুদার মধ্যে দেশপ্রেম জাগ্রত হয়েছে। সে কোনো অপরাধ না করেও অত্যাচারিত হচ্ছে। ফলে সে বুঝতে পারে তার শালা কেন মুক্তিযুদ্ধে গেছে। ফলে দেশ ও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি তার ভালোবাসা আরও বেড়ে যায়। এই গল্পে আমরা পাকিস্তানি বাহিনীর নির্মম অত্যাচারের চিত্র দেখতে পাই। যেখানে গণহারে মানুষকে নির্যাতন করা হচ্ছে। এমনকি মসজিদের মুয়াজ্জিনকেও তারা ছাড়েনি। নুরুল হুদা আগে যে বাসায় থাকত, সেখানে মুক্তিযোদ্ধারা এক রাতে গণহত্যা চালিয়েছিল। সেই গণহত্যায় মসজিদের মুয়াজ্জিনসহ অগণিত মানুষকে হত্যা করেছিল। তারা দেশের সবগুলো শহীদ মিনারকে ভেঙে দিয়েছিল। রাজাকাররা গ্রামে গ্রামে ঘুরে সুন্দরী মেয়েদের ধরে নিয়ে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে তুলে দিত। এছাড়াও তাদের সমস্ত অর্থ-সম্পদ লুট করে নিয়ে আসত। এভাবে পাকিস্তানি বাহিনীর নির্মম অত্যাচারের চিত্র রেইনকোট গল্পে বর্ণিত হয়েছে।

তাই এখানে রেইনকোটকে লেখক দেশপ্রেম ও সাহসের প্রতীকী অর্থে তুলে ধরেছেন। মুক্তিযোদ্ধার রেইনকোট পরার কারণে নূরুল হুদা নিজের মধ্যে দেশপ্রেম ও সাহস অনুভব করে। পাকিস্তানি বাহিনীর অত্যাচার তার কাছে ‘স্রেফ উৎপাত’-এর মতো লাগছে।

 

রেইনকোট গল্পের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন-উত্তর

 

১.রেইনকোট গল্পটি কত সালে প্রকাশিত হয়?

১৯৯৫ সাল

২. রেইনকোট গল্পটি কোন গল্প গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে?

জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল

৩. বাদলায় কি একটু জিরিয়ে নেবে?

বন্দুক বারুদ

৪.রাস্তায় বের হলে নূরুল হুদা কি রেডি রাখে?

পাঁচ কালিমা

৫. দরজার কপাট ফাঁক করতেই বাতাস আর বৃষ্টির সঙ্গে ঘরে কে ঢোকে?

প্রিন্সিপালের পিয়ন

৬. ইলেকট্রিক ট্রান্সফরমার কোথায়?

কলেজের সামনের দেয়াল ঘেঁষে

৭. মিলিটারি ক্যাম্প কোথায়?

কলেজের জিমনেসিয়ামে

৮. পিওন নাস্তার আমন্ত্রণ ফিরিয়ে দেয় কেন?

আব্দুস সাত্তার মৃধা র বাড়ি যেতে হবে তাই

৯. আব্দুস সাত্তার মৃধা কোন বিভাগের প্রফেসর?

জিওগ্রাফি

১০.পিয়ন কবে থেকে বাংলা বলা ছেড়েছে?

এপ্রিলের শুরু থেকে

১১. পাকিস্তানের জন্য কে দিনরাত দোয়া দরুদ পড়ছে?

প্রিন্সিপাল

১২. প্রিন্সিপাল কে?

ড. আফাজ আহমদ

১৩. পাকিস্তানের  শরীরের কাঁটা কি?

শহীদ মিনর

১৪. একটা কলেজেও আর কি অক্ষত নেই?

শহীদ মিনার

১৫. বৃষ্টি শুরু হওয়ার আগে কোন দিক থেকে গুলির আওয়াজ আসছিল?

মিরপুর ব্রিজের দিক থেকে

১৬. রেডিও  টেলিভিশনে হরদম কি বলছে

সিচুয়েশনে নরমাল

১৭. মিসক্রিয়েন্ট কারা?

মুক্তিযোদ্ধারা

১৮. প্রেসিডেন্টের দেশে কি ফিরিয়ে দিতে বদ্ধপরিকর?

গণতন্ত্র

১৯. কার জন্য নুরুল হুদাকে এক্সট্রা তটস্থ হয়ে থাকতে হয়?

শালা মিন্টুর জন্য

২০. মিন্টু কবে চলে গেছে?

জুনের ২৩ তারিখ

২১.নূরুল হুদা বাড়ি শিফট করছে কবে?

পহেলা জুলাই

২২. এই নিয়ে সেই কয়বার বাড়ি বদলালো?

চারবার

২৩.এদিকে নৌকা করে চলে আসে কারা?

স্টেনগানওয়ালা ছোকরার দল

২৪. ওয়েল্ডিং ওয়ার্কশপের মালিকের শশুরকে?

সরদার গোছের রাজাকার

২৫. নুরুল হুদার কয়টা ছেলে মেয়ে?

২ টি

২৬. মেয়ের বয়স কত?

আড়াই বছর

২৭. ছেলের বয়স কত?

পাঁচ বছর

২৮. ছোট মেয়ে ঘুম ভেঙে কি বলে?

আব্বু ছোট মামা হয়েছে

২৯. যুদ্ধের সময় বহু টিচার কি করেছে?

গা ঢাকা দিয়েছে

৩০. কে প্রতিদিন কলেজে যায়?

নুরুল হুদা

৩১. উর্দু প্রফেসর কে?

আকবর সাজিদ

৩২. রেইন কোটের ভিতরে কি?

সুন্দর ওম

৩৩. কে একটু বাচাল?

চায়ের দোকানের ছেলেটা

৩৪. মিরপুর বিল দিয়ে কি আসছে?

অস্ত্র বোঝাই দুই নৌকা

৩৫. কয়জন খান সেনা খতম করছে?

৫ জন

৩৬. বিবিসি কি বলছে

রংপুর দিনাজপুরের হাফের বেশি জায়গা স্বাধীন হয়েছে

৩৭. কি রঙের বাস আসছে?

লাল রঙের স্টেট বাস

৩৮. মিলিটারির গুলিতে ছাদ থেকে পড়ে গেছিল কে?

মসজিদের মুয়াজ্জিন

৩৯. নূরুল হুদা কোন নামাজটা নিয়মিত পড়ে?

জুম্মার নামাজ

৪০. সেই ভোরে তার কি শুনতে ইচ্ছা করছে?

আজান

৪১. প্রিন্সিপালের চেয়ারে কে বসে আছে?

একজন জাদরেল টাইপের মিলিটরি

৪২. নুরুল হুদা কোন বিষয়ের লেকচার?

কেমিস্ট্রি

৪৩. কাকে কাকে মিলিটারি জিপে তুললো?

নুরুল হুদা ও সত্তার মৃধা কে

৪৪. নুরুল হুদাকে কোন ভাষায় প্রশ্ন করছে?

ইংরেজি

৪৫. অফিসের জন্য মোট কয়টি আলমারি কেনা হয়েছিল?

দশটি

৪৬. মুক্তিযুদ্ধরা কলেজে ঢুকছিল কিসের বেশে?

কুলির বেশে

৪৭. মুক্তিযোদ্ধারা ধরা পড়ে কার নাম বলেছে?

নুরুল হুদার নাম

৪৮. কুলিরা বিড়বিড় করে কি বলছিল?

বর্ষাকালেই তো জুৎ

৪৯. নুরুল হুদা কেমন টাইপের লোক ছিল?

বেটে খাটো

৫০. নুরুল হুদা কে কিসের সাথে ঝুলানো হয়?

ছাদে লাগানো একটা আঙ্টার সাথে

৫১. আঘাতগুলো তার কাছে কি মনে হয়?

স্রেফ উৎপাত

৫২. তার শরীরে এখনো কি লেগে আছে?

রেইনকোটের ওম

আরো পড়ুন