বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ কবিতার ব্যাখ্যা ও মূলভাব বিশ্লেষণ

মাইকেল মধুসূদন দত্তের অমর কাব্য মেঘনাদবধ। মেঘনাদবধ কাব্যের ষষ্ঠ সর্গ থেকে বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ কবিতাটি নেওয়া হয়েছে। মেঘনাদবধ কাব্যটি রচিত হয়েছে রাম এবং রাবণের যুদ্ধকে কেন্দ্র করে। রামায়ণ অনুসরণ করে তিনি এই কাব্যটি রচনা করেছেন।মাইকেল মধুসূদন দত্ত আধুনিক লেখক ছিলেন। তার চিন্তা, চেতনা, মেধা, মননে ছিল আধুনিকতা। এজন্য মেঘনাদবধ কাব্যে রাম-লক্ষ্মণকে হীনরূপে এবং রাক্ষসরাজ রাবণ ও তার পুত্র মেঘনাদকে মানবিক ও দেশপ্রেমিক রূপে সৃষ্টি করেছেন। মেঘনাদবধ কাব্যের মূল বিষয়বস্তু হলো বিভীষণের বিশ্বাসঘাতকতা ও মেঘনাদের দেশ প্রেমিক সাহসী সত্তা। এই আর্টিকেলে বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ কবিতার ব্যাখ্যা ও মূলভাব বিশ্লেষণ করা হল।

বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ কবিতার ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্যে আধুনিক কবিতার অন্যতম পথিকৃৎ মাইকেল মধুসূদন দত্ত। তাঁর জন্ম ১৮২৪ সালের ২৫ শে জানুয়ারি যশোর জেলা সাগরদাড়ি গ্রামে। ১৮৪৩ সালে তিনি খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করেন এবং পিতৃপ্রদত্ত নামে শুরুতে মাইকেল যোগ করেন। ধর্মান্তরিত হওয়ার কারণে হিন্দু কলেজ পরিত্যাগ করে শিবপুর কলেজে ভর্তি হন। তিনি বহু ভাষায় সুপন্ডিত ছিলেন ইংরেজি, সংস্কৃতি, ফারসি, জার্মান এবং ইতালি ভাষা জানতেন । ছাত্রবস্তাতেই ইংরেজি ভাষা সাহিত্য চর্চা শুরু করেন। বিদেশি ভাষায় তার মোহ ছিল। পরবর্তীতে তার এই মোহ ভেঙ্গে গেলে তিনি বাংলা ভাষায় কবিতা রচনায় আত্মনিয়োগ করেন। তিনি পায়ার ছন্দ আবিষ্কার করেন।তার প্রবর্তিত ছন্দকে অমিত্রাক্ষর ছন্দ বলা হয়। এটিকে অক্ষরবৃত্ত ছন্দ বলা হয়।

তার আধুনিক নাটক ‘শর্মিষ্ঠা’, ‘পদ্মাবতী’ ও ‘কৃষ্ণকুমারী’ এবং প্রহসন ‘একেই কি বলে সভ্যতা?’ ও ‘বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ’ তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি। তাঁর কাব্যগ্রন্থগুলো হলো ‘তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য’, ‘মেঘনাদবধ-কাব্য’, ‘ব্রজাঙ্গনা কাব্য’, ‘বীরাঙ্গনা কাৰ্য্য’, ‘চতুৰ্দ্দশপদী কবিতাবলি’।  তিনি ১৮৭৩ খ্রিষ্টাব্দের ২৯এ জুন কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ কবিতার মূলভাব

মেঘনাদের ভাই কুম্ভকর্ণ এবং পুত্র বীরবাহু মারা যাওয়ার পরে স্বর্ণালঙ্কায় শোক নেমে আসে। তখন তার পিতা রাবণ পরবর্তী যুদ্ধে মেঘনাদকে সেনাপতি হিসেবে ঘোষণা করে। যুদ্ধে যাবার আগে মেঘনাদ নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে ইষ্টদেবতা অগ্নিদেবের পূজা করতে যায়। মায়া দেবীর অনুকূল্য এবং রাবণের ভাই বিভীষণের সহযোগিতায় লক্ষ্মণ শত শত প্রহরের চোখ ফাকি দিয়ে নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে প্রবেশ করে। লক্ষ্মণ তখন নিরস্ত্র মেঘনাদকে যুদ্ধে আসার জন্য আহ্বান জানায়। মেঘনাদ অবাক হয়ে যায় কিভাবে লক্ষণ শত শত প্রহরীর চোখ ফাঁকি দিয়ে যজ্ঞাগারে প্রবেশ করল।

মেঘনাদ বুঝতে পারে যে দেবতাদের মায়াবলে লক্ষণ যজ্ঞাগারে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছে। লক্ষ্মণ মেঘনাদকে যুদ্ধের জন্য আহব্বান করলে মেঘনাদ যুদ্ধসাজ গ্রহণের জন্য অনুরোধ করে। লক্ষ্মণ তাকে সময় না দিয়ে আক্রমণ করে। এসময় মেঘনাদের চোখ পড়ে যজ্ঞাগারের দরজার দিকে। তখন সে দেখতে পায় চাচা বিভীষণকে। তখন তার বুঝতে বাকি থাকে না যে তার চাচাই লক্ষ্মণকে যজ্ঞাগারের আসতে সাহায্য করেছে।তখন দেশপ্রেমিক মেঘনাদের যে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত হয়েছে সেটি বিভীষণের প্রতি মেঘনাদবধ কবিতা।

 

বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ কবিতার ব্যাখ্যা

মেঘনাদ তখন বলে এতক্ষণে বুঝতে পারলাম কিভাবে লক্ষণ যজ্ঞাগারের প্রবেশ করেছে। তখন তার চাচাকে বলে চাচা তুমি এ কাজ করতে পারলে। তুমি না রাক্ষস কুলের বীর। নিকষা সতী তোমার জননী, রাবণ তোমার ভাই। তুমি এ কাজ করতে পারলে। চোরকে তুমি নিজ ঘরে পথ দেখালে। তবু তুমি আমার গুরুজন আমি তোমাকে কিছু বলবো না। তুমি দরজা ছেড়ে দাও আমি অস্ত্রগারে যাব। এখনই লক্ষ্মণকে যমের দুয়ারে পাঠাবো। লঙ্কার কলঙ্ক আজকে দূর করবো।

তখন বিভীষণ বলে তোমারে এ চেষ্টা বৃথা। আমি যে রামের দাস। তাই আমি তার বিরুদ্ধে যেতে পারবো না। তখন এ কথা শুনে মেঘনাদ বলে আমার মরে যেতে ইচ্ছা করছে তোমার কথা শুনে। এ কথা তুমি কেমনে মুখে আনলে, তুমি যে আকাশের চাঁদ তুমি ধুলোয় কিভাবে গড়াগড়ি করলে। তোমার জন্ম যে মহাকূলে।

সিংহ হয়ে কি কেউ শেয়ালের সাথে বন্ধুত্ব করে। তুমি তো কারোর অজ্ঞ দাস নয় তুমি তো বিজ্ঞ। তুমি তো মহাজ্ঞানী তুমি, তো সবকিছু জানো। কিছুই তোমার অজানা নয়। লক্ষণ এক ক্ষুদ্র মানুষ সে কোন মহাবীর নয়। না হলে সে কি কখনো অস্ত্রহীনকে যুদ্ধে আহ্বান জানায়। এটা কি কোন মহাবীরের কাজ হতে পারে। একথা শুনলে লঙ্কার এমন কোন শিশু নেই যে হাসবে না। মেঘনাদ বিভীষণকে অনেক অনুরোধ করে  অস্ত্রাগার থেকে সে অস্ত্র নিয়ে এসে লক্ষণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে। বিভীষণকে অনেক ভাবে বোঝাতে থাকে কিন্তু বিভীষণ বলে যে তোমার বাবার কর্মফল কেন আমি ভোগ করব। সে তার কর্মফল ভোগ করবে। তাই বিভীষণ মেঘনাদকে অস্ত্র নিয়ে আসতে দেয়নি। এরই মাধ্যমে এই কবিতাটি শেষ হয়।

“এতক্ষণে”- অরিন্দম কহিলা বিষাদে-

এত সময় পরে মেঘনাদ দুঃখের সাথে বললো

 “জানিনু কেমনে আসি লক্ষ্মণ পশিল

জানি না কিভাবে লক্ষ্মণ প্রবেশ করলো

 রক্ষঃপুরে! হায়, তাত, উচিত কি তব

রাক্ষসপুরীতে, চাচা তোমার কি উচিত হয়েছে 

 এ কাজ, নিকষা সতী তোমার জননী, 

এ কাজ করা, নিকষা সতী তোমার মা, যে রাবনেরও মা

সহোদর রক্ষঃশ্রেষ্ঠ? শূলিশম্ভুনিভ

আপনার ভাই রাবণ রাক্ষসদের রাজা, শূলপাণি মহাদেবের মতো যার শক্তি 

 কুম্ভকর্ণ? ভ্রাতৃপুত্র/বাসববিজয়ী!

মধ্যম সহোদর কুম্ভকর্ণ, আর ভাইয়ের ছেলে অর্থাৎ মেঘনাদ নিজে যে ইন্দ্রদেবকে জয় করেছে।  

নিজগৃহপথ, তাত, দেখাও তস্করে? 

চাচা নিজের ঘরের পথ চোরকে দেখালে

চণ্ডালে বসাও আনি রাজার আলয়ে?

চন্ডালকে রাজার প্রাসাদে নিয়ে আসলেন

 কিন্তু নাহি গঞ্জি তোমা, গুরু জন তুমি

কিন্তু আমি তোমাকে তিরস্কার করবো না, তুমি গুরুজন 

 পিতৃতুল্য। ছাড় দ্বার, যাব অস্ত্রাগারে, 

পিতার সমান, দরজা ছাড়ো আমি অস্রাগারে যাব

পাঠাইব রামানুজে শমন-ভবনে, 

রামের অনুসারী লক্ষ্মণকে যমালয়ে পাঠাব

লঙ্কার কলঙ্ক আজি ভঞ্জিব আহবে।”

যুদ্ধ করে লঙ্কার কলঙ্কদূর করবো

উত্তরিলা বিভীষণ, “বৃথা এ সাধনা,

বিভীষণ উত্তর দিল তোমার এ সাধনা বৃথা

 ধীমান্! রাঘবদাস আমি; কী প্রকারে

বুদ্ধিমান, আমি রামের দাস, কি করে

 তাঁহার বিপক্ষ কাজ করিব, রক্ষিতে 

তার বিপক্ষে কাজ করব, রাখতে

অনুরোধ?” উত্তরিলা কাতরে রাবণি

অনুরোধ, মেঘনাদ কাতর হয়ে উত্তর দিল

 “হে পিতৃব্য, তব বাক্যে ইচ্ছি মরিবারে!

হে চাচা, তোমার কথা শুনে মরতে ইচ্ছে করছে

রাঘবের দাস তুমি? কেমনে ও মুখে

রামের দাস তুমি?  কিভাবে ও মুখে 

 আনিলে এ কথা, তাত, কহ তা দাসেরে! 

একথা আনলে, চাচা তুমি রামের দাস

স্থাপিলা বিধুরে বিধি স্থাণুর ললাটে; 

বিধাতা চাদকে আকাশে স্থির করে রেখেছেন 

পড়ি কি ভূতলে শশী যান গড়াগড়ি

সে কি কখনো ধূলায় গড়াগড়ি খায়

 ধূলায়? হে রক্ষোরথি, ভুলিলে কেমনে

হে রাক্ষস বীর ভুলে গেলে কেমন করে

 কে তুমি? জনম তব কোন মহাকুলে? 

কে তুমি, তোমার জন্ম যে মহাকুলে

কে বা সে অধম রাম? স্বচ্ছ সরোবরে

কে সেই নিচু রাম,  স্বচ্ছ জলে বা দীঘীর

 করে কেলি রাজহংস পঙ্কজ-কাননে;

পদ্মফুলে রাজহাস খেলা করে

 যায় কি সে কভু, প্রভু, পঙ্কিল সলিলে, 

সে কি কখনো নোংরা অপরিছন্ন 

শৈবালদলের ধাম? মৃগেন্দ্র কেশরী, 

শেওলা ভরা জলে যায়, পশুরাজ সিংহ 

কবে, হে বীরকেশরী, সম্ভাষে শৃগালে

কখনো কি শেয়ালের সাথে 

 মিত্রভাবে? অজ্ঞ দাস, বিজ্ঞতম তুমি,

বন্ধুত্ব করে,  তুমি বোকা না, তুমি তো বুদ্ধিমান 

অবিদিত নহে কিছু তোমার চরণে।

কোনো কিছু তোমার অজানা নয়

 ক্ষুদ্রমতি নর, শূর, লক্ষ্মণ; নহিলে

হীন মানুষ লক্ষ্মণ, নাহলে

 অস্ত্রহীন যোধে কি সে সম্বোধে সংগ্রামে?

অস্ত্রহীনকে যুদ্ধে আহ্বান জানায়

 নাহি শিশু লঙ্কাপুরে, শুনি না হাসিবে 

এমন কোনো শিশু নেই লঙ্কায় যে হাসবে না

এ কথা! ছাড়হ পথ; আসিব ফিরিয়া 

একথা শুনে, পথ ছাড় আমি ফিরে আসবো

এখনি! দেখিব আজি, কোন্ দেববলে,

এখনই দেখবো কোন দেবতার শক্তিতে

 বিমুখে সমরে মোরে সৌমিত্রি কুমতি!

লক্ষ্মণ কিভাবে আমার সাথে যুদ্ধ করে

 দেব-দৈত্য-নর-রণে, স্বচক্ষে দেখেছ,

তুমি নিজের চোখে দেখেছ আমি দেবতা, দৈত্য, মানুষ সবার সাথে যুদ্ধ করেছি,

 রক্ষঃশ্রেষ্ঠ, পরাক্রম দাসের! কী দেখি

চাচা তুমি রাক্ষদের শ্রেষ্ঠ, তুমি জানো আমার শক্তি সাহস, কি দেখে

ডরিবে এ দাস হেন দুর্বল মানবো 

ভয় পাবো এই দূর্বল মানুষকে

কহ, মহারথী, এ কি মহারথীপ্রথা?

তুমি বলো এটা কি মহাবীরের প্রথা

নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে প্রগলভে পশিল চক

নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে প্রবেশ করেছে লক্ষ্মণ 

দম্ভী; আজ্ঞা কর দাসে, শাস্তি নরাধমে।

দম্ভের সাথে,আমাকে আদেশ দাও, এই অধমকে শাস্তি দিতে

তব জন্মপুরে, তাত, পদার্পণ করে

তোমার জন্মভূমিতে কিভাবে পা রাখে একজন 

বনবাসী! হে বিধাতঃ, নন্দন-কাননে

বনবাসী পাপী,  বিধাতার কাছে শুনছে স্বর্গের বাগানে

 ভ্রমে দুরাচার দৈত্য? প্রফুল্ল কমলে

কখনো দৈত্য বা শয়তান ডুকতে পারে, পদ্মফুলে কি 

কীটবাস? কহ তাত, সহিব কেমনে

পোকা থাকতে পারে, বলো চাচা কিভাবে সহ্য করবো

 হেন অপমান আমি, – ভ্রতৃপুত্র তব? 

এমন অপমান তোমার ভাতিজা হয়ে

তুমিও, হে রক্ষোমণি, সহিছ কেমনে?”

তুমিও কিভাবে সহ্য করছো

মহামন্ত্র-বলে যথা নম্রশিরঃ ফণী,

মন্ত্রবলে যেভাবে সাপ মাথা নিচু করে থাকে

 মলিনবদন লাজে, উত্তরিলা রথী

বিভীষণ মুখ মলিন ও ভার করে উত্তর দিল

 রাবণ-অনুজ, লক্ষি রাবণ-আত্মজে;

বিভীষণ মেঘনাদকে লক্ষ্য করে বললো

 “নহি দোষী আমি, বৎস; বৃথা ভর্ৎস মোরে 

আমি দোষী নয় বৎস, আমাকে মিথ্যা তিরস্কার করছো

তুমি! নিজ কর্ম-দোষে, হায়, মজাইলা 

নিজের কর্মদোষে তুমি বিপদগ্রস্ত 

এ কনক-লঙ্কা রাজা, মজিলা আপনি! 

লঙ্কার বিপদের জন্য তুমিই দায়ী 

বিরত সতত পাপে দেবকুল; এবে

দেবতাদের সবসময় পাপ থেকে বিরত থাকা দরকার, এখন

 পাপপূর্ণ লঙ্কাপুরী; প্রলয়ে যেমতি

লঙ্কা পাপে পরিপূর্ণ, ঝড়ে যেমন 

 বসুধা, ডুবিছে লঙ্কা এ কালসলিলে!

পৃথিবী ডুবেছে, লঙ্কাও ডুবতে বসেছে কালের গর্ভে 

 রাঘবের পদাশ্রয়ে রক্ষার্থে আশ্রয়ী 

এজন্য রামের পায়ে আশ্রয় গ্রহণ করেছি

তেঁই আমি। পরদোষে কে চাহে মজিতে?”

আমি। পরের দোষে কে বিপদে পড়তে চায়

রুষিলা বাসবত্রাস। গম্ভীরে যেমতি

মেঘনাদ রাগান্বিত হয়ে বললো যেমন 

 নিশীথে অম্বরে মন্দ্রে জীমূতেন্দ্র কোপি,

অন্ধকার রাতে মেঘ গর্জন করে ওঠে

 কহিলা বীরেন্দ্র বলী,-“ধর্মপথগামী,

মেঘনাদ বললো, তুমি তো ধর্মানুসারী 

 হে রাক্ষসরাজানুজ, বিখ্যাত জগতে

রাক্ষস জগতে বিখ্যাত 

 তুমি; – কোন্ ধর্ম মতে, কহ দাসে, শুনি, 

তুমি, কোন ধর্মানুসারে  বলো 

জ্ঞাতিত্ব, ভ্রাতৃত্ব, জাতি,-এ সকলে দিলা

আত্মীয়তা, ভ্রাতৃত্ব ও জাতির বন্ধন

 জলাঞ্জলি? শাস্ত্রে বলে, গুণবান্ যদি 

শেষ করলে। শাস্ত্র বলে যতই গুনীজন 

পরজন, গুণহীন স্বজন, তথাপি 

পর হোক না কেন, আর স্বজন গুনহীন হোক, তারথেকে

নির্গুণ স্বজন শ্রেয়ঃ, পরঃ পরঃ সদা!

গুনহীন স্বজনই ভালো, পর সর্বদা পর

 এ শিক্ষা, হে রক্ষোবর, কোথায় শিখিলে? 

এ শিক্ষা হে চাচা কোথায় শিখলে

কিন্তু বৃথা গঞ্জি তোমা! হেন সহবাসে, 

শুধু শুধু তোমাকে তিরস্কার করি, নিচু মানুষের সাথে মিশলে

হে পিতৃব্য, বর্বরতা কেন না শিখিবে?

হে চাচা কেন বর্বরতা শিখবে না

 গতি যার নীচ সহ, নীচ সে দুর্মতি।”

যার লক্ষ্য অসৎ সে তো নিচের দিকে যাবে

এই কবিতাই মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসা এবং বিশ্বাসঘাতকতা ও দেশদ্রোহিতার বিরুদ্ধে ঘৃণা প্রকাশ হয়েছে। এই কবিতায় ভ্রাতৃত্ব ও জাতিসত্তার প্রতি ভালোবাসার কথা যেমন ব্যক্ত হয়েছে, তেমনি এর বিরুদ্ধে সকল ষড়যন্ত্রকে অভিহিত করা হয়েছে বর্বরতা বলে। এই কবিতায় রাক্ষস রাবণ ও মেঘনাদের দেশ প্রেমের মহিমা ব্যক্ত হয়েছে। বিভীষণের বিশ্বাসঘাতকতাকে মাইকেল মধুসূদন দত্ত দেশদ্রোহিতার সাথে তুলনা করেছেন। লঙ্কার যুদ্ধ নিয়ে রচিত এই কাব্যে রাক্ষস রাজ রাবণের মাননীয় গুণাবলী প্রকাশিত হয়েছে।

 

FAQ

১. বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ কবিতায় মেঘনাদ বিভীষণকে কীভাবে দেখেছেন?
উত্তর: মেঘনাদ বিভীষণকে স্বদেশ ও স্বজাতির প্রতি বিশ্বাসঘাতক হিসেবে দেখেছেন।
২. বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ কবিতার মূল বক্তব্য কী?
উত্তর: কবিতাটির মূল বক্তব্য হলো স্বদেশপ্রেম, আত্মমর্যাদা এবং স্বজাতির প্রতি আনুগত্যের গুরুত্ব।
৩. বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ কবিতার রচয়িতা কে?
উত্তর: কবিতাটির রচয়িতা বাংলা সাহিত্যের অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
৪. বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ কবিতায় মেঘনাদের চরিত্রের কোন দিক ফুটে উঠেছে?
উত্তর: কবিতায় মেঘনাদের বীরত্ব, আত্মমর্যাদাবোধ, স্বদেশপ্রেম ও ক্ষোভের দিকগুলো ফুটে উঠেছে।
৫. বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ কবিতায় বিভীষণের ভূমিকা কী?
উত্তর: বিভীষণ রাবণের ভাই হয়েও রামের পক্ষ অবলম্বন করেন, যা মেঘনাদের ক্ষোভ ও প্রতিবাদের প্রধান কারণ হয়ে ওঠে।

 

আরো পড়ুন

Oliur Rahman Sohag
Oliur Rahman Sohag

Md Oliur Rahman Sohag বাংলা সাহিত্য, বাংলা ব্যাকরণ, কবি-সাহিত্যিক জীবনী এবং শিক্ষামূলক বিষয় নিয়ে লেখালেখি করেন। তিনি Study Journal X-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান কনটেন্ট লেখক।

Articles: 120