মানসী কাব্যের বিষয়বস্তু, প্রেম ও প্রকৃতির স্বরূপ আলোচনা

বাংলা সাহিত্যে এক বিস্ময়কর নাম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। সাহিত্যের প্রতিটি শাখায় তিনি বিচরণ করেছেন। কবিতা উপন্যাস, নাটক, গান, ছোটগল্প, পত্রসাহিত্য, প্রবন্ধ এমন কোন শাখা নেই যে তার পদচারণা পড়েনি। তিনি বাংলা সাহিত্য ভান্ডার  সমৃদ্ধ করেছেন, বিশ্ব দরবারে বাংলা সাহিত্যের নাম উজ্জ্বল করেছেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিভার সবচেয়ে বেশি বিকাশ ঘটেছে কাব্যগ্রন্থে। তার কাব্যে কাব্য নিছক প্রেম বা  প্রকৃতি নিয়ে নয়, এতে চিত্রিত হয়েছে গভীর জীবন দর্শন। জীবনের অকৃত্রিম রূপকে তিনি কাব্যে তুলে ধরেছে। বাংলা সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথের তুলনা তিনি নিজেই। এই আর্টিকেলে মানসী কাব্যের বিষয়বস্তু, প্রেম ও প্রকৃতির স্বরূপ আলোচনা করা হল।

মানসী কাব্য

মানসী কাব্যের বিষয়বস্তু

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি অন্যতম বিখ্যাত কাব্য মানসী। মানসী কাব্যে রবীন্দ্র প্রতিভার পরিপূর্ণ বিকাশ বিকাশ ঘটেছে। এটিই রবীন্দ্রনাথের প্রথম শিল্পসফল কাব্য। মানসীতে এসে রবীন্দ্রনাথের কবি সত্তার সাথে শিল্পী সত্তার মিলন ঘটেছে। যেখানে রবীন্দ্রনাথ শুধু একজন কবি নয়, শিল্পীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে প্রেম আর প্রকৃতিকে এক সূতায় গেথেছেন। মানসীর পূর্বে তিনি রচনা করেছিলেন ‘কড়ি ও কোমল‘। যেখানে তিনি দেহাকেন্দ্রিক প্রেমের কথা বলেছেন। প্রেমের থেকে তিনি শরীরকে বড় করে দেখেছেন। কিন্তু মানসীতে এসে তার সেই ভুল ভেঙ্গে যায়। তিনি এক শিল্পীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন এই কাব্যে। তাই তো বুদ্ধদেব বসু ‘মানসী’ কে রবীন্দ্র কাব্যের ‘অনুবিশ্ব’ বলেছেন। মানসী ১২৯৭ সালে মোট ৬৫ টি কবিতা নিয়ে প্রকাশিত হয়।

মানসী কাব্যের মাধ্যমে বাংলা গীতিকবিতার এক নতুন রূপের যাত্রা শুরু হয়। মানসী কাব্যে কবি ও শিল্পীর সম্মেলন ঘটেছে। তাই এ কাব্যে ভাবের গভীরতা ও বৈচিত্র্য লক্ষ্য করা যায়। এই কাব্যের আঙ্গিকের ক্ষেত্রেও অভিনবত্ব দেখা যায়। মানসী কাব্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এক অভিনব প্রেমের স্বরূপ উন্মোচন করেছেন। যেখানে তিনি ইউরোপীয় রোমান্ট্যিক ভাবনার সাথে তার নিজস্ব রোমান্টিক চেতনার সম্মিলন ঘটিয়ে অশরীরী প্রেমকে ব্যক্ত করেছেন। আর এই মিশ্র রোমান্টিসিজম মানসীকে অভিনবত্ব দান করে। এই কাব্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রক্তমাংসে গড়া নারী নয়, এক বিদেহী সত্তার প্রতি গভীর আকর্ষণ অনুভব করেছেন। আর এটি ঘটেছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপর বিহারীলাল চক্রবর্তী এর প্রত্যক্ষ প্রভাবের কারণে।

মানসী কাব্যে শুধু প্রেম আর রোমান্টিসিজম নয় এখানে ফুটে উঠেছে বিরহ বিষাদের করুন সুর, না পাওয়ায় বেদনা, প্রকৃতি, সৌন্দর্যচেতনা, মনের অপূর্ণ বাসনা, না পাওয়ার আকুতি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মধ্যে দুইটি সত্তা কাজ করেছে একটি বিরহ মিলন পূর্ণ ভালবাসা আরেকটি সৌন্দর্যচেতনা। তার মধ্যে দোদুল্যমান অবস্থার কাজ করেছে। তিনি সেটা স্বীকার করেছেন

“এক একবার মনে হয় আমার মধ্যে দুটো বিপরীত শক্তির দ্বন্দ্ব চলছে। একটা আমাকে সর্বদা বিশ্রাম এবং পরিসমাপ্তির দিকে আহ্বান করছে, আর-একটা আমাকে কিছুতে বিশ্রাম করতে দিচ্ছে না। ভারতবর্ষীয় শান্ত প্রকৃতিকে ইউরোপের চাঞ্চল্য সর্বদা আঘাত করছে সেইজন্যে এক দিকে বেদনা আর একদিকে বৈরাগ্য।” (মানসী, পরিশিষ্ট ১৮৯৮)

বাংলা সাহিত্যের এক অভিনব সৃষ্টি মানসিক কাব্য। এই কাব্যের রবীন্দ্রনাথ দেহতাত্ত্বিক প্রেমের উর্ধ্বে উঠেই বিদেহী নারী সত্তার সান্নিধ্য কামনা করেছে। পূর্ববর্তী কাব্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দেহভিত্তিক প্রেম কেন্দ্র করে লিখেছেন যেখানে শরীর প্রধান কিন্তু মানসীতে এসে তিনি শরীরকে উপেক্ষা করে অশরীরী নারী সত্তার প্রেম কামনা করেছেন। তাই মানসী তার অভিনব সৃষ্টি।

মানসী কাব্যে রবীন্দ্রনাথ প্রেমের সকল রূপের স্বরূপ উন্মোচন করেছে। এ নিয়ে তার মনে বহু দ্বন্দ্ব সংঘাত কাজ করেছিল। তিনি সব দ্বন্দ্ব সংঘাত উপেক্ষা করে প্রেমের চর্চা করেছেন। তিনি প্রেমকে সর্বজনীন রূপে গ্রহন করেছেন। মানসী কাব্যে সর্বজনীন প্রেমের রূপ প্রকাশ পেয়েছে। এখানে শুধু প্রেমের কবিতা নয় রয়েছে দেশপ্রেম, প্রকৃতির নিষ্ঠুরতা ও নিয়তী নিয়ে লেখা কবিতা। তাবে এই কাব্যে রবীন্দ্রনাথের পরিণত প্রেমের স্বরূপ প্রকাশ পেয়েছে।

মানসী কাব্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এক অভিনব প্রেম দেখা যায়। যেখানে প্রেমিকার সাথে মিলন ঘটে আত্মার হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যেখানে দেহের কোন স্থান নেই। এখানে প্রেমের একটি সরল রূপ প্রকাশ হয়েছে। মানসী কাব্যের প্রেম বিষয়ক কবিতার মধ্যে রয়েছে অনন্ত প্রেম, নারীর উক্তি, ক্ষণিক মিলন, নিষ্ফল কামনা, ভুল ভাঙ্গা, সংশয়ের আবেগ, ভুলে, মেঘদূত, তবু ইত্যাদি। ‘অনন্ত প্রেম’ কবিতায় দেখা যায় যুগ যুগান্তরের প্রেমের স্বরূপ, যেখানে প্রেমিকার সাথে তার পরিচয় অনন্তকালের।

“তোমারে যেন ভালোবাসিয়াছি

শতরূপে শতবার।

জনমে জনমে যুগে যুগে অনিবার

চিরকাল ধরে মুগ্ধ হৃদয় ”

( অনন্ত প্রেম; মানসী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)

এখানে কবির প্রেমিকা সাথে কবির পরিচয় অনন্তকালের। সময়ের উর্ধে উঠে কবি  প্রেমিকাকে ভালোবেসেছেন। যেখানে দেহের কোন স্থান নেই, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের মিলন ঘটেছে আত্মার সাথে আত্মার মিলন। কবি শুধু একটি রূপেই ভালোবাসিনি শত রূপে তার প্রিয়তমাকে ভালোবেসেছে।

মানসীতে শুধু প্রেমের কবিতা নয় এখানে রয়েছে বিরহের করুন সুর, বিষাদের আর্তনাদ, না পাওয়ার হাহাকার। নারীর উক্তি, পুরুষের উক্তি, গুপ্ত প্রেম, ব্যক্ত প্রেম এসব কবিতায় তিনি বিরহ বিষাদের সুর মহাত্মক ব্যঞ্জনায় ফুটিয়ে তুলেছেন।

“মুখ ফিরাতেছ, সখা, আজ কি বলিয়া!

ভুল করে এসেছিলে ভুলে ভালোবেসেছিলে?

ভুল ভেঙ্গে গেছে, তাই যেতেছো চলিয়া? ”

(ব্যক্ত প্রেম; মানসী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)

এখানে প্রেমিক মনের গভীর অভিমান, বিরহ প্রকাশ পেয়েছে। কবির মানস প্রিয়ার জন্য বিরহ বিষাদব্যাকুল হয়ে পড়ছেন। এই কবিতায় বিরহের একটি সর্বজনীন রূপ প্রকাশ হয়েছে। কবি তার প্রিয়তমার প্রতি অভিমান প্রকাশ করেছে।

নিষ্ফল কামনা কবিতায় কবি কামনা বাসনার আবেগ থেকে মুক্ত হওয়ার প্রার্থনা করেছেন। তিনি এক অশরীরী প্রেমের সন্ধান করেছেন। যেখানে কোন ভোগ বাসনার মোহ থাকবে না, কোন লোভ লালসা থাকবে না, শুধু হৃদয়ে হৃদয়ের সাথে মিলন ঘটবে। যেখানে পার্থিব কোন আশা-আকাঙ্ক্ষা থাকবে না থাকবে শুধু আত্মার সাথে আত্মার মিলন।

“দুটি হাতে হাত দিয়ে ক্ষুধার্ত নয়নে

চেয়ে আছি আঁখি দুটি মাঝে।

খুজেতেছি কোথা তুমি, কোথা তুমি!

যে অমৃত লুকানো তোমায়

সে কোথায়!

(নিষ্ফল কামনা; মানসী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)

এই কবিতায় দেখ যায় প্রেমিকার প্রতি যখন মোহ ভেঙে যায় তখন আর আগের মতো ভালো লাগে না। তাই তিনি তার মধ্যে সেই পূর্বের রূপ খুঁজে পেতে চেয়েছিল। এখন তার প্রিয়তমাকে আর ভালো লাগে না। এজন্য কবি অশরীরী প্রেমের প্রতাশা করেছেন। এই কবিতায় কবি বাস্তবিক প্রেম থেকে সরে এসে কাল্পনিক প্রেমের কথা বলেছেন। যে প্রেম কোন রক্ত মাংসের নারীর সাথে নয়, বিহারীলাল চক্রবর্তী যেমন সারদামঙ্গল কাব্যে এক বিদেহী নারী সত্তার প্রেমে কামনা করেছিলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও মানসী কাব্যে সেই অশরীরী নারী সত্তার প্রেম পাওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়েছে। বিহারীলাল চক্রবর্তী যেমন সারদা দেবীর প্রেম কামনা করেছিলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও মানসীর প্রেম প্রত্যাশা করেছেন এই কাব্যে। তাই এখানে শুধু প্রেম নয় প্রেমের সাথে না পাওয়ার বেদনাও কাজ করেছে।

মানসী কাব্যে প্রকৃতির অসাধারণ রূপায়ণ ঘটেছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রকৃতি প্রেমের মধ্য দিয়ে ঈশ্বরের সান্নিধ্য কামনা করেছেন। প্রকৃতির মধ্যে ঈশ্বরকে খুঁজে পেয়েছেন। তিনি মনে করেছেন প্রকৃতির মধ্যে রয়েছে আত্মার মুক্তি এবং ঈশ্বরের সান্নিধ্য। মানসী কাব্যে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের রূপায়ণ ঘটেছে। একাল ও সেকাল, আকাঙ্ক্ষা, বর্ষার দিনে, প্রকৃতির প্রতি।

“বর্ষা এলায়েছে তার মেঘময় বেণী

 গাঢ় ছায়া সারাদিন,

মধ্যাহ্ন তপনহীন,

 দেখায় শ্যামলতর শ্যাম বনশ্রেণী”

(একাল ও সেকাল, মানসী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)

এই কবিতায় প্রকৃতির এক অপরূপ রূপ তুলে ধরেছেন। যেখানে বর্ষার সৌন্দর্য উঠে এসেছে। তীব্র দাবদাহের ফলে প্রকৃতি যখন রুক্ষ হয়ে যায় তখন বৃষ্টি শীতলতা ও প্রশান্তির পরশ নিয়ে ধারায় আসে। তখন প্রকৃতি সবুজ হয়ে ওঠে। নবপল্লবে প্রকৃতি সৌন্দর্য  বহুগুন বেড়ে যায়।

‘প্রকৃতির প্রতি’ কবিতায় উঠে এসেছে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য। যেখানে কবি সৌন্দর্যের মধ্যে ঈশ্বরের সান্নিধ্য খুজে পেয়েছেন। আত্মার মুক্তির জন্য করি প্রকৃতি মাঝেই ডুব দিয়েছেন। এই কবিতায় প্রকৃতি আর প্রেম এক হয়ে উঠেছে। আকাঙ্ক্ষা কবিতায়ও প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য ধরা দিয়েছে। প্রকৃতির অপরূপ সত্তার ছবি কবি শব্দ দিয়ে এঁকেছেন এই কবিতায়।

“!আর্দ্র তীব্র পূর্ববায়ু বহিতেছে বেগে,

ঢেকেছে উদয়পথ ঘননীল মেঘে।

দূরে গঙ্গা, নৌকা নাই, বালু উড়ে যায়-

বসে বসে ভাবিতেছি আজি কে কোথায়”

(আকাঙ্ক্ষা, মানসী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)

এই কবিতায় প্রকৃতির এক অপরূপ সৌন্দর্য দেখা দিয়েছে। বৃষ্টির আগে যখন ঝড়ো হাওয়া বয় তখন আকাশ ও নদীর গভীর সৌন্দর্য কবিতায় তুলে ধরেছে। কবির মধ্যে একাকিত্ব দেখা দিয়েছে, তিনি তার প্রিয়জনদের কথা ভাবছিলেন এখানে।

মানসী কাব্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য তুলে ধরেনি তিনি প্রকৃতির ভয়ংকর রূপও একই সাথে চিত্রিত করেছেন। প্রকৃতি সৌন্দর্যের মধ্যে আছে তার নিষ্ঠুর রূপ এই কাব্যের কিছু কবিতায় দেখা যায়। নিষ্ঠুর সৃষ্টি কবিতায়

“মনে হয় সৃষ্টি বুঝি বাধা নাই নিয়মনিগড়ে,

আনাগোনা মেলামেশা সবই অন্ধ দৈবের ঘটনা

এই ভাঙ্গে এই গড়ে,

এই ওঠে এই পড়ে,”

(নিষ্ঠুর সৃষ্টি; মানসী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)

‘নিষ্ঠুর সৃষ্টি’ কবিতায় দেখা গেছে প্রকৃতি সৌন্দর্যের পাশাপাশি প্রকৃতির ভয়ঙ্কর রূপ। প্রকৃতি যখন তার ভয়ংকর রূপ দেখায় তখন পৃথিবীর সব কিছু ধ্বংস করে দেয়।

সিন্ধুতরঙ্গ কবিতায়ও প্রকৃতির ভয়ঙ্কর রূপে পরিচয় পাওয়া যায়। যেখানে ঈশ্বরের ভয়ংকর সত্তা প্রকৃতির মাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে। ঈশ্বর যখন রাগান্বিত হয় তখন পৃথিবীতে প্রলয় নেমে আসে সেই রূপেরই প্রকাশ পেয়েছে এই কবিতায়।

“জড় দৈত্য শক্তি হানে, মিনতি নাহিকো মানে

প্রেম এসে কোলে টানে, দূর করে ভয়।

এ কি দুই দেবতার, দ্যুতখেলা অনিবার

ভাঙাগড়াময়?”

(সিন্ধুতরঙ্গ, মানসী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)

এই কবি প্রকৃতির ভয়ঙ্কর রূপ নিরপেক্ষভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। যেখানে একদিকে রয়েছে প্রকৃতির সুন্দরতম দিক, অন্যদিকে রয়েছে প্রকৃতির নিষ্ঠুরতা। যে প্রকৃতি আমাদের মুগ্ধ করে সেই প্রকৃতি ভয়ংকর হয়ে উঠলে সবকিছু ধ্বংস করে দেয়।

পরিশেষে বলা যায় বাংলা সাহিত্যের এক অনন্য কাব্য মানসী। মানসীতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রেম, বিরহ ও প্রকৃতি চেতনার সম্মিলন ঘটেছে। তিনি যে প্রেমের কথা বলেছেন সে প্রেম অনন্ত। এক অশরীরী মানসীর প্রেম কামনা করেছেন যেমনটি বিহারীলাল চক্রবর্তী সারদা দেবীর প্রেম প্রত্যাশা করেছিলেন। এই অশরীরী প্রেম পৃথিবীর সকল স্বার্থের উর্ধ্বে উঠে হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের মিলন ঘটে আত্মার সাথে আত্মার মিলন। এছাড়াও তিনি এই কাব্যে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের সাথে প্রকৃতির ভয়ংকর ও নিষ্ঠুর রূপ তুলে ধরেছেন।

 

FAQ

১. মানসী কাব্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন ধরনের কাব্যগ্রন্থ?
উত্তর: মানসী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাব্যগ্রন্থ, যেখানে তাঁর কল্পনা, জীবনবোধ ও কাব্যশৈলীর বিকাশ লক্ষ করা যায়।

২. মানসী কাব্যে কবির কোন ধরনের চিন্তাভাবনা প্রকাশ পেয়েছে?
উত্তর: মানসী কাব্যে প্রেম, প্রকৃতি, মানবজীবন, সমাজচেতনা ও গভীর দার্শনিক ভাবনার প্রকাশ ঘটেছে।

৩. বাংলা কাব্যসাহিত্যে মানসী কাব্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তর: এই কাব্যগ্রন্থে রবীন্দ্রনাথের কাব্যভাষা, ছন্দপ্রয়োগ ও ভাবপ্রকাশের নতুনত্ব বাংলা কবিতার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

৪. মানসী কাব্যে প্রকৃতির ভূমিকা কী?
উত্তর: মানসী কাব্যে প্রকৃতি কখনো অনুভূতির প্রকাশক, কখনো কল্পনার অনুষঙ্গ এবং কখনো মানবজীবনের উপলব্ধির মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

৫. মানসী কাব্য পাঠ করলে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যিক প্রতিভার কোন দিকটি বোঝা যায়?
উত্তর: মানসী কাব্য পাঠে রবীন্দ্রনাথের গভীর জীবনবোধ, কল্পনাশক্তি, ভাষার সৌন্দর্য ও ছন্দের দক্ষতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

 

আরো পড়ুন

Oliur Rahman Sohag
Oliur Rahman Sohag

Md Oliur Rahman Sohag বাংলা সাহিত্য, বাংলা ব্যাকরণ, কবি-সাহিত্যিক জীবনী এবং শিক্ষামূলক বিষয় নিয়ে লেখালেখি করেন। তিনি Study Journal X-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান কনটেন্ট লেখক।

Articles: 120